রিয়াদ-দাম্মামের ১০০ ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চিত ১৫ হাজার ৩৯৩ জনের যাত্রা
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন

রিয়াদ-দাম্মামের ১০০ ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চিত ১৫ হাজার ৩৯৩ জনের যাত্রা

রিয়াদ-দাম্মামের ১০০ ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চিত ১৫ হাজার ৩৯৩ জনের যাত্রা
ছবি সংগৃহীত।

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামের ১০০ টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)  জানায়, শনিবার (১০ অক্টোবর) থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪১টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৭টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এসব যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রানজিট নিয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। তবে স্ব স্ব দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করেনি তারা।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) হুথিদের হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হামলা হয় দাম্মামেও। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।




নিরাপদ অভিবাসনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিরাপদ অভিবাসনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ছবি সংগৃহীত।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা অনিশ্চিত থাকতে পারে না।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর পুরস্কার প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক কর্মী জমি বিক্রি করেন, ঋণ নেন এবং পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করেন। এরপরও তাদের অনেকে অর্থ প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, অনিশ্চিত চাকরি কিংবা চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়ার মতো সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিশনগুলোকে শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। প্রতিটি কর্মী বিদেশযাত্রার আগে যেন তার চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মপরিবেশ ও আইনি অধিকার সম্পর্কে যেন স্পষ্ট ধারণা পান, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্প। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই অর্থ শুধু লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে না, দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী কর্মীর শ্রম, ঘাম, ত্যাগ ও অবদান রয়েছে। তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠান না, বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেন। তাদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জাতীয় সম্পদ।

দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; দক্ষ কর্মী, উপযুক্ত কর্মসংস্থান ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কারিগরি জ্ঞান, ভাষা দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পেশাগত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নার্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্কদের পরিচর্যা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি এবং আধুনিক নির্মাণশিল্পে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে।

এই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কোন দেশে কোন পেশায় কত কর্মী প্রয়োজন এবং তাদের কী ধরনের যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা দরকার, সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের পরিকল্পনা করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বিদেশি নিয়োগকর্তা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথাও বলেন রাষ্ট্রপতি। প্রবাসীদের সঞ্চয় উৎপাদনশীল বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন, দক্ষতার স্বীকৃতি, ঋণসুবিধা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উন্নত জীবনের আশায় বহু মানুষ গ্রাম থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে আসছেন। এতে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হলেও নগর আবাসন, যানজট ও নাগরিক সেবার ওপর চাপ বাড়ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষ নিজ বসতি ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রশিল্প, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং নাগরিক সেবার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো, দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে সুদূরপ্রসারী, সমন্বিত ও ফলাফলভিত্তিক জাতীয় কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে ‘অভিবাসন দশক’ ঘোষণার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, বিরোধী দল এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

ভাষণে তিনি বিদেশে কর্মসংস্থান ও শ্রমশক্তি রপ্তানির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গঠনে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। ১৯৭৬ সালে তার প্রতিষ্ঠিত জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া, তিনি ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসী কার্ড চালু, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা এবং বিশেষ আদালত গঠনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আরএমএমআরইউ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, মানবিক ও টেকসই করতে ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্সের প্রতিটি ডলারের পেছনে রয়েছে একজন মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্ন। তাদের অধিকার রক্ষা, মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।




সীতাকুণ্ডে সরকারি পোর্টাল ক্লোন করে জমি জালিয়াতি জোড়া মামলা, প্রধান আসামি কারাগারে

সীতাকুণ্ডে সরকারি পোর্টাল ক্লোন করে জমি জালিয়াতি জোড়া মামলা, প্রধান আসামি কারাগারে
ছবি সংগৃহীত।

 

৫৭.৪৫ শতক পৈতৃক সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ | সরকারি কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জাল করে ওয়ারিশ সনদ তৈরির অভিযোগ | স্বামী দেলোয়ারসহ অজ্ঞাতনামা সাইবার চক্রের সদস্যরা ধরাছোঁয়ার বাইরে

 

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোন করে জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি, সরকারি কর্মকর্তাদের নাম, সিল ও স্বাক্ষর জাল এবং ৫৭.৪৫ শতক পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে পৃথক দুই আদালতের নির্দেশে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় দুটি নিয়মিত মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া মামলার প্রধান আসামি মোছা. হাছিনা বেগম প্রকাশ কালনীকে (৬৪) কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে মামলার অপর এজাহারনামীয় আসামি তাঁর স্বামী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন (৬৬) এবং নকল ওয়েবসাইট তৈরির সঙ্গে জড়িত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৭-এর বিচারক মো. সাখাওয়াত হোসেন গ্রেপ্তারকৃত হাছিনা বেগমকে কাস্টডি ওয়ারেন্টের (Custody Warrant) মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সীতাকুণ্ড মডেল থানার দুই তদন্ত কর্মকর্তার পৃথক তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।


মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, সীতাকুণ্ড পৌরসভার ০-৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ-পশ্চিম শিবপুর এলাকার বাসিন্দা মরহুম মো. খায়ের উল্লাহ মৃত্যুর আগে দুই কন্যা, জ্যেষ্ঠ কন্যা  হাছিনা বানু এবং কনিষ্ঠ কন্যা মোছা. হাছিনা বেগম প্রকাশ কালনীকে রেখে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, পৈতৃক সম্পত্তিতে উভয়ের প্রাপ্য হিস্যা থাকা সত্ত্বেও সম্পত্তির একক নামজারির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠ কন্যার হিস্যা থেকে তাঁকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, হাছিনা বেগম তাঁর স্বামী দেলোয়ার হোসেন ও অজ্ঞাতনামা সাইবার অপরাধীদের সহায়তায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার মূল সরকারি ডাটাবেজ পোর্টাল https://sitakunda.prottoyon.net-এর আদলে একটি নকল ক্লোন ওয়েবসাইট তৈরি করেন। অভিযোগে উল্লিখিত নকল ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো: https://sitakunda.prottoyon.com-web.l7l0.cfd/verify_qrcode.php?tracking_id=74

ওই ওয়েবসাইট ব্যবহার করে কিউআর (QR) কোডযুক্ত একটি জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। সনদটির নম্বর ১০৪৪৪৬ এবং তারিখ ১২ এপ্রিল ২০২৬।

অভিযোগ অনুযায়ী, সনদটিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম এবং সীতাকুণ্ড মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের স্ক্যান করা সিল ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, জাল ওয়ারিশ সনদটি সীতাকুণ্ড সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে দাখিল করে শিবপুর মৌজার আরএস/বিএস দাগভুক্ত মোট ০.৫৭৪৫ একর, অর্থাৎ ৫৭.৪৫ শতক পৈতৃক সম্পত্তির একক নামজারি খতিয়ান তৈরি করা হয়। খতিয়ানটির নম্বর ২০২৬-১০০০৩৩। এর মাধ্যমে বাদীর মায়ের প্রাপ্য সম্পত্তির হিস্যা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিষয়টি জানার পর পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। পৌরসভার নিজস্ব তদন্তে সনদটি সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে তৈরি হয়নি, বরং নকল ওয়েবসাইট ব্যবহার করে জাল নথি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে উঠে আসে। পরে সীতাকুণ্ড পৌরসভা স্মারক নং সীঃপৌঃ/২০২৬/১৭৮, তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাধ্যমে সনদটি অবৈধ ঘোষণা করে বাতিল করে।

এ ঘটনা নিয়ে এর আগে ‘দৈনিক আমার দেশ’, ‘দৈনিক সমকাল’, ‘দৈনিক মানবজমিন’, ‘দৈনিক সাঙ্গু’, ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ ও ‘দৈনিক চট্টগ্রাম মঞ্চ’সহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সংক্ষুব্ধ হাছিনা বানুর পক্ষে তাঁর ছেলে অ্যাডভোকেট মো. আলী আজম গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ চট্টগ্রামের পৃথক দুই আদালতে নালিশি আবেদন করেন। সাইবার পিটিশন মামলা নং ৫২৬/২০২৬ (চট্টগ্রাম)-এ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ কাজী মিজানুর রহমান অভিযোগকারীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। পরে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৮(১)(খ)(গ), ১৯(১)(গ), ২১(১), ২২(১) ও ২৭(১) ধারায় নিয়মিত মামলা রুজুর জন্য সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ২৫ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের আদেশ দেওয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের স্মারক নং ১৫১২/২৬-এর ভিত্তিতে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সীতাকুণ্ড মডেল থানায় ৫৬ নম্বর মামলা রেকর্ড করা হয়।

একই দিনে সীতাকুণ্ড থানার আমলী আদালত-৭-এ দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় সি.আর. মামলা নং ৮০৭/২০২৬ দায়ের করা হয়। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাখাওয়াত হোসেন নালিশি দরখাস্তটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে নিয়মিত মামলা রুজুর নির্দেশ দেন। আদালতের স্মারক নং ১১৯৪-এর ভিত্তিতে ১ অক্টোবর ২০২৬ সীতাকুণ্ড মডেল থানায় ৫ নম্বর মামলা রুজু করা হয়।


সাইবার সুরক্ষা আইনের ৫৬ নম্বর মামলার তদন্তভার পান সীতাকুণ্ড মডেল থানার এসআই মো. মাহমুদুল হাসান। অন্যদিকে দণ্ডবিধির ৫ নম্বর মামলার তদন্তভার পান এসআই মো. কামরুজ্জামান।

মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুই তদন্ত কর্মকর্তার তৎপরতায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সীতাকুণ্ডের শিবপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১ নম্বর আসামি হাছিনা বেগম প্রকাশ কালনীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন বুধবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৭-এর বিচারক মো. সাখাওয়াত হোসেন তাঁকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

তবে মামলার অপর এজাহারনামীয় আসামি দেলোয়ার হোসেন এবং নকল ওয়েবসাইট তৈরিতে জড়িত থাকতে পারেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।


মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. আলী আজম বলেন, “সরকারি ওয়েবসাইট ক্লোন করে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জাল করে জাল ওয়ারিশ সনদ তৈরির অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ওই সনদ ব্যবহার করে পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগও রয়েছে। প্রধান আসামি হাছিনা বেগম গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ায় আমরা আইনের প্রতি আস্থাশীল হয়েছি। তবে তাঁর স্বামী দেলোয়ার হোসেনসহ নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”


বাদীপক্ষের আইনজীবী ও চট্টগ্রাম জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (অতিরিক্ত পিপি) অ্যাডভোকেট মো. সরওয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, “সরকারি ওয়েবসাইটের আদলে নকল পোর্টাল তৈরি করে কর্মকর্তাদের সিল-স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় সরকারি ডিজিটাল সেবার নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। পৃথক দুই আদালতের নির্দেশে দুটি মামলা রুজু হয়েছে। প্রধান আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালত তাঁকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এখন তদন্তের মাধ্যমে নকল ওয়েবসাইটটি কে তৈরি করেছে, কারা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছে এবং জাল সনদ প্রস্তুত ও নামজারির সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা বের করা জরুরি। আমরা আশা করছি, পুলিশ আইনানুগভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে পলাতক আসামি এবং নেপথ্যের সাইবার চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনবে।”


পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অপর আসামি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে নকল ওয়েবসাইট তৈরির উৎস, জাল সনদ প্রস্তুতের প্রক্রিয়া এবং বিতর্কিত নামজারির সঙ্গে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে।

এদিকে সরকারি পোর্টাল ক্লোন করে জাল নথি তৈরির অভিযোগের পাশাপাশি পৈতৃক সম্পত্তির নামজারি নিয়ে ওঠা বিরোধের নিষ্পত্তি এখন তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।




২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, বাদ কুমিরা স্টপেজ

২৬ অক্টোবর থেকে কক্সবাজার যাবে মহানগর এক্সপ্রেস, বাদ কুমিরা স্টপেজ
ছবি সংগৃহীত।

আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেন কক্সবাজার পর্যন্ত চলাচল করবে। এতে মধ্যবর্তী বিভিন্ন জেলার যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে নতুন রুটে ট্রেনটির 'কুমিরা স্টেশনে' যাত্রাবিরতি বাতিল করা হচ্ছে।

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওপিএস) মোহাম্মদ সফিকুর রহমান বলেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাপথ সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। ২৬ অক্টোবর থেকে এ সেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, নতুন সূচি অনুযায়ী, ৭২১ নম্বর মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজার থেকে সকাল ৮টায় ছেড়ে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছবে। চট্টগ্রাম থেকে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকায় পৌঁছবে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে। অন্যদিকে, ৭২২ নম্বর ট্রেন ঢাকা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে রাত ২টা ৪০ মিনিটে চট্টগ্রাম পৌঁছবে। সেখান থেকে রাত ৩টায় ছেড়ে সকাল ৬টায় কক্সবাজার পৌঁছবে।

ট্রেনটিতে শোভন চেয়ার, স্নিগ্ধা, এসি সিট ও এসি বার্থের ব্যবস্থা থাকবে। ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ছাড়াও নাঙ্গলকোট, লাকসাম, কসবা, আখাউড়া, আশুগঞ্জ ও ভৈরববাজার স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি কক্সবাজার যেতে পারবেন।

বর্তমানে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটক এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সৈকত এক্সপ্রেস ও প্রবাল এক্সপ্রেস চলাচল করছে। মহানগর এক্সপ্রেস যুক্ত হলে এ পথে ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে পাঁচ জোড়া হবে।

রেলওয়ের আদেশ অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেসে ১৬টি কোচ ও ১ হাজার ৩৬৬টি আসন থাকবে। ট্রেনটির চলাচল সময় প্রায় ৯ ঘণ্টা ৩০ মিনিট।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের আশঙ্কা, চট্টগ্রাম-দোহাজারী অংশের একক রেললাইন ও কয়েকটি স্টেশনের ছোট লুপলাইনের কারণে ট্রেনের ক্রসিংয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এতে অন্য ট্রেনের সময়সূচিও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নতুন রুটে কুমিরা স্টেশনে যাত্রাবিরতি না থাকায় সেখানকার যাত্রীদের বিকল্প ট্রেন বা পরিবহন ব্যবহার করতে হবে।