যোগদান করলেন লক্ষ্মীছড়ির নতুন ইউএনও বাপ্পী দত্ত রনি
শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন

যোগদান করলেন লক্ষ্মীছড়ির নতুন ইউএনও বাপ্পী দত্ত রনি

যোগদান করলেন লক্ষ্মীছড়ির নতুন ইউএনও বাপ্পী দত্ত রনি
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করেছেন বাপ্পী দত্ত রনি। যোগদানের পর বুধবার ছিল তাঁর প্রথম কর্মদিবস। এর আগে তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগদানের পর তিনি প্রশিক্ষণে অংশ নেন। বিসিএস ৩৮তম ব্যাচের এই ক্যাডার কর্মকর্তার জন্মস্থান কুমিল্লা জেলার বরুড়া উপজেলায়।

এর আগে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাউছার হামিদ গত ২০ জুলাই ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলায় বদলি হলে মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ইউএনও হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে মোহাম্মদ রিফাতুল ইসলাম গত ৪ আগস্ট লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় যোগদান করার পর তাঁকেও বদলি করা হয়।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় নতুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে যোগদান করা ৩৮তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা বাপ্পী দত্ত রনি আজ থেকে নিজ কার্যালয়ে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছেন। এই কর্মকর্তা এর আগে চাঁদপুর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি চাঁদপুর সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি), এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে মাঠপর্যায়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ভূমি সেবা ডিজিটালাইজেশন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদপুর সদর ও কচুয়ায় তাঁর ভূমিকা স্থানীয় জনমনে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় বলে জানা গেছে। জ্যেষ্ঠতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি পেয়ে তিনি লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।

প্রথম কার্যদিবসে নানা কর্মব্যস্ততায় দিনটি অতিবাহিত হয়। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিবেরাও সাক্ষাৎ করেন। পরে বিকেল ৩টায় উপজেলা মিনি কনফারেন্স হলে এক পরিচিতি সভায় মিলিত হন নবাগত ইউএনও।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, হেডম্যান-কার্বারি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা সভায় বক্তব্য দেন। নবাগত ইউএনও এলাকার সব মানুষের জন্য কাজ করতে চান এবং এ ক্ষেত্রে তিনি সব সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।




বান্দরবানের নতুন জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা

বান্দরবানের নতুন জেলা প্রশাসক নাজনীন সুলতানা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান জেলার নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক মিজ নাজনীন সুলতানা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মু. মাহমুদ উল্লাহ মারুফ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের কর্মকর্তা নাজনীন সুলতানাকে তাঁর বর্তমান পদ থেকে বদলি করে বান্দরবানের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, বান্দরবানের ২৩তম জেলা প্রশাসক হিসেবে মো. সানিউল ফেরদৌস গত ২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগের মধ্য দিয়ে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস ছয় দিন দায়িত্ব পালন শেষে তাঁর কার্যকালের সমাপ্তি ঘটল।




লামায় আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

লামায় আওয়ামী লীগ চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আওয়ামী লীগ ঘরোনার চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও বিএনপি নেতা মিছবাহ উদ্দীন মিন্টুর যোগসাজশে বেআইনিভাবে টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদ এবং স্থানীয় কথিত কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কৃষক ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

গত বুধবার (০৭ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান এবং মিছবাহ উদ্দীন মিন্টু নামের এক ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে টোল আদায়ের সুযোগ করে দিয়েছেন। কোনো প্রকার বৈধ রসিদ বা ইউপি ইজারার কাগজপত্র ছাড়াই এই চাঁদাবাজি চালানো হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, ফাইতং ইউনিয়নের শতকরা ৯০ ভাগ মানুষই কৃষিপেশার সঙ্গে জড়িত। সামান্য ১০-১২ কেজি কৃষিপণ্য কিংবা ছোটখাটো মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রেও তাঁদের কাছ থেকে জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের টাকা বা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

বক্তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের সঙ্গে বৈঠক করা হলে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এমন কোনো ট্যাক্স বা ইজারা আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু এরপরও এক ইজারাদার (হেলাল উদ্দীন ও মিছবাহ গং) ও তাঁর সহযোগীরা অবৈধভাবে ইজারার গেট বসিয়ে চাঁদা তুলে আসছিলেন।

এলাকাবাসী ও বক্তারা অবিলম্বে অবৈধভাবে আদায়কৃত সব টাকা সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের ফেরত দেওয়ার জোর দাবি জানান। পাশাপাশি অবৈধ গেট অপসারণ না করলে চাঁদাবাজদের ধরে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার ঘোষণা দেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ফাইতং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক জানান, গেট ইজারা দেওয়া হয়নি, তবে পরিষদের পক্ষে হেলাল উদ্দীন নামে একজনকে টোল আদায়কারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




