ফটিকছড়ি বিএনপিতে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান, এক কাতারে সরওয়ার-আজিমউল্লাহ্
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়ি বিএনপিতে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান, এক কাতারে সরওয়ার-আজিমউল্লাহ্

ফটিকছড়ি বিএনপিতে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্বের অবসান, এক কাতারে সরওয়ার-আজিমউল্লাহ্
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব ও অভ্যন্তরীণ মতভেদ ঘুচিয়ে এক কাতারে দাঁড়িয়েছেন ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিমউল্লাহ্ বাহার। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শীর্ষ এই দুই নেতার ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ফটিকছড়ি বিএনপির রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌরসভা বিএনপি এবং অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে এই দুই নেতাকে একসঙ্গে দেখা যায়। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিএনপির প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর বলেন, "আমি সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে এখানে এসেছি। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল আজিমউল্লাহ্ বাহারের নেতৃত্বে আমাদের নেতাকর্মীরা সুসংগঠিত। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফটিকছড়িতে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত হবে।"

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) আজিমউল্লাহ্ বাহার বলেন, "অতীতের সব ভুল-ভ্রান্তি ভুলে আমরা এখন একই লক্ষ্যে অবিচল। একসময় আমাদের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দল এখন সরওয়ার আলমগীরকে বেছে নিয়েছে। আমরা সেই সিদ্ধান্তকে সাদরে গ্রহণ করেছি। এখন আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই; লক্ষ্য একটাই—ফটিকছড়িতে দলের বিজয়।"

মিলাদ মাহফিলে উপজেলা বিএনপির সদস্য জহির আজম চৌধুরী, বিএনপি নেতা সরওয়ার হোসেন, নুরুল ইসলাম তালুকদার, অ্যাডভোকেট আবছার উদ্দিন হেলাল, হোসাইন আহমদ মিয়াজী, শহীদুল আজমসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বলছেন, শীর্ষ নেতাদের এই মিলন ও কোলাকুলির মধ্য দিয়ে ফটিকছড়ি বিএনপিতে দীর্ঘদিনের অস্বস্তিকর পরিস্থিতির অবসান ঘটল।
 




রাউজানে ৪ রেস্তোরাঁকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা

রাউজানে ৪ রেস্তোরাঁকে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রধান ফটক এলাকার খাবার দোকানগুলোতে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ৪টি রেস্তোরাঁকে সর্বমোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রাহাতুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানকালে চুয়েট গেট সংলগ্ন বাচা বাবা হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং আইমিন’স কিচেনকে ৩০ হাজার, জেস্টো রেস্টুরেন্টকে ২০ হাজার এবং চাঁদপুর হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, রেস্তোরাঁ গুলোতে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ, বাসি খাবার পরিবেশন, খাবারে ক্ষতিকর রঙ ও পোড়া তেলের ব্যবহার এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত ইন্ডাস্ট্রিয়াল লবণ বিক্রির প্রমাণ মেলে।

অভিযান পরিচালনাকালে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন, রাউজান উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মো. ইলিয়াস এবং নোয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আনিছুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।




গরুর রশিতে পঁচিয়ে সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনা: মালিকপক্ষের হামলায় পুলিশের এএসআইসহ আহত ৪

গরুর রশিতে পঁচিয়ে সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনা: মালিকপক্ষের হামলায় পুলিশের এএসআইসহ আহত ৪
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর থানা সংলগ্ন গহিরা-হেয়াকো সড়কের ওপর গরু চরানোর সময় গরুর সঙ্গে বাঁধা রশিতে একটি সিএনজি অটোরিকশা আটকে উল্টে যায়। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি অটোরিকশাও উল্টে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গরুর মালিকপক্ষের হামলায় তিন যাত্রী ও এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আছরের পর ভূজপুর থানা সংলগ্ন উত্তর পাশে গহিরা-হেয়াকো সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কের ওপর অবৈধভাবে গরু চরানোর সময় গরুর রশিতে চলন্ত একটি সিএনজি অটোরিকশা আটকে যায়। এতে সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে পড়ে। একই সময় সেটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি অটোরিকশাও উল্টে যায়।

এ নিয়ে উভয় গাড়ির যাত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় গরুর মালিকপক্ষের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে গরুর মালিক ও তাঁর কয়েকজন প্রতিবেশী লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আলী আহাম্মদ (পিতা: আবুল হাসেম), মো. জিহান (পিতা: মো. জামাল) ও মো. পারভেজ (পিতা: আমির হোসেন) আহত হন। এ ছাড়া এক অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীও আহত হয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের সঙ্গেও তর্কে জড়ায় এবং গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাকালে ভূজপুর থানার এএসআই মো. মিজান আহত হন। পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের হাতে থাকা কাঁচির আঘাতে তাঁর হাতের বাহু কেটে যায়। পরে তাঁর বাহুতে সেলাই দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মো. ফুল মিয়া (৪০), হুসাইন আহমদ গুরু (২৫) ও মোহাম্মদ নয়ন (২২) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে ফুল মিয়া ও হুসাইন আহমদ গুরু পূর্ব ভূজপুর সওদাগরপাড়া এলাকার শামছুল আলমের ছেলে এবং মোহাম্মদ নয়ন একই এলাকার আবুল আজিজের ছেলে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ভূজপুর থানায় মামলা হয়েছে (মামলা নং-০৬, তারিখ: ২০/০৯/২০২৬ খ্রি.)।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভূজপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে নাজিরহাট ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মাথা, ঘাড়, পা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও ফাটা জখম হয়েছে। কয়েকজনকে সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং একজনের পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় গরুর মালিকপক্ষ পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ায় এবং গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় নিয়ে আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে।’




ফটিকছড়িতে মাদক, কিশোর অপরাধ রোধে এলাকাবাসীর র‍্যালি ও সমাবেশ

ফটিকছড়িতে মাদক, কিশোর অপরাধ রোধে এলাকাবাসীর র‍্যালি ও সমাবেশ
ছবি সংগৃহীত।

মাদক, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সিএন্ডবি মাঠে পাইন্দং সচেতন নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ফটিকছড়ি সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে মিলিত হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্য আবু আজম তালুকদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন পাইন্দং ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রেজাউল করিম চৌধুরী, ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম।

উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাস্টার নুরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাবুল আলম চৌধুরী, প্রবীণ বিএনপি নেতা এম. এন. নুরুল আনোয়ার, বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা বজল আহমদ, অধ্যাপক (অব.) এনামুল হক চৌধুরী, ফটিকছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী জ্যোতি কর খীসা, উপাধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন, উত্তর জেলা যুবদলের সহ- সভাপতি মনছুর আলম চৌধুরী এবং পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি লায়ন মাসুদুল আলম চৌধুরী। এ ছাড়াও পাইন্দং ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দীন সুমন, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আবদুল মালেক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন, কৃষক দলের সহ- সভাপতি শামসুল আলম, বিএনপি নেতা রহিম উদ্দিন, যুবদল নেতা এম. আলাউদ্দীন ও মানিক হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি বাবর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আয়াজ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈমুল বাশার রিয়াদ, ছাত্রনেতা আরিফ, উপজেলা শ্রমিকদলের দপ্তর সম্পাদক আমিনুল হক সুমনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।