নাইক্ষ্যংছড়িতে জলকেলি উৎসব

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে মার্মা জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উৎসবের শেষ কর্মসূচি জলকেলি অনুষ্ঠান পাহাড়ি-বাঙালির মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) দুপুর ২টায় নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদরের ছালেহ আহমদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ জলকেলি উৎসবের আয়োজন করা হয়। দিনব্যাপী এ উৎসবে ঐতিহ্যবাহী মার্মা নৃত্য, গান, গ্রামীণ খেলাধুলা ও জলকেলিতে অংশ নেন মার্মা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা।
বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর ও পালস বাংলাদেশ সোসাইটির উদ্যোগে এবং স্থানীয় সাংগ্রাই উৎসব কমিটির সহযোগিতায় আয়োজিত এ উৎসব ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়।
উৎসবে মারমা, চাক, ম্রো, ত্রিপুরা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে বর্ণিল নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। রঙিন পোশাকে সজ্জিত পাহাড়ি তরুণ-তরুণীদের পরিবেশনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। শিশু-কিশোরদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবের আনন্দ আরও বাড়ে।
এছাড়া পিঠা উৎসব, গিলা খেলা, বাঁশে ওঠা, দড়ি টানাটানি ও কাবাডি খেলা দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ যোগায়। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী জলকেলি ও মার্মা সাংস্কৃতিক সংগীত পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব। তিনি বলেন, সাংগ্রাই উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের পরিচালক আসমা ফেরদৌসি, সচিব সাদেকুর রহমান, পালস বাংলাদেশ সোসাইটির উপদেষ্টা আলী রেজা মানিক, নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী কলিম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল আলম কোম্পানী প্রমুখ।
সন্ধ্যা ৭টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। দিনব্যাপী আয়োজনে শত শত নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।