হর্টিকালচারে জনবল সংকটে ব্যাহত কার্যক্রম, নিয়োগের প্রস্তাব উপপরিচালক লিটন দেবনাথের

হর্টিকালচারে জনবল সংকটে ব্যাহত কার্যক্রম, নিয়োগের প্রস্তাব উপপরিচালক লিটন দেবনাথের
ছবি সংগৃহীত।
  • ৩৩ পদের বিপরীতে কর্মরত ১৫ জন, শূন্য ১৮ পদ—ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম

  • জনবল সংকটে বাগান ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন ও কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তায় বাড়ছে চাপ

  • ফার্ম লেবারের ১৬ পদের ১১টিই শূন্য, ১০ দিনের কাজ শেষ করতে লাগছে ৩০ দিন

  • দ্রুত শূন্য পদ পূরণের দাবি—জনবল বাড়লে সেবার মান ও কাজের গতি বাড়বে: উপপরিচালক

  • উদ্যানতত্ত্ববিদ, উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তা, মালি ও চালকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল ঘাটতি

বান্দরবান শহরের বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পদ শূন্য থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। জনবল সংকট কাটাতে শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থার কথা ‘দৈনিক সাঙ্গু’ পত্রিকার জেলা প্রতিনিধির সঙ্গে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সাক্ষাৎকারে এ বার্তা জানিয়েছেন বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক লিটন দেবনাথ। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্রিকায় হর্টিকালচার সেন্টারে ফলজ ও বনজ বিষয় নিয়ে অনিয়মের কথা তুলে ধরা হলেও গাফিলতি ও অনিয়ম হওয়ার পেছনে বিভিন্ন পদে জনবল কম থাকাকেই প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন তিনি।

তিনি জানান, এ জনবল সংকটের বিষয়টি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্যামাচিং মার্মা ও পার্বত্যবাসীর অভিভাবক মহলের কাছে পৌঁছালে শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাঁর বিশ্বাস।

ফার্ম লেবার মো. আলমগীর বলেন, ‘হর্টিকালচার সেন্টারে নিয়মিত লেবার হিসেবে কাজ করি মাত্র ৫ জন। জনবল কম থাকায় কাজের গতি বাড়াতে পারছি না; ১০ দিনের কাজ ৩০ দিনেও শেষ করতে পারি না। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হলে আমাদের কাজের মান আরও গতিশীল হবে বলে আমি আশাবাদী।’

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রস্তাবনায় দেখা যায়, হর্টিকালচার সেন্টারে মোট ৩৩টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। ফলে ১৮টি পদই শূন্য রয়েছে। জনবল ঘাটতির কারণে দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বাগান ব্যবস্থাপনা, চাষাবাদ, উৎপাদন ও কৃষকদের প্রযুক্তিগত সহায়তা কার্যক্রমে মারাত্মক চাপ তৈরি হচ্ছে।

প্রস্তাবনায় ১২ ধরনের পদে জনবল কাঠামোর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে উপপরিচালক পদে ১ জন কর্মরত থাকলেও উদ্যানতত্ত্ববিদের ১টি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া ৪টি অনুমোদিত উপসহকারী উদ্যান কর্মকর্তার মধ্যে ১ জন কর্মরত এবং ৩টি পদ শূন্য রয়েছে।

প্রস্তাবিত তালিকা অনুযায়ী, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, মালি, ড্রাইভার ও ট্রাক্টর/পাওয়ার টিলার ড্রাইভার প্রতিটি পদে ১টি করে শূন্য পদ রয়েছে। গার্ড পদে ৪টি অনুমোদিত পদের মধ্যে ৩ জন কর্মরত এবং ১টি পদ শূন্য। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি রয়েছে ফার্ম লেবার পদে। এ পদে ১৬টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৫ জন, ফলে ১১টি পদ শূন্য রয়েছে। এ ছাড়া এমএলএসএস (অফিস সহায়ক) পদেও একটি পদ শূন্য রয়েছে।

হর্টিকালচার সেন্টারের মতো কৃষি উৎপাদন, ফলদ ও উদ্যানজাত ফসলের সম্প্রসারণ, চারা উৎপাদন এবং কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বান্দরবানের পাহাড়ি অঞ্চলে ফলদ ও উদ্যানজাত ফসলের উৎপাদন সম্প্রসারণে হর্টিকালচার সেন্টারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিক না থাকলে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও সেবামূলক কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ অবস্থায় শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা হলে বালাঘাটা হর্টিকালচার সেন্টারের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় কৃষক ও উদ্যোক্তারা সেন্টারটির সেবা থেকে অধিকতর উপকৃত হবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।