বিরোধী দলের আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল পাস
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৮ পূর্বাহ্ন

বিরোধী দলের আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল পাস

বিরোধী দলের আপত্তিতেও র‍্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনে বিল পাস
ছবি সংগৃহীত।

বিরোধী দলের নানা আপত্তি ও সমালোচনার মুখেই বহুল আলোচিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে বাংলাদেশ পুলিশের আওতাধীন ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন’ (এসআরবি) নামে একটি নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রেখে বিলটি পাস করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিলটি কণ্ঠভোটে দিলে সেটি পাস হয়।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিলটি সংসদে উত্থাপন করা হয় এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তা সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়। বুধবার কমিটির প্রতিবেদন সংসদে উত্থাপিত হলেও সেখানে বিলটির বিভিন্ন ধারার ওপর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সাতটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট বা আপত্তি জানানো হয়। তবে সংসদীয় কমিটির সুপারিশসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করলে বিরোধী দলীয় নেতাসহ অন্যান্য বিরোধী সদস্যরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। বিরোধী দলীয় নেতা তার বক্তব্যে বলেন, র‌্যাব বিলুপ্ত করে কেবল নতুন নামে একই ধাঁচের বাহিনী গঠন জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। তাই কোনো অবস্থাতেই এই আইন পাস করা উচিত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিরোধী দলের সদস্যরা তাদের আপত্তিতে উল্লেখ করেন যে, র‌্যাব বিলুপ্তির পর পর্যাপ্ত জাতীয় পরামর্শ এবং শক্তিশালী ও স্বাধীন জবাবদিহি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে এসআরবি শেষ পর্যন্ত র‌্যাবেরই নতুন রূপ ধারণ করতে পারে। এজন্য তারা রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচারক, আইনজীবী, মানবাধিকার কর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সঙ্গে বিস্তৃত আলোচনার দাবি জানান। বিশেষ করে র‌্যাবের পুরোনো নথি, গুমের আলামত ও রেকর্ডপত্র সরাসরি স্থানান্তরের আগে আলাদা তালিকা তৈরি ও সংরক্ষণের দাবি তোলা হয়, যেন কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট বা পরিবর্তন না হতে পারে।

পাস হওয়া আইনের ৪ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের অধীন এসআরবি নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট থাকবে, যার সদর দপ্তর স্থাপন করা হবে ঢাকায়। সরকারের প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের পদায়ন বা প্রেষণে নিয়োগের মাধ্যমে এটি গঠন করা হবে। এই বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মহাপরিচালক, যিনি পুলিশ বাহিনীর অন্তত অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা হবেন। তিনি বাহিনীর প্রশাসনিক, আর্থিক ও অপারেশনাল ক্ষমতা পরিচালনা করবেন।

আইনের ১০ ও ১২ ধারায় এসআরবির মূল দায়িত্ব ও ক্ষমতার পরিধি নির্ধারণ করা হয়েছে। জননিরাপত্তা রক্ষা, সন্ত্রাসবাদ, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ, গুম, ভূঁইফোড় ভূমিদস্যুতা, মানবপাচার, গুম ও মাদক দমনে বাহিনীটি কাজ করবে। অপরাধীদের গ্রেপ্তারি, তল্লাশি ও আলামত জব্দের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তি বা জব্দ করা আলামত এসআরবির কাছে নিজস্ব হেফাজতে রাখা যাবে না, বরং আইন অনুযায়ী অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। বাহিনীর সাব-ইন্সপেক্টর বা তার চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আদালত, সরকার বা পুলিশ প্রধানের নির্দেশনায় এসব অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত পরিচালনা করতে পারবেন।

