সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
ছবি সংগৃহীত।


অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আর্জেন্টিনা দ্বিতীয় গোলের দেখা পেল। হুলিয়ান আলভারেজের দর্শনীয় গোলে ২-১ এ এগিয়ে গেল তারা। ১১২ মিনিটে বক্সের বাইরে বেশ দূর থেকে তার বাঁকানো শট দূরের পোস্টের কোণা দিয়ে জালে জড়ায়। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে লাউতারো মার্টিনেজ তৃতীয়বার জাল কাঁপান।
এর আগে আর্জেন্টিনা দশম মিনিটে এগিয়ে যায়। নবম মিনিটে কর্নার পায় তারা। একেবারে মাপা শট নেন মেসি। বেশ লম্বা সুইস ডিফেন্ডারকে এড়িয়ে গোল পেতে হলে অনেকদূর লাফিয়ে উঠতে হতো অ্যালিস্টারকে। তবে তার সামনে থাকা ম্যানুয়েল আকানজির লাফিয়ে বল না পাওয়ার সুযোগটা কাজে আসে আর্জেন্টিনার। দ্বিতীয় বার ঘেষে প্রবেশ করা বলে গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের তাকিয়ে দেখা ছাড়া কিছুই করার ছিল না। ওই এক গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে সুযোগ তৈরি করেছিল সুইজারল্যান্ড। এম্বোলো ডান দিক থেকে একটি থ্রু বল পেয়ে গোলের দিকে ছুটে যান। তিনি বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে বলটি বাড়িয়ে দেন। এনদোয়ে দ্রুত গোলে শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লক করে তাকে আটকে দেন। তবে গোল হলেও সেটি হতো না। কারণ এর আগেই লাইন্সম্যান এম্বোলোর অফসাইডের কারণে পতাকা তুলেছিলেন।

 

সুইজারল্যান্ড আবার আক্রমণে ওঠে। বাঁ দিক থেকে বল ভেসে আসে বক্সের ভেতরে। এনদোয়ে দূরের পোস্ট লক্ষ্য করে হেড করেন। কিন্তু মার্টিনেজ ডান দিকে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি আটকে দেন


সুইস মিডফিল্ডার বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে এক জোরালো শট নেন। বলটি মার্টিনেজের সামনে এসে অদ্ভুতভাবে ড্রপ খেলেও তিনি বেশ দক্ষতার সঙ্গে সেই গতিময় শটটি রুখে দেন।

লাল কার্ড পাওয়ার ঠিক আগে এনদোয়ে বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার এক ওয়ান-টু পাস খেলেন। ফিরতি পাসটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনদোয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন। কোণাকুনি শটে বলটি দূরের পোস্টে গিয়ে জড়ায়। সুইজারল্যান্ড দারুণভাবে ম্যাচে ফিরে আসে।

৬৭ মিনিটে গোল করে সুইজারল্যান্ড আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সমতা ফেরায়। ৫ মিনিট পর তারা ১০ জনের দলে পরিণত হলো। ৭২ মিনিটে তাদের ফরোয়ার্ড এম্বোলো দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেছেন। ৬৯ মিনিটে রেফারি প্রাথমিকভাবে এম্বোলোকে ফাউল করার কারণে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান। তবে ভিএআরে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শ হয়নি। ফাউলের অভিনয় করার কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন সুইস ফরোয়ার্ড। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় এম্বোলোকে।


জয়সূচক গোলের খোঁজে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজ একটি ক্রস রুখে দিয়ে বাঁ প্রান্ত থেকে স্লাইড করেন। গোলমুখের সামনে বল উড়ে যায়। ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে যায়।

যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পান মেসি। ডানদিকে কাট করে তিনি দূরের পোস্ট দিয়ে শট নেন। কিন্তু বিপজ্জনকভাবে বল বাঁক খেয়ে পোস্টের পাশ দিয়ে মাঠের বাইরে যায়। শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে জটলার ভেতরে বল পায় আর্জেন্টিনা। কিন্তু লিসান্দ্রো মার্টিনেজের অ্যাক্রোবেটিক কিক কোবেল সহজেই আটকে দেন।

বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালের শেষ ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় ম্যাচ। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা লিড নিলেও শেষ অর্ধে সমতা ফেরায় সুইজারল্যান্ড। তারা শেষ ১৮ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনাকে আর এগিয়ে যেতে দেয়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা শেষে স্কোর ১-১। তাতে অতিরিক্ত আরও ৩০ মিনিট খেলা হবে।

৯৩ মিনিটে আলভারেজের সঙ্গে ওয়ান টু পাসে বক্সের মধ্যে বল পান আলমাদা। বাঁ দিক থেকে নেওয়া তার শট কোবেল রুখে দেন। দুই মিনিট পর আবারও আলমাদার দুর্দান্ত একটি শট। বক্সের বাইরে থেকে তার শক্তিশালী শট কোবেলকে পরাস্ত করলেও সাইডনেটে লাগে।

দুই মিনিটের মধ্যে আর্জেন্টিনার দুই খেলোয়াড় হলুদ কার্ড দেখেন। ফ্রুলারকে টেনে ধরে বুকড হন আলমাদা। পরের মিনিটে আকাঞ্জিকে ফাউল করে শাস্তি পান লাউতারো। সব শঙ্কা উড়িয়ে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায়।




আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় পঞ্চম মুশফিক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় পঞ্চম মুশফিক
ছবি সংগৃহীত।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ব্যাট হাতে অনন্য ধারাবাহিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার মুশফিকুর রহিম। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ১৬ হাজার ২৫২ রান করে বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় পঞ্চম স্থানে রয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটে মুশফিকের রানই সর্বোচ্চ। জাতীয় দলের হয়ে তার পরেই রয়েছেন তামিম ইকবাল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তামিমের মোট রান ১৫ হাজার ২৪৯।

২০০৫ সালে টেস্ট ক্রিকেট দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন মুশফিক। এরপর টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—তিন সংস্করণেই নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে ব্যাট হাতে খেলেছেন অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মুশফিক। ওয়ানডেতেও রয়েছে তার সমৃদ্ধ রেকর্ড। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি উইকেটের পেছনেও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার।

বর্তমান ক্রিকেটারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকায় মুশফিকের ওপরে রয়েছেন চারজন। তারা হলেন- ভারতের বিরাট কোহলি (২৮ হাজার ৫২৭), ইংল্যান্ডের জো রুট (২৩ হাজার ৭৪), ভারতের রোহিত শর্মা (২০ হাজার ৬৫২) এবং অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ (১৭ হাজার ৮৬৬)।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন মুশফিক। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার এই অর্জন দেশের ক্রিকেটের জন্যও গৌরবের।




স্টার্ককে শরিফুলের জবাব, বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ১০১ রানের লিড

স্টার্ককে শরিফুলের জবাব, বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ১০১ রানের লিড
ছবি সংগৃহীত।

৬৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে আত্মসমর্পণ করেছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। নিজেদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বনিম্ন রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিতে দেয়নি তারা। শরিফুল ইসলাম বল হাতে একের পর এক আগুনের গোলা ছুড়েছেন। তাতে ক্যামেরন গ্রিন বাদে পুড়েছে অন্যরা। এই ব্যাটারের অপরাজিত হাফ সেঞ্চুরিতে স্বাগতিকরা শতাধিক রানের লিড নিয়ে প্রথম দিনের খেলা শেষ করেছে।

২২ বলের মধ্যে ৫ উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক, বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেন তিনি ছয় উইকেট নিয়ে। অস্ট্রেলিয়ার এই পেসারের আগুন বোলিংয়ের বিপরীতে পাল্টা জবাব দিয়েছেন শরিফুল। ইনজুরি কাটিয়ে ইবাদত হোসেনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে অগ্নিমূর্তি ধারণ করেন তিনি। দলের হয়ে সর্বোচ্চ রান করার পর এই পেসারও নিলেন ছয় উইকেট। অস্ট্রেলিয়া অবশ্য দুই উইকেট হাতে রেখে দিন শেষ করেছে। ৮ উইকেটে ১৬৫ রান তাদের, প্রথম ইনিংসে লিড ১০১ রানের।

