পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের ঘোষিত আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক ব্যতিক্রমধর্মী বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে উপজেলার সাদেক মস্তান (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ও চট্টগ্রাম উত্তর বন বিভাগের কুমিরা রেঞ্জের সহযোগিতায় উপজেলার ১৩০টি সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের মাঝে ২০ হাজার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, এই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে আরও ৩০ হাজার চারা বিতরণ করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পলাশ চৌধুরী।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক। তিনি বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তন বর্তমানে বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি। এই সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই দেয় না, এটি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ অত্যন্ত প্রয়োজন।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পিএইচটি সেন্টারের তত্ত্বাবধায়ক মো. শহীদ উল্ল্যাহ। তিনি বলেন, “বৃক্ষ শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, এটি মানুষের জীবন, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সামাজিক সংগঠনগুলোর মাধ্যমে এ ধরনের উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
সভাপতির বক্তব্যে লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, “সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন শুধু সমাজসেবামূলক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা শুধু চারা বিতরণ নয়, প্রতিটি গাছের সঠিক পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সিনিয়র সহসভাপতি আলহাজ রাজু কামাল, সহসভাপতি আলহাজ খোরশেদ আলম ও আলহাজ এ কে এম মসিউদ্দৌলা, সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু, কৃষি, বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মাস্টার ইকবাল হুসাইন, অধ্যাপক নুরুল গনি চৌধুরী এবং সাদেক মস্তান (রহ.) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু জাফর মোহাম্মদ ছাদেক।
বক্তারা বলেন, বৃক্ষরোপণকে জাতীয় আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি মানুষ যদি বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নেয়, তাহলে পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তারা এই মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সব সামাজিক ও মানবিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী ১৩০টি সামাজিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের হাতে সনদপত্র ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং তিন শতাধিক সমাজকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি পরিবেশ সংরক্ষণে সামাজিক সম্পৃক্ততার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে।