মীরসরাইয়ে বিএনপির দু'গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণ গেলে ছাত্র কর্মীর
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন

মীরসরাইয়ে বিএনপির দু'গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণ গেলে ছাত্র কর্মীর

মীরসরাইয়ে বিএনপির দু'গ্রুপের সংঘর্ষে প্রাণ গেলে ছাত্র কর্মীর
ছবি: নিহত গাজী তাহমিদ খান (২৫) (সংগৃহীত)

মীরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরবাজারে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএনপির একই গ্রুপের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে গাজী তাহমিদ খান (২৫) নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক কর্মী নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষে আরও ৮–১০ জন আহত হয়েছেন।

নিহত তাহমিদ বারইয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলমগীরের ছেলে। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্য এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ মীরসরাই উপজেলার যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন।

বুধবার বিকেলে বারইয়ারহাট পৌরবাজারের ট্রাফিক মোড় এলাকার একটি দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুবায়েরের সঙ্গে পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম লিটনের কথাকাটাকাটি হয়। পরে উভয়পক্ষ নিজ নিজ এলাকার লোকজন নিয়ে বাজারে অবস্থান নেয় এবং একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

সংঘর্ষে তাহমিদ, রায়হান, মোহন দে, আবির, মোজাম্মেলসহ ৮–১০ জন আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থা গুরুতর হলে তাহমিদকে চমেক হাসপাতালে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।

বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে বলেন, লিটন ও জুবায়েরের ঝামেলা মীমাংসা করতে গেলে লিটনের অনুসারীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তাহমিদ কখন ঘটনাস্থলে গিয়েছিল জানি না। তাকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়।

জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হক বলেন, বিএনপির একই গ্রুপের জুনিয়র–সিনিয়র দ্বন্দ্বের জেরে মারামারিতে তাহমিদ নামে একজন নিহত হয়েছেন। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসী হামলায় মিরসরাইয়ের যুবক নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসী হামলায় মিরসরাইয়ের যুবক নিহত
ছবি সংগৃহীত।

দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে মিরসরাইয়ের আবু ছালেক চৌধুরী টিপু নামে এক প্রবাসী নিহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটুরিয়া কুমাথলাঙ্গা শহরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হন। 

তিনি মীরসরাই উপজেলার ১৫ নং ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়াড়র্ের তছি সরকারবাড়ীর মৃত আবু তাহের চৌধুরীর সেঝ ছেলে। তিনি ২ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক ছিলেন। 

নিহত টিপুর ভাতিজা রাব্বি চৌধুরী তুর্জয় বলেন, শুক্রবার বিকেলে আমার চাচ্চুকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটুরিয়া কুমাথলাঙ্গা শহরে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। গুলি চাচ্চুর মাথা ও হাতে লাগে। এসময় তিনি ঘটনাস্থলে নিহত হন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় বিয়ে করেছেন। সেখানে তাঁর স্ত্রী, ২ ছেলে ও ১ মেয়ে রয়েছে। চাচ্চু প্রায় ২৫ বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আছেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালে দেশে এসেছিলেন। লাশ দেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকায় মীরসরাই এসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।  

তিনি আরো বলেন, ২০০৬ সালে আমার ছোট চাচ্চু আবু সায়েম চৌধুরীকেও দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে হত্যা করেছিলো। ছোট চাচ্চুর আজ সেঝ চাচ্চুও চলে গেলেন।




ব্যালেট বক্সে যারা হাত দিবে তা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলা হবে- অধ্যাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া

ব্যালেট বক্সে যারা হাত দিবে তা শরীর থেকে আলাদা করে ফেলা হবে- অধ্যাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক আহসান উল্লাহ ভূঁইয়া বলেছেন, ‘আমরা ভোটকেন্দ্র দখল করতে যাব না। যারা ভোটকেন্দ্র দখল করতে যাবেন তারা পরিবার থেকে বিদায় নিয়ে যাবেন। মা-বোন থেকে, ছেলে-মেয়ে থেকে শেষ সালাম নিয়ে যাবেন। আমরা কাউকে আঘাত করবো না, ব্যালেট বক্সে যারা হাত দিবে; তা রাখতে দিব না। শরীর থেকে হাত আলাদা করে ফেলা হবে। 