বিলে বাহিনীর সদস্যদের জন্য কঠোর শৃঙ্খলাভঙ্গ ও শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা, মদ্যপ অবস্থা, বেআইনি দখলদারি, হেফাজতে থাকা ব্যক্তির প্রতি নির্যাতন বা বল প্রয়োগ, প্ররোচনা দেওয়া এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার আদেশ অমান্য করাকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে। প্রমাণ সাপেক্ষে বরখাস্ত, পদাবনতি, বাধ্যতামূলক অবসর বা বেতন-ভাতা বাজয়াপ্তের পাশাপাশি তিরস্কার ও জরিমানা মতো শাস্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা ব্যক্তিগত অভিযোগ বা অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ নিরসনে একটি বিশেষ ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ গঠিত হবে।

আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিলে স্পষ্ট বলা হয়েছে, পরিবর্তিত সামাজিক ও ভৌগোলিক পরিস্থিতিতে অপরাধের বৈচিত্র্যময় রূপ এবং নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এমন আধুনিক ও দক্ষ বাহিনীর প্রয়োজন ছিল। র‌্যাব বিলুপ্তির মাধ্যমে সেই শূন্যতা পূরণ করে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিমূলক আধুনিক বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে এসআরবিকে তৈরি করা হয়েছে। আইনটি দ্রুত কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে র‌্যাব সংক্রান্ত আগের সব বিধান বাতিল বলে গণ্য হবে এবং বিলুপ্ত র‌্যাবের সমস্ত সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, তহবিল ও নথি এসআরবিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ন্যস্ত হবে।




লং মার্চ দিয়ে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় : প্রধানমন্ত্রী

লং মার্চ দিয়ে বিদ্যুৎ-গ্যাসের সমস্যা সমাধান সম্ভব নয় : প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দুটি এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটিতে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কারণে সৃষ্ট গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দেশবাসীকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।

সংকটময় এই মুহূর্তে বিরোধী দলগুলোর আয়োজিত লং মার্চ কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগকে কাজে লাগিয়ে উসকানি না দিয়ে সংকট উত্তরণে সরকারের পাশে থাকা উচিত। লং মার্চ দিয়ে সংকট সমাধান হলে সরকারি দল সবার আগে লং মার্চ করতো। এসময় বিরোধী দলকেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করে জাতীয় সংসদকে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে গ্যাস-বিদ্যুতের স্থায়ী সমাধানে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণার পাশাপাশি বিএনপি সরকারের অতীত সাফল্য ও সংকট জয়ের নজির তুলে ধরে দ্রুত বর্তমান পরিস্থিতি সামলে ওঠার দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং দুই বছর আগের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, একটি ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আজ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হতে যাচ্ছে। অধিবেশনটি সংক্ষিপ্ত হলেও দেশ ও জাতির বিভিন্ন সমস্যা এবং সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ কার্যকর আলোচনা করেছে। সংসদের প্রতিটি আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থবহ হয়েছে তা তিনি দাবি না করলেও সংসদকে দেশের সব আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সব সংসদ সদস্যের সদিচ্ছার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উভয় পক্ষই দেশ ও জনগণের স্বার্থে কাজ করার যে আন্তরিক চেষ্টা চালিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। বিগত ২৪-এর আন্দোলন পর্যন্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন-তাদের স্বপ্ন পূরণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যেই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্র পরিচালনার পেছনের প্রেক্ষাপট ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের পক্ষে রায় দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করেছে। গণতান্ত্রিক ধারায় বিরোধী দলও সরকারের অংশ-এই বিশ্বাস থেকে তিনি বিরোধী দলকে সঙ্গে নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিল্প কারখানা, শিক্ষা ও ব্যাংকিং খাতসহ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দুর্নীতির পাহাড় জমেছিল, যা বিরোধী দল ও গণমাধ্যমসহ দেশবাসীর সবার জানা। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া এসব সমস্যাকে কোনো অজুহাত হিসেবে না দাঁড় করিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।

