পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব বান্দরবান গড়াই আমাদের লক্ষ্য- পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৪ পূর্বাহ্ন

পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব বান্দরবান গড়াই আমাদের লক্ষ্য- পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী

পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব বান্দরবান গড়াই আমাদের লক্ষ্য- পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের পর্যটন খাতের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত, টেকসই, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি।

বুধবার বিকালে বান্দরবান পার্বত্য জেলার সদর উপজেলা কনফারেন্স হলে বান্দরবান ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদ’ আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

পার্বত্য অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের মূল সুফল যেন স্থানীয় জনগণ পায়, সেজন্য তাদের সরাসরি এই প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সাথে পরিবেশ সুরক্ষা ও পর্যটনের টেকসই মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ ও এলজিইডি-সহ সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করতে হবে।

বান্দরবানকে একটি আদর্শ পর্যটননগরী হিসেবে গড়ে তোলার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু বলেন, আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব বান্দরবান নগরী গড়ে তোলা। দেশ-বিদেশের অগণিত পর্যটক এই শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। তাই আমাদের ব্যবসায়ী ও পর্যটন খাতের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উন্নত পেশাদারি আচরণ, বিনয় ও আতিথেয়তার কৌশল রপ্ত করতে হবে।

তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, হোটেল-মোটেলের পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, কিচেন ও টয়লেট জীবাণুমুক্ত রাখা এবং বিদেশি পর্যটকদের আন্তর্জাতিক মানে আপ্যায়ন করা জরুরি। শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণের মাধ্যমেই বান্দরবানকে বিশ্বদরবারে সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

কৃষি ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নের কথা উল্লেখ করে সাচিং প্রু এমপি জানান, পার্বত্য অঞ্চলের কৃষি ও প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিক ভাগ্যোন্নয়নে ইতিপূর্বে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং কৃষি মন্ত্রীর সাথে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকগুলোতে পার্বত্য চট্টগ্রামের কাজুবাদাম, কফি, আদা, হলুদ ও আনারসের মতো সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত দেশি মুরগি পালন, সাতিফসল চাষ এবং পাহাড়ি সেচব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পাহাড়ের কৃষকদের দেশের মূল অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন মন্ত্রী সাচিং প্রু এমপি।

বান্দরবান ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সভাপতি হাফেজ মোঃ আজিজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সংবর্ধনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক মোঃ সানিউল ফেরদৌস, বান্দরবান পৌরসভার পৌর প্রশাসক এস এম মনজুরুল হক এবং বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মারুফা সুলতানা খান হীরা।




লামায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক দুই কিশোর

লামায় ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক দুই কিশোর
ছবি সংগৃহীত।

 

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করেছে আজিজনগর ফাঁড়ির পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে আজিজনগর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ড ইসলামপুরে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

আটক দুইকিশোর ইসলামপুর আতিক্কা পাড়া এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে নুরুল কবির (১৪) এবং আরেক জন নুরুল আমিন বৈদ্যের ছেলে নাজিমুল ইসলাম(১২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া যায়, দুপুর দুইটার দিকে খাওয়া দাওয়া শেষে ভিকটিমের মা ৬ বছরের মেয়েকে পাশের বাসায় রেখে মাদ্রাসা পড়ুয়া ছেলেকে মাদ্রাসা থেকে আনতে যায়। মেয়েটি বাড়ির পাশে অন্যান্য ছোট ছোট মেয়েদের সাথে খেলছিল। তখন অভিযুক্ত দুই কিশোর তাকে খেলা থেকে ডেকে নিয়ে পাশের একটি বাগানে ধর্ষণ করে।

মেয়েটির প্রচুর রক্তপাত হওয়ায় সাথে সাথে তাকে চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে জানান আজিজনগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম।

সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়সার হামিদ জানান, এই ঘটনায় দুই কিশোরকে আটক করা হয়েছে তাদের বিরুদ্বে আইনী কার্যক্রম চলমান।




আলীকদমে বিষপানে যুবকের মৃত্যু

আলীকদমে বিষপানে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে পারিবারিক কলহের জেরে প্যারাকোয়াট (ঘাস মারার বিষ) পানে আরাফাত মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। 