তিনি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মীরসরাই আসনে ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থীত ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট ছাইফুর রহমানের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে পৌর সদরের উষা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান বক্তা জামায়াতে ইসলামী মনোনিত প্রার্থী এডভোকেট ছাইফুর রহমান বলেন, ‘অনেক কষ্টের বিনিময়ে আমাদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক অর্জন করেছি। আপনারা জানেন এ দাঁড়িপাল্লা ছিল আমাদের দলের এমন এক প্রতীক, যেটা মানুষের কাছে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এদেশের মানুষ দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে মুখিয়ে রয়েছে। আমরা বিজয়ের কাছাকাছি পৌঁছ গেছি,  এখন শুধু সময়ের বাকি।’

বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সভাপতি অধ্যক্ষ মো. নুরের নবীর সভাপতিত্বে ও জোরারগঞ্জ থানা জামায়াতের আমীর নুরুল হুদা হামিদীর সঞ্চালনায় বিশেষ বক্তা ছিলেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের এ্যাসিসটেন্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি, মোহাম্মদ ইউসুফ বিন আবু বকর, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন, মীরসরাই উপজেলা জামায়াতের আমীর নুরুল কবির, সাবেক আমীর নুরুল করিম, এনসিপি নেতা অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস নেতা মফিজুল ইসলাম সিদ্দিকী, মীরসরাই উপজেলা শিবিরের সভাপতি মো. সাকিব হোসাইন।  

এর আগে দিনের শুরুতে প্রচার-প্রচারনার প্রথমদিন বাবার কবর জেয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগে নামেন জামায়াতের প্রার্থী এডভোকেট ছাইফুর রহমান। দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন প্রোগ্রাম করেন।




মীরসরাইয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন

মীরসরাইয়ে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন
ছবি সংগৃহীত।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১ মীরসরাই আসনে বিএনপি মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল আমিনের ধানের শীষের নির্বাচনী প্রচারনা উপলক্ষে ওলামা মাশায়েখ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) উপজেলার বারইয়ারহাটে নির্বাচনী কার্যালয়ে মীরসরাই উপজেলা ওলামা দলের উদ্যোগে সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপি মনোনিত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুল আমিন।

জামালপুর মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মকসুদ আহম্মদের সভাপতিত্বে ও উপজেলা ওলামা দলের যুগ্ম সম্পাদক এইচএম খায়ের উদ্দিন মাসুকের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও মীরসরাই আসনে নির্বাচন পরিচলনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা নুরুল আমিন, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক শাহীদুল ইসলাম চৌধুরী, জেটেব কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার ফখরুল আলম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ওলামা দলের সভাপতি মাওলানা জমির উদ্দিন নূরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ডা. আকতার উদ্দিন, মাওলানা রাশেদ পারভেজ, উপজেলা ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ মাওলানা আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সালাহ উদ্দিন।

প্রধান অতিথি বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন বলেন, আলহামদুল্লিাহ, আনুষ্ঠানিক প্রচারনা শুরু করেছি। প্রথমদিন ধানের শীষের পক্ষে গণ জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। মানুষ জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও দেশনায়ক তারেক রহমানের দলকে ক্ষমতায় আনতে মুখিয়ে আছে। আগামী ১২ ফেব্রæয়ারি ধানের শীষ বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, একটি দল বিএনপিকে নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে। আপনারা অপপ্রচারে কান দেবেন না। ধানের শীষকে ভোট দিয়ে উন্নত দেশ গড়ার সুযোগ করে দিন।

এর আগে প্রচারনার প্রথম দিন উপজেলার ওচমানপুরে পিতা মরহুম মাওলানা আবুল খায়েরের কবর জেয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক গণসংযোগ শুরু করেছেন। সকালে উপজেলার ওচমানপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করার পর দুপুরে ওলামা দলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে বারইয়ারহাট পৌরসভায় ও বিকেলে ধুম ইউনিয়নে প্রচার-প্রচারনা করেন।