শরিফুল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাকাই টেস্টে পাঁচ উইকেট পেয়ে গেলেন। নিজের নবম ও দলের ৩২তম ওভারে তিন বলের মধ্যে বেউ ওয়েবস্টার ও প্যাট কামিন্সকে ফিরিয়ে এই কীর্তি গড়েন। পরের ওভারে তিনি মিচেল স্টার্ককে ফেরান। ৫ বলে তিন উইকেট নিলেন শরিফুল। ১৪৮ রানে ৮ উইকেট হারাল অস্ট্রেলিয়া।

দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সব মিলিয়ে সাত উইকেট পড়ে। বাংলাদেশকে ৬৪ রানে অলআউট করার পর অজিরা চা বিরতির আগে ৩ উইকেটে ৫০ রান করে। শরিফুল ইসলামের জোড়া আঘাতে তাদের তিনটি উইকেট পড়ে ৪১ রানের মধ্যে। তবে স্টিভ স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিনের পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে উল্টো অস্বস্তিতে পড়েছিল বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত এই জুটি ভাঙেন  শরিফুল।

এর আগের সেশনে বাংলাদেশ দারুণ বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরার আভাস দিয়েছিল। তৃতীয় ওভারে ম্যাট রেনশকে স্লিপে তানজিদ হাসান তামিমের ক্যাচ বানান তাসকিন আহমেদ। জেক ওয়েদারাল্ডের বদলে একাদশে ডাক পেয়ে মাত্র ৮ রান করেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার। ২২ রানে প্রথম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

তারপর অষ্টম ওভারে শরিফুল বল হাতে নেন। দ্বিতীয় বলেই অজি ওপেনার ট্র্যাভিস হেডকে ফেরান তিনি। ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড হন হেড, করেন মাত্র ২২ রান। চার বলের মধ্যে দ্বিতীয় উইকেট পান শরিফুল। ৯ বলে চার রানে বোল্ড হয়ে ক্যারিয়ারটাই হুমকির মুখে পড়ে গেল মার্নাস লাবুশেনের। ৪১ রানে তিন উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছিল বাংলাদেশও।

এর আগে মিচেল স্টার্কের বোলিং তোপে পড়ে মাত্র ৬৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। সর্বোচ্চ ১৪ রান করেন শরিফুল। তারপর বল হাতেও বাজিমাত করেন প্রথম ওভারেই। শেষ সেশনে তিনি দ্বিতীয় স্পেলে বল হাতে নিয়ে গ্রিন ও স্মিথের ৭৭ রানের জুটি ভেঙে দেন। স্মিথের বিরুদ্ধে এলবিডব্লিউর আবেদন করলে আম্পায়ার বাংলাদেশের পক্ষে সিদ্ধান্ত জানান। স্মিথ রিভিউ নিলে আম্পায়ার্স কলে মাঠ ছাড়েন। ৬ চারে ৭৪ বলে ৪২ রান করেন তিনি। ১১৮ রানে অস্ট্রেলিয়া তাদের চতুর্থ উইকেট হারায়।

গ্রিনের সঙ্গে অ্যালেক্স ক্যারি লিড বাড়ানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এই জুটি ২৭ রানের বেশি করতে পারেনি। মেহেদী হাসান মিরাজ ক্যারিকে (৫) হাসান মাহমুদের ক্যাচ বানান। তারপর ব্যাটিং ধস। তিন রানে চার উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।

পরের ওভারে শরিফুলের বলে গোল্ডেন ডাক মারেন ওয়েবস্টার। এলবিডব্লিউর সিদ্ধান্ত রিভিউয়ে পাল্টাতে পারেননি তিনি। দুই বল পর কামিন্সকে খালি হাতে সাজঘরে ফেরত পাঠান লিটনের ক্যাচ বানিয়ে। নতুন ব্যাটার কামিন্স ১ রানে শরিফুলের কাছে বোল্ড হন।

বাংলাদেশের ইনিংসে ৬ উইকেট নেওয়া স্টার্ককে নিজের ষষ্ঠ শিকার বানান শরিফুল। গ্রিন ও নাথান লায়ন অপ্রতিরোধ্য থেকে আর বিপদ বাড়তে দেননি। ৪২ বলে দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি ১৭ রানের। গ্রিন ৫১ রানে অপরাজিত, লায়ন খেলছেন ১০ রানে। শরিফুল ১১ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়েছেন। কাল নিশ্চিতভাবে নিজের পকেটে আরও উইকেট পুরতে চাইবেন তিনি। 




লা রোহার বিশ্বজয়: আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে ফুটবল সাম্রাজ্যের নতুন রাজা স্পেন!

লা রোহার বিশ্বজয়: আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দি করে ফুটবল সাম্রাজ্যের নতুন রাজা স্পেন!
ছবি সংগৃহীত।

মেটলাইফ স্টেডিয়াম, নিউ জার্সি থেকে ১৬ বছর পর ফুটবল বিশ্বের রাজদণ্ড আবারও ফিরে এলো ইউরোপের টিকিটাকায়। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার রেকর্ডবুক ও কোটি ভক্তের স্বপ্নকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে ফুটবলের নতুন রাজা এখন স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে শ্বাসরুদ্ধকর, গতি আর কৌশলের এক চরম প্রদর্শনী শেষে লিওনেল স্কালোনির ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরল ‘লা রোহা’। ২০১০ সালের পর এটি তাদের প্রথম বিশ্বকাপ শিরোপা। বাংলাদেশ সময় গত রাত ১টায় শুরু হওয়া এই ‘মহাযুদ্ধ’ কোটি দর্শককে টেলিভিশনের পর্দায় আটকে রেখেছিল। তবে মাঠের ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে শেষ হাসি হেসেছে স্প্যানিশ যুবারাই। লুই দে লা ফুয়েন্তের এই দলটির নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের কাছে ভাঙল আর্জেন্টিনার টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।


মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তারার মেলা ও ট্রাম্পের আকাঙ্ক্ষা:
নিউ ইয়র্কের আকাশ গত দুই দিনের আবহাওয়ার শঙ্কা উড়িয়ে আজ ছিল পুরোপুরি রৌদ্রময়। বিকেল তিনটায় নিউ জার্সির এই ছাদহীন স্টেডিয়ামে যখন মেসি-ইয়ামালরা মুখোমুখি হন, তখন লাখো দর্শককে রোদে পুড়েই উপভোগ করতে হয়েছে ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। বাংলাদেশ মুদ্রায় কয়েক লাখ টাকার সর্বনিম্ন টিকিটের এই ম্যাচের গ্যালারির প্রতিটি আসন ছিল পরিপূর্ণ। সকাল থেকেই স্টেডিয়ামমুখী লাখো মানুষের স্রোতে আর্জেন্টিনার সমর্থক কিছুটা বেশি চোখে পড়লেও স্প্যানিশ দর্শকরাও কম যাননি। টাইমস স্কয়ারের মতো স্টেডিয়ামের চারপাশ মাতিয়ে রেখেছিলেন তারা। ফুটবলের এই মহোৎসবে বিনোদনের রঙ ছড়াতে হলিউড মেগাস্টার টম ক্রুজ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ফুটবলকে বৈশ্বিক বার্তার মাধ্যম হিসেবে আখ্যায়িত করেন। আর বিরতির জমকালো হাফটাইম শো-তে মঞ্চ কাঁপান পপ তারকা ম্যাডোনা, জাস্টিন বিবার, শাকিরা এবং জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস। ম্যাচ শুরুর আগে সমাপনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন জনপ্রিয় ইউটিউবার আইশোস্পিড। এবারের সফল আয়োজনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফক্স স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের মেয়াদকালেই আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ ফেরানোর জন্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ‘দারুণ প্রস্তাব’ দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান। যদিও ফিফার নীতিমালা অনুযায়ী ২০৩৮ সালের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেই সুযোগ নেই। ম্যাচ নিয়ে নিজের ভবিষ্যদ্বাণীতে ট্রাম্প বলেছিলেন, “মেসির বিপক্ষে বাজি ধরা কঠিন,” কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে ট্রাম্পের সেই বাজি টিকল না।