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।নিহত আরাফাত মিয়া উপজেলার ১নং আলীকদম ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের পেঠান সর্দার পাড়ার আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি দুই স্ত্রীর স্বামী ছিলেন বলে জানা গেছে।বিষপানের পর হোটেলে ভাত খেলেন যুবক।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে নিজ বসতঘরে বিষপান করেন আরাফাত। তবে বিষপানের পর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে স্থানীয় পানবাজার এলাকায় চলে আসেন। সেখানে ইউসুফ আলীর হোটেলে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে ভাতও খান।খাবার শেষে তিনি পানবাজার-কলারঝিরি মোড়ের একটি ছাউনির নিচে গিয়ে দাঁড়ালে স্থানীয়রা তার আচরণ ও শারীরিক অবস্থায় অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন। জিজ্ঞাসা করলে আরাফাত বমি বমি ভাবের কথা জানান। পরে স্থানীয়রা তাকে লেবু খাওয়ান এবং তিনি বমি করলে বিষপানের বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এরপর দ্রুত তার স্বজনদের খবর দেওয়া হয়। বিষপানের পরও কীভাবে তিনি বাজারে এসে স্বাভাবিকভাবে খাবার খেলেন, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

হাসপাতাল ও চিকিৎসকের বক্তব্য:নিহতের ভাগিনা মো. তারেক জানান, খবর পেয়ে স্বজনরা দ্রুত আরাফাতকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে রেফার করা হলে, পথে তাকে মালুমঘাট মেমোরিয়াল হাসপাতালেও নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ চমেক হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শফিউল আলম বলেন, “রোগীর শরীরে প্যারাকোয়াট বিষের প্রতিক্রিয়া অনেক বেশি ছিল। এটি মূলত ঘাস মারার বিষ। এ ধরনের বিষ খাওয়া রোগীর পেট ওয়াশ (ডধংয) করার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। কেরোসিন বা পেট্রোলজাতীয় বিষের মতো এটি ওয়াশ করলে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছিল।

পুলিশের তথ্য ও আইনগত ব্যবস্থা:পুলিশের নথি অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আরাফাতকে চমেক হাসপাতালের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাত ১টার দিকে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা-নথিতেও মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘প্যারাকোয়াট পয়জনিং’ (চঅজঅছটঅঞ চঙওঝঙঘওঘএ) উল্লেখ রয়েছে।পুলিশ জানিয়েছে, নিহত যুবকের মরদেহ বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




থানচিতে যুবতীদের প্রাণিসম্পদ ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ

থানচিতে যুবতীদের প্রাণিসম্পদ ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় স্থানীয় যুবতীদের বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ ও যুব উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইং পর্যন্ত ৩ নম্বর থানচি ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। একশনএইড বাংলাদেশ (এএবি)-এর সহযোগিতায় বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতি (বিএনকেএস) বাস্তবায়িত ওইএসআইএসএস প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে গত ৫ আগস্ট থানচি উপজেলা পরিষদ হলরুমে স্পন্সর মেয়ে শিশু পরিবারের আয়বর্ধক কার্যক্রম (আইজিএ) সহায়তা হিসেবে সাতজন যুবতীকে প্রত্যেককে ১৫ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকার চেক এবং স্পন্সর মেয়ে শিশুর জন্য প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হয়। ওই আইজিএ সহায়তার ধারাবাহিকতায় উপকারভোগী যুবতীদের প্রাণিসম্পদভিত্তিক উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

প্রশিক্ষণে স্থানীয় আবহাওয়া ও পরিবেশের সঙ্গে সহনশীল উন্নত জাতের গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগি নির্বাচন, স্বাস্থ্যসম্মত খামার ও ঘরের নকশা, পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের ব্যবস্থা, আধুনিক শেড নির্মাণ ও গৃহায়ন পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

এছাড়া গৃহপালিত পশু-পাখির জন্য প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা, বিভিন্ন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তকরণ, রোগ প্রতিরোধ এবং টিকাদানের সঠিক পদ্ধতি নিয়েও হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য মগক হেডম্যান পাড়ার অংসিংউ এগ্রো ফার্ম পরিদর্শন করানো হয়। সেখানে খামার ব্যবস্থাপনা, হাঁস-মুরগি পালন এবং টিকা দেওয়ার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক ও কনসালটেন্ট হিসেবে ছিলেন, থানচি উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. শরীফুল ইসলাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিএনকেএস পিআরএলসি প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসার হ্লাগ্যউ মারমা, বিএনকেএস ওইএসআইএসএস প্রকল্পের প্রোগ্রাম অ্যান্ড স্পন্সরশিপ অফিসার মংক্যওয়ং মারমা এবং একই প্রকল্পের ফিল্ড অর্গানাইজার মংপ্রুচিং মারমা।

আয়োজকরা জানান, প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য হলো আইজিএ সহায়তা পাওয়া যুবতীদের শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতা ও ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। প্রাণিসম্পদ পালন ও ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে তারা ভবিষ্যতে নিজেদের আয়বর্ধক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ভ্যাকসিন, প্রয়োজনীয় মেডিসিন ও প্রশিক্ষণ সনদ বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশিক্ষণ ও আইজিএ সহায়তার সমন্বয়ে স্থানীয় যুবতীদের স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি পরিবারে আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।