নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশফাঁড়ী বিওপির অভিযানে গাড়িসহ অবৈধ জাল জব্দ, আটক ৪
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশফাঁড়ী বিওপির অভিযানে গাড়িসহ অবৈধ জাল জব্দ, আটক ৪

নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশফাঁড়ী বিওপির অভিযানে গাড়িসহ অবৈধ জাল জব্দ, আটক ৪
ছবি সংগৃহীত।

বিজিবির টহল দলের অভিযানে চারজন আসামিসহ একটি সিএনজি ও বার্মিজ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ী বিওপির টহল দল চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৬২ পিস বার্মিজ কারেন্ট জালসহ চারজন পুরুষ আসামিকে আটক করে। ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম (পিবিজিএম, পিএসসি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

১০ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকালে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ বাইশফাঁড়ী বিওপির টহল দল সীমান্ত পিলার-৩৬ থেকে আনুমানিক ৫ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে 'টিভি টাওয়ার' নামক স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এতে ৬২ পিস বার্মিজ কারেন্ট জাল ও চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত একটি সিএনজিসহ চারজন আসামিকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন— মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (২২, পিতা: মৃত নুরুল কবির, গ্রাম: তুমব্রু উত্তরপাড়া), মোহাম্মদ আইয়ুব (৩৩, পিতা: মৃত মোহাম্মদ আলী, গ্রাম: পশ্চিমপাড়া, পোস্ট: পিএমখালী), আব্দুল আমিন (৩০, পিতা: মোঃ নুর আলম, এফডিএমএন ক্যাম্প-৮) এবং মোঃ সলিম (৩৩, পিতা: মোহাম্মদ, এফডিএমএন ক্যাম্প-১১)। আটক আসামিদের জব্দকৃত বার্মিজ কারেন্ট জাল ও অন্যান্য মালামালসহ সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অধিনায়ক বলেন, "বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"




অধিকার, স্বীকৃতি ও স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা: তিন কমিটিকে স্বাগত জানাল পার্বত্যবাসী

অধিকার, স্বীকৃতি ও স্থায়ী শান্তির প্রত্যাশা: তিন কমিটিকে স্বাগত জানাল পার্বত্যবাসী
ছবি সংগৃহীত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার, ন্যায্য স্বীকৃতি, দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকারগঠিত তিনটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটিকে স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছে পার্বত্যবাসী।

গেজেটের মাধ্যমে প্রকাশিত এসব কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান, সব জাতিগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

পার্বত্যবাসীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, স্বাধীনতার ৫৫ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধান ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ অতীতে দেখা যায়নি। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ কমিটি গঠন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সবার প্রতি এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে।

তারা আশা প্রকাশ করেন, গঠিত তিনটি কমিটি পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা, বৈষম্য ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে কার্যকর ও টেকসই সমাধানের পথ তৈরি করবে; একই সঙ্গে পাহাড়ে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এ সময় কমিটিগুলোর সদস্যদের সুস্থতা ও সফলতা কামনা করে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করা হয়, যাতে তারা সাহস, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে পার্বত্য চট্টগ্রামে কাঙ্ক্ষিত শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখতে পারেন।

গেজেট অনুযায়ী গঠিত তিনটি কমিটি হলো—

১. পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক জাতীয় কমিটি

২. পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক নির্বাহী কমিটি

৩. পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক পরামর্শক কমিটি




নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ১

নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ১
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই দিন একই সীমান্ত এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তলও উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার ঘুমধুম সীমান্তের জামালের ঘের এলাকায় এসব অভিযান চালায় কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)।

আটক রোহিঙ্গা যুবকের নাম নুর মোহাম্মদ (২০)। তিনি এফডিএমএন ক্যাম্প-১-এর এফ/১৩ ব্লকের বাসিন্দা। তার বাবার নাম মো. অলি আহমদ।

বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৩৪ বিজিবির ঘুমধুম বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামালের ঘের এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে চলাচলকারী নুর মোহাম্মদকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, একই দিন দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে একই এলাকার পৃথক অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে বিজিবি। সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে জামালের ঘের এলাকায় টহল দলের সদস্যরা পিস্তলটি পড়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন। তবে এ সময় অস্ত্রটির সঙ্গে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বলেন, "সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির নিয়মিত অভিযান চলছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও চোরাই পণ্য দেশে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যে টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"

বিজিবি সূত্র আরও জানায়, নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দুর্গম এলাকা ব্যবহার করে একটি চোরাকারবারি চক্র মিয়ানমারের চোরাকারবারিদের সঙ্গে যোগসাজশে মাদক ও অস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাচার করে আসছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ একজনকে আটক এবং বিদেশি পিস্তলটি উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা ইয়াবাসহ আটক নুর মোহাম্মদকে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে উদ্ধার করা বিদেশি পিস্তলটি থানায় মামলা দায়েরের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে অস্ত্রটি হস্তান্তর করা হলে প্রচলিত আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি অস্ত্রটির উৎস এবং কারা এটি সীমান্ত এলাকায় নিয়ে এসেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে।




কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় আবারও খুলে দেওয়া হলো ১৬ জলকপাট

কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়ায় আবারও খুলে দেওয়া হলো ১৬ জলকপাট
ছবি সংগৃহীত।

‎কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা আবারও বেড়ে যাওয়ায় বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন শুরু করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে প্রতিটি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট।

‎কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জলকপাটগুলো খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে জলকপাটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

‎এর আগে গত ২৯ আগস্ট কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে ১০৬ দশমিক ১ ফুট এমএসএল এ পৌঁছালে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে দেওয়া হয়েছিল। তখন প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশন করা হয়। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে জলকপাট খোলার পরিমাণ বাড়ানো হয়। একপর্যায়ে প্রতিটি জলকপাট ৩ ফুট পর্যন্ত খোলা হলে প্রায় ৫৮ হাজার কিউসেক পানি নিষ্কাশিত হয়।

‎পানির উচ্চতা কমে আসায় পরবর্তীতে স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শুক্রবার সকাল থেকে জলকপাটগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।

‎কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে হ্রদের পানির উচ্চতা ১০৫ দশমিক ৫১ ফুট। পরিস্থিতি বিবেচনায় ১৬টি জলকপাট ৬ ইঞ্চি করে খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। পানির উচ্চতা ১০৫ ফুটে নেমে এলে গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে।

‎কর্তৃপক্ষ জানায়, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। এ কারণে পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জলকপাট খুলে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে।