প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হাইতি
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন

প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হাইতি

প্রথম দল হিসেবে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল হাইতি
ছবি সংগৃহীত।

প্রথমবারের মত অনুষ্ঠিত হওয়া ৪৮ দলের বিশ্বকাপ থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ হাইতি। ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩-০ গোলের পরাজয়ে তাদের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।

বিশ্বকাপে অনেক আশা-প্রত্যাশা নিয়ে এসেছিল হাইতিয়ানরা। বাছাইপর্বেও বেশ ভাল করেছিল তারা। কিন্তু টুর্নামেন্টে এসে তার প্রতিচ্ছবি দেখাতে পারলো না। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হারলেও সেই ম্যাচে ভাল পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল সেবাস্তিয়েন মিনিয়ের দল। আশা ছিল হয়তো ব্রাজিলের বিপক্ষে এক পয়েন্ট হলেও তারা পাবে।

কিন্তু ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৩ গোল খেয়ে ওখানেই ম্যাচ হেরে বসে তারা। দ্বিতীয়ার্ধে চেষ্টা চালালেও আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি। শেষ ম্যাচ মরক্কোর সঙ্গে জিতলেও তাদের পয়েন্ট হবে তিন।

স্কটল্যান্ড ব্রাজিলের সঙ্গে হারলে তাদেরও পয়েন্ট হবে তিন। হাইতির সঙ্গে স্কটল্যান্ড জেতায় হেড টু হেডে স্কটিশরা এগিয়ে থাকবে। অর্থ্যাৎ, গ্রুপে আর তৃতীয় হওয়ারও সুযোগ থাকছে না হাইতির। এসব সমীকরণেই হাইতির বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল।




স্টার্ককে শরিফুলের জবাব, বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ১০১ রানের লিড

স্টার্ককে শরিফুলের জবাব, বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ১০১ রানের লিড
ছবি সংগৃহীত।

৬৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে আত্মসমর্পণ করেছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিতে দেয়নি তারা। শরিফুল ইসলাম বল হাতে একের পর এক আগুনের গোলা ছুড়েছেন। তাতে ক্যামেরন গ্রিন বাদে পুড়েছে অন্যরা। এই ব্যাটারের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকরা শতাধিক রানের লিড নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে।

২২ বলের মধ্যে ৫ উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক, বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেন তিনি ছয় উইকেট নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার এই পেসারের আগুন বোলিংয়ের বিপরীতে পাল্টা জবাব দিয়েছেন শরিফুল। ইনজুরি কাটিয়ে ইবাদত হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন তিনি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করার পর এই পেসারও নিলেন ছয় উইকেট। অস্ট্রেলিয়া অবশ্য দুই উইকেট হাতে রেখে দিন শেষ করেছে। ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তাদের, প্রথম ইনিংসে লিড ১০১ রানের।

শরিফুল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাকাই টেস্টে পাঁচ উইকেট পেয়ে গেলেন। নিজের নবম ও দলের ৩২তম ওভারে তিন বলের মধ্যে বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে এই কীর্তি গড়েন। পরের ওভারে তিনি মিচেল স্টার্ককে ফেরান। ৫ বলে তিন উইকেট নিলেন শরিফুল। ১৪৮ রানে ৮ উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সব মিলিয়ে সাত উইকেট পড়ে। বাংলাদেশকে ৬৪ রানে অলআউট করার পর অজিরা চা বিরতির আগে ৩ উইকেটে ৫০ রান করে। শরিফুল ইসলামের জোড়া আঘাতে তাদের তিনটি উইকেট পড়ে ৪১ রানের মধ্যে। তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে উল্টো অস্বস্তিতে পড়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙেন  শরিফুল।

এর আগের সেশনে বাংলাদেশ দারুণ বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরার আভাস দিয়েছিল। তৃতীয় ওভারে ম্যাট রেনশকে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে একাদশে ডাক পেয়ে মাত্র ৮ রান করেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

তারপর অষ্টম ওভারে শরিফুল বল হাতে নেন। দ্বিতীয় বলেই অজি ওপেনার ট্র্যাভিস হেডকে ফেরান তিনি। ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন হেড, করেন মাত্র ২২ রান। চার বলের মধ্যে দ্বিতীয় উইকেট পান শরিফুল। ৯ বলে চার রানে বোল্ড হয়ে ক্যারিয়ারটাই হুমকির মুখে পড়ে গেল মার্নাস লাবুশেনের। ৪১ রানে তিন উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশও।