প্রথমার্ধে স্পেনের দাপট, লিসান্দ্রোর চোট:
ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠজুড়ে দাপট দেখিয়েছে স্পেন। প্রথমার্ধে ৬৫ শতাংশ বল পজেশন আর ৩১৩টি নিখুঁত পাসের বিপরীতে আর্জেন্টিনা দিতে পেরেছে মাত্র ১৫৫টি পাস। প্রথম ২৩ মিনিটে আর্জেন্টিনার তিন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি, নিকো গঞ্জালেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ মিলে মাত্র ১৭ বার বলে পা ছোঁয়াতে পেরেছিলেন। ম্যাচের ৫ মিনিটেই স্পেনকে এগিয়ে নিতে পারতেন লামিনে ইয়ামাল। ওলমোর বাড়িয়ে দেওয়া বল ইয়ামাল নিয়ন্ত্রণে নিলেও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও এমিলিয়ানো মার্টিনেজের যৌথ প্রচেষ্টায় গোল লাইনের সামনে থেকে বেঁচে যায় আর্জেন্টিনা। ৭ মিনিটে সিমন দ্রুত নিজের লাইন ছেড়ে সামনে এগিয়ে এসে মেসিকে নিশ্চিত গোলের সুযোগ থেকে রুখে দেন। ৩৯ মিনিটে ফাবিয়ানের পাস থেকে ওয়ারজাবালের জোরালো শট নিচে নেমে এসে রুখে দেন এমি মার্টিনেজ। ৪১ মিনিটে ওয়ারজাবালকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ দুই মিনিট পরেই ইনজুরি নিয়ে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় আর্জেন্টিনা, তার বদলে নামেন ওতামেন্দি।


দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনির ছক ও ওতামেন্দির প্রতিরোধ:
দ্বিতীয়ার্ধে স্কালোনি দলে পরিবর্তন এনে পারেদেসকে নামালেও শুরুতেই তিনি রদ্রিকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। ৫৫ মিনিটে ওতামেন্দির শেষ মুহূর্তের দারুণ ট্যাকল নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাঁচায় আর্জেন্টিনাকে। ৬২ মিনিটে স্পেন পেদ্রি ও ফেরান তোরেসকে মাঠে নামালে আক্রমণের ধার আরও বাড়ে। ইয়ামালের বাঁ পায়ের চমৎকার ক্রস থেকে তোরেসের নিচু হেড লুফে নেন মার্টিনেজ। ১৯৬৬ সালে রেকর্ড নথিভুক্ত করার পর থেকে প্রথম দল হিসেবে আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালে পুরো ৯০ মিনিটে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে না পারার অবাঞ্ছিত রেকর্ড গড়ে। এমি মার্টিনেজ একে একে স্পেনের ১০টি শট রুখে দিয়ে ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যান, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ সেভের রেকর্ড। তবে ইনজুরি টাইমের ৩ মিনিটে কুবার্সিকে বেপরোয়া ট্যাকল করে চেলসি তারকা এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় হলুদ কার্ড দেখতে হয় কোচ লিওনেল স্কালোনিকেও।


অতিরিক্ত সময়ে তোরেসের সেই ‘সোনার হরিণ’ গোল:
১০ জনের আর্জেন্টিনাকে পেয়ে অতিরিক্ত সময়ে চেপে ধরে স্পেন। ৯৬ মিনিটে ওতামেন্দির চ্যালেঞ্জ প্রতিহত করে মেরিনোর শট মার্টিনেজ ব্লক করলে ফিরতি বলে নিকো উইলিয়ামস জালে জড়ালেও ভিএআরে ওতামেন্দির ওপর ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল হয়। তবে ১০৬ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্থের মাত্র ২৭ সেকেন্ডে পেদ্রো পোরোর ক্রসে নিকো উইলিয়ামসের সহায়তায় স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস আলতো ছোঁয়ায় বল আর্জেন্টিনার জালে জড়িয়ে দেন। ২০১৪ সালে জার্মানির গোৎসের পর তোরেসই প্রথম বদলি খেলোয়াড় হিসেবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করলেন।