সাম্প্রতিক সময়কার তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনের কারণ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই সংকট হঠাৎ সৃষ্টি হয়নি। বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার দেশীয় সোর্স থেকে গ্যাস উত্তোলনের কোনো চেষ্টাই করেনি। এমনকি বঙ্গোপসাগরে প্রতিবেশী দেশগুলো যখন গ্যাস আহরণ করছিল, তখন এক অদৃশ্য ইশারায় বাংলাদেশের অংশ থেকে গ্যাস কূপ খনন করা থেকে বিরত থাকা হয়, যাতে বিশেষ কোনো দেশ লাভবান হতে পারে। পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর দেশ সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকার গঠন করার ১০ থেকে ১২ দিন পরই মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি শুরু হয়, যা তেল-গ্যাস আমদানিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর পাশাপাশি দেশের দুটি এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) একটিতে বৈদ্যুতিক শকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে টার্মিনালটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে গেলে সংকট চরম আকার ধারণ করে।

জ্বালানি সংকটের এই কঠিন পরিস্থিতিতে বিরোধী দলের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলের বিশাল গাড়িবহর লং মার্চ কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগের সুযোগ নিয়ে বা জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে কোনো অপচেষ্টা চালানো সমীচীন নয়। যদি গাড়ির লং মার্চ করে গ্যাস বা বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান হতো, তবে সরকার নিজেই সবার আগে লং মার্চের আয়োজন করত।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ২০২২ সালে তৎকালীন সরকার কর্তৃক অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন, ব্যাংকের সময় হ্রাস বা স্কুলে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ নিশ্চিত করার নামে কুইক রেন্টাল বসিয়ে তৎকালীন সরকার রাষ্ট্রকে দেউলিয়া ও ঋণগ্রস্ত করেছিল, অথচ দীর্ঘমেয়াদী সমাধান দেয়নি। ইউক্রেন যুদ্ধের ধারাবাহিকতার মাঝে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও কারিগরি দুর্যোগের কারণে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাকে উসকানিমূলক আচরণে রূপ দিলে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে প্রাণ দেওয়া ১৪০০ শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের ত্যাগ অবমূল্যায়িত হবে এবং পরাজিত ও বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী চক্র লাভবান হবে।

সংকট কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা এবং আশাবাদের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বলেন, ইতোমধ্যে সরকার সংকট সামাল দিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ সংকট দূর হবে। ভবিষ্যতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে দেশকে একটি স্বাবলম্বী উৎপাদক রাষ্ট্রে রূপান্তর করার বিশাল পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

অতীতের ঐতিহাসিক সাফল্যের নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই সংকট থেকে দেশকে বের করে এনেছে। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বেই সত্তরের দশকের শেষের দিকে 'তলাবিহীন ঝুড়ি'র অপবাদ ঘুচিয়ে বাংলাদেশ খাদ্যে উদ্বৃত্ত ও রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছিল। তিনিই মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে বিশাল জনশক্তি রপ্তানির মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন।

৯০-এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন পরবর্তী ১৯৯১ সালের সরকারের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তৎকালীন নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থনের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ ও বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন, যার ফলে প্রায় দুই কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকারও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জাতিকে একটি সমৃদ্ধ ও শান্তিময় ভবিষ্যৎ উপহার দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

র‍্যাব বিলুপ্ত করে নতুন করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠন করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, র‍্যাবের সঙ্গে এসআরবির কোনো সংস্পর্শ নেই। র‍্যাব বিলুপ্ত হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপচয় না করে নতুন সংস্থায় তা হস্তান্তর করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদনে বিরোধী সদস্যদের প্রস্তাব অনুযায়ী সংশোধনী গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী সদস্যদের প্রস্তাব মতে আমরা নিয়েছি। তারা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেছে। তার পরের দফায় যে সংশোধনী, এটা হচ্ছে ক্লারিক্যাল মিস্টেক—উপধারা দুইয়ের মধ্যে একটা ব্র্যাকেট বন্ধন। এটুকু।’

বিরোধী দলের নোট অব ডিসেন্টের জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো পরামর্শ ছাড়াই এত দ্রুত বিলটি পাস করা যোগ্য—এটা তারা বলেছেন। আমাদের নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি ছিল, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের অঙ্গীকার ছিল, প্রতিশ্রুতি ছিল বিলুপ্ত করা হবে। আমাদের নির্বাচন ইশতেহারে ছিল, সব পক্ষের দাবি ছিল র‍্যাব আমরা বিলুপ্ত করছি।’

তিনি বলেন, ‘এখন এই বিল যতই বিলম্বিত হবে, র‍্যাব কিন্তু অস্তিত্ব ঠিকই রয়ে যাবে, র‍্যাবই রয়ে যাবে। এখন বিরোধী দলীয় সদস্যরা কি তাই চান?’

বিল নিয়ে পর্যাপ্ত আলোচনা ও পরামর্শ হয়নি—বিরোধীদের এমন বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আলোচনা-পরামর্শ প্রথম সেশন থেকে আমরা এর ওপর বক্তব্য রাখছি। দ্বিতীয় সেশন হয়েছে। তৃতীয় সেশনে আমরা এটা... ক্যাবিনেটে বিলটা যখন বিবেচনার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়, তার আগের যে কর্মপদ্ধতি, সেই পদ্ধতি অনুসারে আমরা এটা ওয়েবসাইটে দিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে সেটা দীর্ঘদিন ছিল।’

তিনি বলেন, ‘বিলটা এখানে উত্থাপনের পরে আমরা চার-পাঁচ কার্যদিবসে সেটা আলোচনা করেছি। স্থায়ী কমিটিতে আলোচনা করেছি। বাইরের স্টেকহোল্ডারদের আমরা বিভিন্ন মতামত ওয়েবসাইটে পেয়েছি। সবগুলো কনসিডার করেছে। সুতরাং আলোচনা হয়েছে, পরামর্শ হয়েছে।’

র‍্যাব থেকে এসআরবিতে স্থানান্তরের সময় রেকর্ড কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে—বিরোধীদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি বিশিষ্ট আইনজীবী। রেকর্ড হস্তান্তরের বিষয়টা হচ্ছে একটা প্রসিডিউরাল ম্যাটার। এখানে এই বিষয়টা উত্থাপনের কোনো সুযোগই নাই। রেকর্ডটা বিধি অনুসারে রাখা।’

এসআরবির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে ধারা ২৪-এর অভিযোগ প্রতিকার কমিটি যথাযথভাবে কাজ করতে পারবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ধারা ২৪ হচ্ছে অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন ইত্যাদি। ভেতরে তো আছে, ইউনিটের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি, বাইরের কোনো লোক দ্বারা উত্থাপিত অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনের জন্য এই কমিটি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা কোনো ক্রাইমের ক্ষেত্রে না। অভিযোগটা হচ্ছে, কোনো প্রাইভেট ইন্ডিভিজুয়াল এই এসআরবির কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে অথবা এসআরবিরই কোনো সদস্য যদি অভ্যন্তরীণ, উইদইন ব্যাটালিয়ন কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকে, সেটা বিচারের কর্মপদ্ধতির জন্য একটা কমিটি গঠন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা ডিপার্টমেন্টাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ, উইদইন ফোর্স। সে ডিসিপ্লিন ব্রেক করল, কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ এলে সেখানে হাইকোর্টের বিচারপতিকে করার কোনো সুযোগ নাই। আর হাইকোর্টের বিচারপতিকে যদি হেড করা হয়, তাহলে অ্যাডিশনাল আইজি প্রধান হিসেবে তার নিচে থাকতে হবে। এটা ডিপার্টমেন্টাল বিষয়।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা আসলে যেটা মিন করতে চেয়েছেন, সেটা হচ্ছে কোনো ক্রাইমের ক্ষেত্রে যদি এই বাহিনীর সদস্যরা কোনো ক্রাইম করে থাকেন। এই অভিযোগ সেই অভিযোগ না। ইট ইজ আন্ডার সেকশন ২১।’

ধারা ২১-এর ব্যাখ্যা দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিটের সদস্য কর্তৃক সংগঠিত শৃঙ্খলা লঙ্ঘন। ধারা ১৭-তে বর্ণিত শৃঙ্খলা ব্যতীত। যেটা ডিসিপ্লিনেরই অ্যাকশন, যেটা বলি আমরা সিভিল সার্ভিসে, যেটা বলা হয় সার্ভিস অ্যান্ড ডিসিপ্লিন রুলস অনুসারে যেটা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সেটার মতই।’

তিনি বলেন, ‘ধারা ১৭-তে উল্লেখ করা আছে কোন কোনগুলো ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন হবে। যেমন কর্তব্য পালনকালে মাতাল থাকলে, নেশাগ্রস্ত থাকলে, কারও ওপর বা কোনো কর্তব্যরত সদস্যকে আঘাত করলে, পেট্রোল ডিউটিতে না গেলে, ছুটি ছাড়া উপস্থিত থাকলে, অনুপস্থিত থাকলে, আইনসঙ্গত কোনো কাজ করতে অস্বীকার করলে ইত্যাদি।’

‘এইগুলো হচ্ছে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন বা ইন্ডিসিপ্লিন হওয়ার জন্য যে অ্যাকশনটা নেবে, সেটা এভাবে নির্ধারণ করা আছে—একদম সেকশন ওয়াইজ ১৮, ১৯, ২০, ২১। তবে বলছে, যদি কোনো সদস্য ক্রাইম করে থাকে, সেটা এখানে ২১ আছে—ধারা ১৭-তে বর্ণিত শৃঙ্খলা ব্যতীত ইউনিটের সদস্য কর্তৃক অন্য কোনো শৃঙ্খলা লঙ্ঘিত হইলে তাহার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। ক্লিয়ার।’

গ্রেপ্তারের পর আসামিকে কোথায় নেওয়া হবে—নোট অব ডিসেন্টে এমন প্রশ্নের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রেপ্তারের পর অবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় যাবে। এটা তো বলাই আছে সিআরপিসি অনুসারে। এখানে প্রত্যেকটা ধারায় বলা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে এবং আলামত অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানা কর্তৃপক্ষের হেফাজতে সোপর্দ বা হস্তান্তর করিবেন এবং এতদসংক্রান্ত প্রতিবেদন যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করবেন।’

র‍্যাব বিলুপ্তির পর এসআরবি গঠন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই আইনটা যদি আমার বন্ধুরা বলে এটা রিপ্লেসমেন্ট অব র‍্যাবের রং—র‍্যাব আমরা বিলুপ্ত করেছি। আজকে আইন যদি পাস হয়, তারপরে আমরা একটা নতুন ব্যাটালিয়ন রেইজ করছি। সেই ব্যাটালিয়নের নাম হবে এসআরবি। র‍্যাবের সঙ্গে এটার কোনো সংস্পর্শ নাই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বিরোধী দলীয় নেতা ঠিকই বলেছেন যে তিনি বলেছেন র‍্যাব বিলুপ্ত করবেন। বিলুপ্ত করেছেন। আজকে আইন পাস করে দেন, র‍্যাব বিলুপ্ত।’

র‍্যাবের অস্ত্র, সরঞ্জাম ও অন্যান্য সম্পদ নতুন বাহিনীতে হস্তান্তর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি আপনারা একটা কথা বলেছেন যে একই জিনিস আছে, সমস্ত সহায়-সম্পত্তি এই নতুন অর্গানাইজেশনের কাছে যাবে—মানে স্পিকার, এগুলোকে নিলাম দিয়ে দেবো? এত অস্ত্র-সস্ত্র, এত ইকুইপমেন্ট, এত ইন্টেলিজেন্স ইকুইপমেন্ট, এত সম্পদ—এগুলো কোথায় যাবে? কোথাও না কোথাও তো যাবে। রাষ্ট্রের সম্পদ।’

তিনি বলেন, ‘সেজন্য হস্তান্তর করতে হয়। আইদার এপিবিএনে যেত অথবা নতুন সংস্থাতে যাবে। তো নতুন সংস্থা যেন আমরা রেইজ করব, এখানে তো আবার প্রোকিউরমেন্ট করার দরকার নাই। রাষ্ট্রীয় সম্পদ আমাদের রক্ষা করতে হবে।’