এর আগে মিচেল স্টার্কের বোলিং তোপে পড়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। তারপর বল হাতেও বাজিমাত করেন প্রথম ওভারেই। শেষ সেশনে তিনি দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে নিয়ে গ্রিন ও স্মিথের ৭৭ রানের জুটি ভেঙে দেন। স্মিথের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন করলে আম্পায়ার বাংলাদেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত জানান। স্মিথ রিভিউ নিলে আম্পায়ার্স কলে মাঠ ছাড়েন। ৬ চারে ৭৪ বলে ৪২ রান করেন তিনি। ১১৮ রানে অস্ট্রেলিয়া তাদের চতুর্থ উইকেট হারায়।

গ্রিনের সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারি লিড বাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এই জুটি ২৭ রানের বেশি করতে পারেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যারিকে (৫) হাসান মাহমুদের ক্যাচ বানান। তারপর ব্যাটিং ধস। তিন রানে চার উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

পরের ওভারে শরিফুলের বলে গোল্ডেন ডাক মারেন ওয়েবস্টার। এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত রিভিউয়ে পাল্টাতে পারেননি তিনি। দুই বল পর কামিন্সকে খালি হাতে সাজঘরে ফেরত পাঠান লিটনের ক্যাচ বানিয়ে। নতুন ব্যাটার কামিন্স ১ রানে শরিফুলের কাছে বোল্ড হন।

বাংলাদেশের ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া স্টার্ককে নিজের ষষ্ঠ শিকার বানান শরিফুল। গ্রিন ও নাথান লায়ন অপ্রতিরোধ্য থেকে আর বিপদ বাড়তে দেননি। ৪২ বলে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ১৭ রানের। গ্রিন ৫১ রানে অপরাজিত, লায়ন খেলছেন ১০ রানে। শরিফুল ১১ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন। কাল নিশ্চিতভাবে নিজের পকেটে আরও উইকেট পুরতে চাইবেন তিনি। 




লা রোহার বিশ্বজয়: আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে ফুটবল সাম্রাজ্যের নতুন রাজা স্পেন!

লা রোহার বিশ্বজয়: আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে ফুটবল সাম্রাজ্যের নতুন রাজা স্পেন!
ছবি সংগৃহীত।

মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউ জার্সি থেকে ১৬ বছর পর ফুটবল বিশ্বের রাজদণ্ড আবারও ফিরে এলো ইউরোপের টিকিটাকায়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার রেকর্ডবুক ও কোটি ভক্তের স্বপ্নকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফুটবলের নতুন রাজা এখন স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধকর, গতি আর কৌশলের এক চরম প্রদর্শনী শেষে লিওনেল স্কালোনির ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরল ‘লা রোহা’। ২০১০ সালের পর এটি তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। বাংলাদেশ সময় গত রাত ১টায় শুরু হওয়া এই ‘মহাযুদ্ধ’ কোটি দর্শককে টেলিভিশনের পর্দায় আটকে রেখেছিল। তবে মাঠের ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে শেষ হাসি হেসেছে স্প্যানিশ যুবারাই। লুই দে লা ফুয়েন্তের এই দলটির নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের কাছে ভাঙল আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।


মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তারার মেলা ও ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষা:
নিউ ইয়র্কের আকাশ গত দুই দিনের আবহাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে আজ ছিল পুরোপুরি রৌদ্রময়। বিকেল তিনটায় নিউ জার্সির এই ছাদহীন স্টেডিয়ামে যখন মেসি-ইয়ামালরা মুখোমুখি হন, তখন লাখো দর্শককে রোদে পুড়েই উপভোগ করতে হয়েছে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। বাংলাদেশ মুদ্রায় কয়েক লাখ টাকার সর্বনিম্ন টিকিটের এই ম্যাচের গ্যালারির প্রতিটি আসন ছিল পরিপূর্ণ। সকাল থেকেই স্টেডিয়ামমুখী লাখো মানুষের স্রোতে আর্জেন্টিনার সমর্থক কিছুটা বেশি চোখে পড়লেও স্প্যানিশ দর্শকরাও কম যাননি। টাইমস স্কয়ারের মতো স্টেডিয়ামের চারপাশ মাতিয়ে রেখেছিলেন তারা। ফুটবলের এই মহোৎসবে বিনোদনের রঙ ছড়াতে হলিউড মেগাস্টার টম ক্রুজ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ফুটবলকে বৈশ্বিক বার্তার মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আর বিরতির জমকালো হাফটাইম শো-তে মঞ্চ কাঁপান পপ তারকা ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, শাকিরা এবং জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। ম্যাচ শুরুর আগে সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড। এবারের সফল আয়োজনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের মেয়াদকালেই আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফেরানোর জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ‘দারুণ প্রস্তাব’ দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। যদিও ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী ২০৩৮ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সুযোগ নেই। ম্যাচ নিয়ে নিজের ভবিষ্যদ্বাণীতে ট্রাম্প বলেছিলেন, “মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা কঠিন,” কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ট্রাম্পের সেই বাজি টিকল না।


