লামার মানবিক দুই চিকিৎসক: চিকিৎসা সেবা ও উদারতায় মুগ্ধ সাধারণ মানুষ
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পূর্বাহ্ন

লামার মানবিক দুই চিকিৎসক: চিকিৎসা সেবা ও উদারতায় মুগ্ধ সাধারণ মানুষ

লামার মানবিক দুই চিকিৎসক: চিকিৎসা সেবা ও উদারতায় মুগ্ধ সাধারণ মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

চিকিৎসাসেবাকে কেবল পেশা নয়, বরং ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে বান্দরবানের লামা উপজেলায় ব্যাপক সুনাম কুড়িয়েছেন লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. সোলেমান এবং চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. ফরহাদ হোসেন।

দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাসপাতালে নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা প্রদান ছাড়াও নিজের ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগীদের প্রতি তাদের সহমর্মিতা ও আন্তরিক আচরণ স্থানীয়দের মাঝে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

সম্প্রতি লামা বাজারে অবস্থিত ডা. সোলেমানের ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনের মতো দূরদূরান্ত থেকে আসা অসংখ্য রোগী ভিড় জমিয়েছেন। রোগীদের সঙ্গে তাঁর আন্তরিক কথাবার্তা, ধৈর্য ধরে শারীরিক সমস্যা শোনার মানসিকতা এবং অমায়িক ব্যবহার সবাইকে মুগ্ধ করে।

চেম্বারে চিকিৎসা নিতে আসা অসহায় ও দরিদ্র রোগীদের প্রতি তাঁর বিশেষ সহানুভূতি লক্ষ্য করা যায়। রোগীর আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে তিনি অনেক অসহায় মানুষের কাছ থেকে প্রেসক্রিপশন ফি বা ভিজিট নেন না। প্রেসক্রিপশনের এক কোণে নীরবে ছোট করে ‘ফ্রি’ (F) চিহ্ন লিখে দেন, যাতে তাঁর সহকারী কোনো টাকা না নেন। কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই নীরবে-নিভৃতে গরিব ও দুস্থ রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান সময়ে যেখানে চিকিৎসার চড়া খরচে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠে যায়, সেখানে একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও ব্যক্তিগত চেম্বারে এমন মানবিক আচরণ সত্যিই বিরল। তাঁর এমন আন্তরিকতা ও মানবিক পদক্ষেপে স্বস্তি পাচ্ছেন পাহাড়ি এই জনপদের বহু দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসেন শত শত মানুষ। বিশেষ করে হতদরিদ্র, অসহায় ও অসচ্ছল রোগীরা যখন চিকিৎসার খোঁজে আসেন, তখন এই দুই মানবিক চিকিৎসক অত্যন্ত ধৈর্য ও সহানুভূতির সঙ্গে তাঁদের শারীরিক সমস্যার কথা শোনেন। রোগীর সঠিক সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নিজ সাধ্যমতো সবটুকু দিয়ে সহযোগিতা করতে পিছপা হন না তাঁরা।

চিকিৎসা নিতে আসা এক ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দা তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, "তিনি শুধু একজন সরকারি চিকিৎসকই নন, বরং একজন প্রকৃত ভালো মনের মানুষ। অসহায় মানুষের বিপদে তাঁর পাশে দাঁড়ানো ও আন্তরিক ব্যবহার সেবাপ্রার্থীদের মধ্যে নতুন আশা জাগায়। লামাবাসীর চিকিৎসাসেবায় তাঁর এই ভূমিকা সত্যিই অনুকরণীয় ও শ্রদ্ধার যোগ্য।"

স্থানীয়দের মতে, বর্তমান সময়ে যখন স্বাস্থ্যসেবা পেতে মানুষকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়, সেখানে ডা. সোলেমান ও ডা. ফরহাদ হোসেনের মতো মানবতাবাদী চিকিৎসকদের উপস্থিতি লামা উপজেলার মানুষের জন্য বড় একটি আশার আলো।

স্থানীয় সর্বস্তরের মানুষ এই দুই মানবিক চিকিৎসকের দীর্ঘায়ু, সুস্থতা ও ভবিষ্যৎ সাফল্য কামনা করেছেন; যেন এভাবেই আমৃত্যু সাধারণ ও অসহায় মানুষের পাশে থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে যেতে পারেন তাঁরা।

তাঁদের মতো মানবিক চিকিৎসক প্রতিটি হাসপাতালেই তৈরি হোক—তবেই স্বাস্থ্যসেবার প্রকৃত সুফল পাবে দেশের সাধারণ মানুষ।




নাইক্ষ্যংছড়িতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা

নাইক্ষ্যংছড়িতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়িতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও চার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নাইক্ষ্যংছড়ি সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. আব্দুল হামিদের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা আমির মো. আবু নাছেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এস এম আব্দুচ সালাম আজাদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা জামায়াতের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক হামেদ হাসান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহসভাপতি রফিক বশরী, নাইক্ষ্যংছড়ি শ্রমজীবী বিভাগের সভাপতি রফিক আহম্মেদ, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর জামায়াতের আমির মাস্টার আব্দুল গফুর ও বাইশারী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন।

এ ছাড়া বান্দরবান জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি নুরুল আবছার এবং ছাত্রশিবিরের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সভাপতি নূর সাদেকসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে জেলা আমির এস এম আব্দুচ সালাম আজাদ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আব্দুল মান্নান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট কামরুল আমিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালমা আক্তারের নাম ঘোষণা করেন।

এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ঘুমধুম ইউনিয়নে মো. হামিদুল হক, দোছড়ি ইউনিয়নে নুরুল আজিজ, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে উপজেলা আমির মো. আবু নাছের এবং বাইশারী ইউনিয়নে মাওলানা রফিক বশরীর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে সোনাইছড়ি ইউনিয়নে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।

সমাবেশে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে এখন থেকেই সাংগঠনিকভাবে কাজ শুরু করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম আব্দুচ সালাম আজাদ বলেন, ইসলামের বিপরীতে যা কিছু রয়েছে, তা তাগুত। জামায়াতে ইসলামীর আকিদা কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফতোয়া ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলে থাকার সময়ের তুলনায় বর্তমানে দলটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও ফতোয়া বেশি দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হয়ে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজেদের আদর্শ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।




৩৪ বিজিবির কে-নাইন স্কোয়াডের সহায়তায় ৫২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২

৩৪ বিজিবির কে-নাইন স্কোয়াডের সহায়তায় ৫২ হাজার ইয়াবাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের ​মেরিন ড্রাইভের রেজুখাল চেকপোস্টে বিজিবি কে-নাইন স্কোয়াডের প্রশিক্ষিত কুকুরের সহায়তায় চালানো পৃথক দুটি অভিযানে ৫২ হাজার ইয়াবাসহ দুই পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।

​কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি মোটরসাইকেল রেজুখাল চেকপোস্টে থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। বিজিবির ‘জার্মান শেফার্ড’ ডগ ‘জন’ (বিজিডি-১০৮৩)-এর বিশেষ দক্ষতায় মোটরসাইকেলের এয়ার ক্লিনারের ভেতর লুকানো অবস্থায় ২৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় চালক মোঃ আয়াজকে (৩০) আটক করার পাশাপাশি ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়।

অন্যদিকে, ২৫ সেপ্টেম্বর সকালে একই চেকপোস্টে আরেকটি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে ব্যাটারির ভেতরে অভিনব কায়দায় রাখা আরও ২৬ হাজার পিস ইয়াবা সনাক্ত করে ডগ ‘জন’। এতে অটোরিকশাচালক মোঃ ফয়সালকে (২২) ইয়াবা, অটোরিকশা ও একটি স্মার্টফোনসহ আটক করা হয়।

​উদ্ধার করা ইয়াবা ও অন্যান্য মালামালসহ আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান।




বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত

বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমু-বিলছড়ি ইউনিয়ন শাখা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শহীদ আব্দুল হামিদ উচ্চ বিদ্যালয় হলরুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে হাফেজ মুহাম্মদ হাসান পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন। ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় এবং আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ আলী নোমানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চকরিয়া উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ করিম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক ও শূরা সদস্য মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা হেদায়েত উল্লাহ বলেন, "জামায়াতে ইসলামীর সকল কর্মীকে আল্লাহর জমিনে দ্বীন কায়েমের জন্য আরও বেশি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে ময়দানে কাজ করতে হবে, যাতে গ্রামের প্রত্যেক নাগরিকের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছানো সম্ভব হয়।" তিনি আরও বলেন, "বৈষম্যমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্যে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ময়দানে ত্যাগ ও কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহর জমিনে দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ করে যেতে হবে।"

সম্মেলন থেকে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে বমু-বিলছড়ি ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনসাধারণের সেবায় মো. সরওয়ার উদ্দীনকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সাথে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ৯ জন ইউপি সদস্য এবং ৩ জন সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামার ঘোষণা দেওয়া হয়।

পরিশেষে চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. সরওয়ার উদ্দীনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মী সম্মেলন শেষ হয়।