শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেন মনির আহমদ।
তিনি জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির জিয়া হোটেলের মালিক জিয়ার ফুফু ও একসময়ে স্থানীয় ফুটবল গোলরক্ষক সুমনের মা ফাতেমা বেগমের কাছ থেকে বাড়ি নির্মাণের জন্য জমি ক্রয় করেন তিনি। তবে জমিতে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় প্রথমে জমি কিনতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে ফাতেমা বেগম, জমির অন্য মালিক হালিমা বেগম (স্বামী ফরিদ আহমদ)সহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে জমি বিক্রির পাশাপাশি যাতায়াতের রাস্তা বরাদ্দের বিষয়ে লিখিত চুক্তি ও পারস্পরিক সমঝোতা হয়।
এ বিষয়ে ফাতেমা বেগম, হালিমা বেগম, বদরুল ইসলাম, শামসুল ইসলাম, দিদারুল ইসলাম ও মনির আহমদ—এই ছয়জনের মধ্যে একটি লিখিত হলফনামা সম্পাদিত হয়। হলফনামা অনুযায়ী, ফাতেমা বেগমের জমি থেকে ৬ কড়া, ২ থেকে ৫ নম্বর হলফকারীর খরিদা জমি থেকে সম্মিলিতভাবে ২ দশমিক ৫ কড়া এবং মনির আহমদের জমি থেকে ২ কড়া—সব মিলিয়ে সাড়ে ১০ কড়া প্রথম শ্রেণির জমি চলাচলের পথের জন্য নির্ধারণ করা হয়।
হলফনামার দ্বিতীয় পৃষ্ঠায় তিনটি পৃথক চৌহদ্দিতে রাস্তার বিবরণ উল্লেখ রয়েছে। এতে প্রথম চৌহদ্দিতে উত্তর-দক্ষিণে ১৩৮ ফুট, দ্বিতীয় চৌহদ্দিতে পূর্ব-পশ্চিমে ২০ ফুট এবং তৃতীয় চৌহদ্দিতে উত্তর-দক্ষিণে ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্যের রাস্তার কথা বলা হয়েছে। প্রতিটি রাস্তার প্রস্থ সাড়ে ৭ ফুট নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি রাস্তার চারপাশের জমির মালিক ও সীমানার বিবরণও রয়েছে। হলফনামায় ভবিষ্যতে কেউ রাস্তার জমির ওপর মালিকানা দাবি কিংবা চলাচলে বাধা সৃষ্টি করবেন না বলেও অঙ্গীকার করা হয়।
মনির আহমদ বলেন, জমি ক্রয়ের পর জায়গাটি গর্ত, কাদামাটি ও পানিতে ভরা থাকায় চলাচলের অনুপযোগী ছিল। পরে নিজের অর্থায়নে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয়ে জায়গাটি ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করেন। এরপর সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেন, যা বর্তমানে স্থানীয়ভাবে ‘লাল বিল্ডিং’ নামে পরিচিত। পরবর্তী সময়ে উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সড়কটিতে ইট বিছানো হয়।
তাঁর অভিযোগ, প্রায় ২০ বছর ধরে তিনি ও সংশ্লিষ্ট জমির অন্য মালিকরা ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আসছেন। কিন্তু বর্তমানে ফাতেমা বেগম তাঁর অর্থায়নে নির্মিত রাস্তার একটি অংশ, বিশেষ করে নিজের বাড়িতে প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। এ পর্যন্ত চারবার রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মনির আহমদ আরও জানান, ভবনটিতে প্রায় ১৫টি পরিবার বসবাস করে। এসব পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিরাও রয়েছেন। রাস্তা বন্ধ থাকায় তাঁদের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ফাতেমা বেগমের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ অবস্থায় জমি ক্রয়ের সময় সম্পাদিত লিখিত চুক্তি ও হলফনামার শর্ত অনুযায়ী যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করে দিতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন মনির আহমদ।