প্রথমার্ধে স্পেনের দাপট, লিসান্দ্রোর চোট:
ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠজুড়ে দাপট দেখিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ বল পজেশন আর ৩১৩টি নিখুঁত পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনা দিতে পেরেছে মাত্র ১৫৫টি পাস। প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার তিন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ মিলে মাত্র ১৭ বার বলে পা ছোঁয়াতে পেরেছিলেন। ম্যাচের ৫ মিনিটেই স্পেনকে এগিয়ে নিতে পারতেন লামিনে ইয়ামাল। ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বল ইয়ামাল নিয়ন্ত্রণে নিলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় গোল লাইনের সামনে থেকে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। ৭ মিনিটে সিমন দ্রুত নিজের লাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে মেসিকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে রুখে দেন। ৩৯ মিনিটে ফাবিয়ানের পাস থেকে ওয়ারজাবালের জোরালো শট নিচে নেমে এসে রুখে দেন এমি মার্টিনেজ। ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দুই মিনিট পরেই ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা, তার বদলে নামেন ওতামেন্দি।


দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনির ছক ও ওতামেন্দির প্রতিরোধ:
দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি দলে পরিবর্তন এনে পারেদেসকে নামালেও শুরুতেই তিনি রদ্রিকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির শেষ মুহূর্তের দারুণ ট্যাকল নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচায় আর্জেন্টিনাকে। ৬২ মিনিটে স্পেন পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে মাঠে নামালে আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ইয়ামালের বাঁ পায়ের চমৎকার ক্রস থেকে তোরেসের নিচু হেড লুফে নেন মার্টিনেজ। ১৯৬৬ সালে রেকর্ড নথিভুক্ত করার পর থেকে প্রথম দল হিসেবে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে পুরো ৯০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে না পারার অবাঞ্ছিত রেকর্ড গড়ে। এমি মার্টিনেজ একে একে স্পেনের ১০টি শট রুখে দিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। তবে ইনজুরি টাইমের ৩ মিনিটে কুবার্সিকে বেপরোয়া ট্যাকল করে চেলসি তারকা এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় হলুদ কার্ড দেখতে হয় কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও।


অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের সেই ‘সোনার হরিণ’ গোল:
১০ জনের আর্জেন্টিনাকে পেয়ে অতিরিক্ত সময়ে চেপে ধরে স্পেন। ৯৬ মিনিটে ওতামেন্দির চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করে মেরিনোর শট মার্টিনেজ ব্লক করলে ফিরতি বলে নিকো উইলিয়ামস জালে জড়ালেও ভিএআরে ওতামেন্দির ওপর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ১০৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্থের মাত্র ২৭ সেকেন্ডে পেদ্রো পোরোর ক্রসে নিকো উইলিয়ামসের সহায়তায় স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস আলতো ছোঁয়ায় বল আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে দেন। ২০১৪ সালে জার্মানির গোৎসের পর তোরেসই প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করলেন।
 




ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ছবি সংগৃহীত।

নকআউটে বেশ ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে, মিশর, তারপর সুইজারল্যান্ড। প্রত্যেকেই নাভিশ্বাস ছুটিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালেও তারা পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেষ বলে কথা নেই। শেষ দিকে আবার বাজিমাত করল তারা। ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের আক্ষেপকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা


ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।


৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ল আর্জেন্টিনা। অ্যান্থনি গর্ডন ৫৫ মিনিটে তাদের জালে বল ঠেলে দিলেন। ইল্যান্ড এগিয়ে গেল।

ইংলিশ খেলোয়াড়রা ডান দিক থেকে গতি বাড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। কেইন নিচে নেমে রজার্সকে বল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অ্যাক্রোব্যাটিক ভঙ্গিতে বলটি ক্লিয়ার করে দেন। আলগা বলটি পেয়ে রাইস রজার্সকে খুঁজে নেন। তার দুর্দান্ত ক্রস বক্সের মধ্যে ঢোকে। ব্যাকপোস্টে গর্ডন মলিনার পেছন থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।

এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টাইন কিপারের লম্বা পাসের পর ডান দিক থেকে ডি বক্সে আক্রমণ চালায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেখানে মেসি ও আলভারেজের দারুণ বোঝাপড়ায় আলভারেজ পোস্টে একটি জোরালো শট নেন।পিকফোর্ড চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ফিরতি শটটি জালের বাইরের অংশে লাগলেও সেটি সম্ভবত ডিফেন্ডারের গায়ে লেগেছিল এবং রেফারির পক্ষ থেকে কর্নারের সংকেত দেওয়া হয়।

আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণভাগের কোনো নৈপুণ্য দেখা যায়নি। লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনরা এই সময়ে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য স্কোরে। প্রথম ৪৫ মিনিটে ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি।

হাইড্রেশন ব্রেকের আগেই ১১ ফাউল। আর্জেন্টিনার ৬টির বিপরীতে ইংল্যান্ডের পাঁচ। প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতির আগে ম্যাচে শারীরিক লড়াইটাই বেশি হয়েছে। হাফটাইমের আগে বাকি সময়েও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথমার্ধ শেষে দুই দল মোট ১৯টি ফাউল করেছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ১২টি, বাকি সাতটি ইংল্যান্ডের। তবে রেফারি ইসমাইল বেশ সংযত ছিলেন। মাত্র দুইবার হলুদ কার্ড বের করেছেন তিনি, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের একজন করে সেটা দেখেছেন।

প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের কেউই লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। এমনকি শট নিতেও দেখা যায়নি কাউকে। দুই দলই একে অন্যের অর্ধে গিয়ে আক্রমণ চালালেও সুবিধা করতে পারেনি। দুই কিপারকেও বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি।

এই সময়ে আর্জেন্টিনা ৫৮ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল। তাদের প্রধান তারকা লিওনেল মেসিও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পানি পানের বিরতির আগে তার ফ্রি কিক জর্ডান পিকফোর্ড পাঞ্চ করে কর্নার বানান। কর্নারেও শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এনজো ফার্নান্দেজ পিকফোর্ডকে ফাউল করায় সেটি কাজে লাগেনি।

৩৩ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ইংল্যান্ডের ফ্রি কিক ঠেকাতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ডেক্লান রাইসের ফ্রি কিকে স্টোনসের হেড সাইড নেটে লাগে। দুই মিনিট পর ইংল্যান্ডের ফাইনাল থার্ডে তিন চারজন খেলোয়াড়ের বাধার মুখে পড়েন মেসি। এলিয়ট অ্যান্ডারসন তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রি কিক থেকে মেসির পাস  ধরে ইংল্যান্ডের বক্স থেকে ফিরে আসা বলে শট নেন এনজো। ৩৯ মিনিটে তার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

তিন মিনিট পর রজার্সকে পেছন থেকে টেনে ধরে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে তিন মিনিটের ইনজুরি টাইমেও কোনো দল লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি। তবে বিরতি থেকে ফিরে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।নকআউটে বেশ ভুগতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। কেপ ভার্দে, মিশর, তারপর সুইজারল্যান্ড। প্রত্যেকেই নাভিশ্বাস ছুটিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের উদাহরণ তৈরি করে আর্জেন্টিনা। সেমিফাইনালেও তারা পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেষ বলে কথা নেই। শেষ দিকে আবার বাজিমাত করল তারা। ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের আক্ষেপকে আরও বাড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে আলবিসেলেস্তেরা


ইংল্যান্ডের কাছে গোল হজমের পর একাধিক সুযোগ নষ্ট হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত গোল শোধ দিলো আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিটে এনজো করেন সমতা ফেরানো গোল। তারপর ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্টিনেজ গোল করলেন। ৯২ মিনিটে ২-১ গোলে এগিয়ে গেল আর্জেন্টিনা।

৬৪ মিনিটে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের বদলি নেমেই ম্যাচে ছাপ রাখেন গঞ্জালেজ। পরের মিনিটে ডান দিক থেকে আসা একটি লম্বা বল হেড করেছিলেন। কিন্তু ইংল্যান্ড বিপদমুক্ত করে।

৬৯ মিনিটে ডানদিক থেকে মেসির ক্রসে দারুণ এক হেড করেছিলেন গঞ্জালেজ। কিন্তু পিকফোর্ড নিচু ডাইভে অবিশ্বাস্য সেভে আর্জেন্টিনাকে হতাশ করেন।


৭২ মিনিটে আর্জেন্টিনা তিনটি পরিবর্তন আনে। সিমিওনে,  মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে দে পল, মোন্তিয়েল ও ওতামেন্দিকে নামান স্কালোনি।

চার মিনিট পর দে পলের বাড়ানো ক্রসে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরের মিনিটে গঞ্জালেজের হেড গোলবারের পাশ দিয়ে যায়। লাইন্সম্যান ততক্ষণে অফসাইডের পতাকা ওড়ান।