অর্থ অপচয় না করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রোকিউরমেন্ট এখানে অর্থমন্ত্রী সাহেব রয়েছেন। আবার যাতে আর্থিক কোনো ব্যবস্থা নিতে না হয়। অর্থ বরাদ্দ না হয়, অপচয় করবো না। আমরা এটাকে ব্যবহার করব। প্রয়োজনে এটাকে ইমপ্রুভ করবো।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যারা আলোচনায় অংশগ্রহণ করেছেন, তাদের মধ্যে প্রথম দুইজন রুহুল আমিন, জনাব রাশেদ—তাদের বক্তব্যে তেমন এখানে আইন বিষয়ে কিছু ছিল না। আমাদের জনাব বুলবুল তিনি একই কথাগুলো বলেছেন, যে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, সে তিনিই জমা দিয়েছেন। সেগুলোর জবাব আমি দিয়েছি।’

বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিলটি বিলুপ্ত করার প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘র‍্যাব বিলুপ্ত চেয়েছিলেন, কিন্তু কারও দাবি ছিল না আরেকটি সংস্থা করার। ঠিক। এটা তো সমাজের দাবি, সরকারের পরিচালনার স্বার্থে চাহিদা এবং যুগোপযোগী করার জন্য।’

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় নতুন ইউনিট গঠনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে যত অপরাধ এখন হচ্ছে, কোনো না কোনোভাবে সেটার সঙ্গে সাইবার স্পেসের জড়িত থাকার একটা বিষয় রয়ে যাচ্ছে। সমস্ত অপরাধের মধ্যে সাইবার স্পেস ব্যবহার করার একটা প্রবণতা রয়ে যাচ্ছে। অথচ আমরা সাইবার স্পেসের এই অপরাধগুলো দমন করার জন্য কোনো কার্যকর আইন আনছি না।’

তিনি বলেন, ‘সেজন্য আমরা আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় আছি। সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মধ্যে আমরা একটা অ্যামেন্ডমেন্ট নিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আর পুলিশ বাহিনীর অধীনে আরেকটা ইউনিট আমরা রেইজ করব। সেটার নাম হবে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট। সেটা তো সমাজের চাহিদা।’

র‍্যাব গঠনের আইনগত ভিত্তি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘র‍্যাব নামে এই সংস্থাটি ইউনিটটি ২০০৩ অথবা ২০০৪-এ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনের একটা সেকশন ৬-এর আন্ডারে রেইজ করা হয়েছিল। সেই আইনটা পূর্ণাঙ্গ ছিল না। একটা সেকশনের অধীনে একটা ইউনিট কাজ করছিল। অ্যাডহক ভিত্তিতে করছিল, দীর্ঘদিন কাজ করেছে। ডিফেক্ট বেরিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সেজন্য আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন থেকে আমরা সেটা বের করে নিয়ে এসে বিলুপ্ত করতে চাই। একই সঙ্গে এই আইনের পরে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আইনটা পাসের জন্য দিয়েছি।’

১৯৭৯ সালের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্স প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেই আইনটা ইংরেজিতে ছিল, কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল। সেই আইনটাও আমরা বঙ্গানুবাদ করে তাকে নতুন আইন হিসেবে নিয়ে আসছি এবং আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন অর্ডিন্যান্সটাকে আমরা রিপিল করে দিচ্ছি এবং রহিতকরণ ও হেফাজতকরণ সেকশনটা ওখানে আমরা রেখেছি।’

তিনি বলেন, ‘এটা একই জিনিস রয়ে গেছে, শুধু আমরা মডার্নাইজ করেছি, বঙ্গানুবাদ করেছি। আর এখান থেকে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের সেকশনটা ডিলিট করে দিয়েছি। কারণ আজকে যদি আমরা র‍্যাপিড অ্যাকশন এখানে আইন পাস করি, এপিবিএনটা যদি আমরা সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন না করি, তাহলে ওখানে র‍্যাবটা হয়ে যায়। সেজন্য এটা আমাদের জরুরি।’

এর আগে নোট অব ডিসেন্ট ও জনমত যাচাই-বাছাইয়ের বিষয়ে বিরোধী সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যান্য বিষয়গুলো নোট অব ডিসেন্টেরগুলো আমার মনে হয় আমি অ্যাড্রেস করেছি।’

এ সময় তিনি বলেন, ‘মাননীয় বিরোধী নেতার বক্তব্যের জবাব দেই—র‍্যাব বিলুপ্ত চেয়েছিলেন, কিন্তু কারও দাবি ছিল না আরেকটি সংস্থা করার। ঠিক এটা তো সমাজের দাবি, সরকারের পরিচালনার স্বার্থে চাহিদা এবং যুগোপযোগী করার জন্য আমরা করছি।’




ভার‌তে ব্রিকস স‌ম্মেল‌নে যা‌চ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী : হুমায়ুন কবির

ভার‌তে ব্রিকস স‌ম্মেল‌নে যা‌চ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী : হুমায়ুন কবির
ছবি সংগৃহীত।

আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তিনি বলেছেন, যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে ভারতে সরকারপ্রধানের দ্বিপাক্ষিক সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন হুমায়ুন কবির।

আজ (বৃহস্পতিবার) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

হুমায়ুন কবির ব‌লেন, কীভাবে যাবে? বাংলাদেশ সরকারের কাউকে কি আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে? প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

দি‌ল্লি সফরের ক্ষে‌ত্রে বাংলা‌দেশের বহুপক্ষীয় ফোরা‌মে অংশগ্রহ‌ণের চাইতে দ্বিপাক্ষিক সফরে জোর দেওয়া হ‌চ্ছে জা‌নি‌য়ে প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক সফর ও আলোচনার ওপরই বেশি জোর দিচ্ছি। যখন পরিবেশ অনুকূল হবে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা বজায় থাকবে, তখন দ্বিপাক্ষিক সফর হবে। এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।

আসন্ন ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান‌কে অংশগ্রহ‌ণের জন‌্য ভার‌তের প্রধানমন্ত্রী ন‌রেন্দ্র মো‌দি আমন্ত্রণ জা‌নি‌য়ে‌ছি‌লেন। ত‌বে ওই আমন্ত্রণপ‌ত্রে তা‌রেক রহমান‌কে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ না ক‌রে শুধুমাত্র বিমস‌টে‌কের চেয়ার  হি‌সে‌বে আমন্ত্রণ জানা‌নো হয়, যা ভা‌লোভা‌বে নেয়‌নি ঢাকা।

গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নি‌য়ে এক প্রশ্নের জবা‌বে প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, আমাদের জাতীয় স্বার্থ যেখানেই জড়িত, সেখানেই আমরা গুরুত্ব ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করব। আনন্দবাজার পত্রিকা যাই বলুক না কেন, আমি আমার দেশের স্বার্থ ও আনন্দের কথা ভাবব।

বাণিজ্য ইস‌্যু‌তে আরেক প্রশ্নের জবা‌বে তি‌নি ব‌লেন, বাণিজ্য নিয়ে দ্বিপাক্ষিক আলাপ-আলোচনা চলছে। তবে এই মুহূর্তে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা নতুন আপডেট দেওয়ার মতো কিছু নেই। 
রো‌হিঙ্গা সমস‌্যার সমাধান নি‌য়ে হুমায়ুন ক‌বির ব‌লেন, এই ধরনের জটিল বিষয়ে তো হুট করে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া যায় না। ধৈর্য ধরতে হবে, তবে কূটনৈতিক তৎপরতা দ্রুত গতিতে চালাতে হবে।  আমরা আগামীকালই এটা সমাধান করে ফেলব—এমন দাবি হয়তো করা যাবে না, তবে আমরা আশাবাদী যে দ্রুতই একটি বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের দিকে আমরা এগিয়ে যেতে পারব।