ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজির মামলা থেকে বাঁচতেই আইনজীবীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা
চট্টগ্রামে এক আইনজীবীকে ঘিরে পরপর দুইটি মামলার ঘটনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। আইনজীবী জুয়েল দাশ দাবি করেছেন, তার দায়ের করা চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিং মামলার জেরেই পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে পরে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, একটি মামলার সূত্রে এক নারীর সঙ্গে জুয়েল দাশের পরিচয় হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথোপকথনের মাধ্যমে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে সেই ব্যক্তিগত আলাপচারিতাকে ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছে অর্থ দাবি করা হয়।
জুয়েল দাশের দাবি, মানসম্মানের ভয়ে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তিনি সংশ্লিষ্ট নারী ও তার সহযোগীদের ৪ লাখ টাকা দেন। পরে আরও ২ লাখ টাকা দাবি করা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এরপর তার ব্যক্তিগত কথোপকথনের স্ক্রিনশট পরিচিতজনদের কাছে পাঠানো এবং মিথ্যা মামলার হুমকি দেওয়া শুরু হয়।
এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জুয়েল দাশ ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আদালতে সি.আর মামলা নং ২১৬/২৬ (কোতোয়ালী) দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৩৮৫, ৩৮৮, ৩৮৯ ও ৩৪ ধারায় রুজু হয়। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তীতে পুলিশ দেলোয়ারা বেগম ও তার সহযোগী রওনক জাহান ইউশাকে গ্রেপ্তার করে।
আদালত সূত্রে আরও জানা গেছে, গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে অঙ্গীকারনামা দিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার আশ্বাস দেন এবং বাদীর সঙ্গে আপোষ করেন। ৩০০ টাকার নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে আপোষনামা সম্পাদনের পর ২৬ জানুয়ারি আদালত আপোষের ভিত্তিতে তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
জুয়েল দাশের অভিযোগ, ওই মামলায় জামিন লাভের পরই গত ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট নারী কোতোয়ালি থানায় তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, “আমি আগে তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মামলা করেছি। সেই মামলা থেকে বাঁচতেই আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো অভিযোগ আনা হয়েছে।”
তার দাবি, অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। একই কৌশলে অতীতে অন্য ব্যক্তিকেও ফাঁসানো হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগকারী নারীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কোতোয়ালি থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্তাধীন।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে ঘটনাটি এখন পুরোপুরি তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।