৮৪ মিনিটে এনজোর শট গোলপোস্টের ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে পাঠান পিকফোর্ড। পরের মিনিটে কর্নার থেকে মেসির বাড়ানো বলে ২৫ গজ দূর থেকে শট নেন তিনি। বল পিকফোর্ডের নাগালের বাইরে দিয়ে জালে জড়ায়।


বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দ্বিতীয়ার্ধে পিছিয়ে পড়ল আর্জেন্টিনা। অ্যান্থনি গর্ডন ৫৫ মিনিটে তাদের জালে বল ঠেলে দিলেন। ইল্যান্ড এগিয়ে গেল।

ইংলিশ খেলোয়াড়রা ডান দিক থেকে গতি বাড়িয়ে পাল্টা আক্রমণ চালায়। কেইন নিচে নেমে রজার্সকে বল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজ অ্যাক্রোব্যাটিক ভঙ্গিতে বলটি ক্লিয়ার করে দেন। আলগা বলটি পেয়ে রাইস রজার্সকে খুঁজে নেন। তার দুর্দান্ত ক্রস বক্সের মধ্যে ঢোকে। ব্যাকপোস্টে গর্ডন মলিনার পেছন থেকে বল কেড়ে নিয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান।

এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে আর্জেন্টাইন কিপারের লম্বা পাসের পর ডান দিক থেকে ডি বক্সে আক্রমণ চালায় বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। সেখানে মেসি ও আলভারেজের দারুণ বোঝাপড়ায় আলভারেজ পোস্টে একটি জোরালো শট নেন।পিকফোর্ড চমৎকারভাবে বাঁচিয়ে দেন। ফিরতি শটটি জালের বাইরের অংশে লাগলেও সেটি সম্ভবত ডিফেন্ডারের গায়ে লেগেছিল এবং রেফারির পক্ষ থেকে কর্নারের সংকেত দেওয়া হয়।

আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে দুই দলের আক্রমণভাগের কোনো নৈপুণ্য দেখা যায়নি। লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনরা এই সময়ে কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য স্কোরে। প্রথম ৪৫ মিনিটে ছিল ফাউলের ছড়াছড়ি।

হাইড্রেশন ব্রেকের আগেই ১১ ফাউল। আর্জেন্টিনার ৬টির বিপরীতে ইংল্যান্ডের পাঁচ। প্রথমার্ধের পানি পানের বিরতির আগে ম্যাচে শারীরিক লড়াইটাই বেশি হয়েছে। হাফটাইমের আগে বাকি সময়েও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রথমার্ধ শেষে দুই দল মোট ১৯টি ফাউল করেছে। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা করেছে ১২টি, বাকি সাতটি ইংল্যান্ডের। তবে রেফারি ইসমাইল বেশ সংযত ছিলেন। মাত্র দুইবার হলুদ কার্ড বের করেছেন তিনি, আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের একজন করে সেটা দেখেছেন।

প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দলের কেউই লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। এমনকি শট নিতেও দেখা যায়নি কাউকে। দুই দলই একে অন্যের অর্ধে গিয়ে আক্রমণ চালালেও সুবিধা করতে পারেনি। দুই কিপারকেও বড় কোনো পরীক্ষা দিতে হয়নি।

এই সময়ে আর্জেন্টিনা ৫৮ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল। তাদের প্রধান তারকা লিওনেল মেসিও ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। পানি পানের বিরতির আগে তার ফ্রি কিক জর্ডান পিকফোর্ড পাঞ্চ করে কর্নার বানান। কর্নারেও শট নেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। এনজো ফার্নান্দেজ পিকফোর্ডকে ফাউল করায় সেটি কাজে লাগেনি।

৩৩ মিনিটে বিপজ্জনক জায়গা থেকে ইংল্যান্ডের ফ্রি কিক ঠেকাতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে। ডেক্লান রাইসের ফ্রি কিকে স্টোনসের হেড সাইড নেটে লাগে। দুই মিনিট পর ইংল্যান্ডের ফাইনাল থার্ডে তিন চারজন খেলোয়াড়ের বাধার মুখে পড়েন মেসি। এলিয়ট অ্যান্ডারসন তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ করে ম্যাচের প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রি কিক থেকে মেসির পাস  ধরে ইংল্যান্ডের বক্স থেকে ফিরে আসা বলে শট নেন এনজো। ৩৯ মিনিটে তার শক্তিশালী শট অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

তিন মিনিট পর রজার্সকে পেছন থেকে টেনে ধরে হলুদ কার্ড দেখেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। প্রথমার্ধে তিন মিনিটের ইনজুরি টাইমেও কোনো দল লক্ষ্যে শট রাখতে পারেনি। তবে বিরতি থেকে ফিরে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড।