নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত শিশু চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার, আটক ২
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৫ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত শিশু চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার, আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত শিশু চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার, আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে অপহৃত চার মাসের শিশু ১০ দিন পর চট্টগ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। নাইক্ষ্যংছড়ি থানা-পুলিশের সহায়তায় র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১৫-এর যৌথ অভিযানিক দল মঙ্গলবার বিকেলে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

এর আগে ২২ আগস্ট রাতে শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায় একটি অপহরণকারী চক্র। ঘটনার শিকার শিশুটির নাম মারুফা জান্নাত মাহি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিশুটির মা ইয়াসমিন আক্তার। অপহরণের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। আটকেরা হলেন—মো. আলম ওরফে নুরুল আলম (৩০) এবং সানজিনা আক্তার তিশা (২৫)।

সূত্র জানায়, সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানাধীন কমিশনার গলির কাঁচাবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১৫-এর যৌথ দল।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মামলার ৩ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি মো. আলম ওরফে নুরুল আলম (৩০) এবং ৪ নম্বর এজাহারনামীয় আসামি তৃষা, মারিয়া ওরফে সানজিনা আক্তার তিশা (২৫)। অভিযানের সময় তাদের হেফাজত থেকে অপহৃত শিশু মারুফা জান্নাত মাহিকে উদ্ধার করা হয়। উল্লেখ্য, শিশু অপহরণের দিন রাতেই ইয়াসমিন আক্তার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ২৬ আগস্ট তিনি নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মামলা করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ আগস্ট রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় চার আসামির মধ্যে দুজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুরো ঘটনার বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক জানান, পুলিশ যথা সময়ে মামলা নেয়। ভিকটিমকে চট্টগ্রামে লুকিয়ে রাখা হয়েছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ি পুলিশ, র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-১৫ যৌথ অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।




২ নম্বর চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন সাংবাদিক ইলিয়াছ

২ নম্বর চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি হলেন সাংবাদিক ইলিয়াছ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা (পরিচালনা) কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে সর্বসম্মতিক্রমে সাংবাদিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ সভাপতি এবং মো. হাসান সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে সর্বসম্মতিক্রমে ১২ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটি গঠনকালে উপস্থিত ছিলেন আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোবারক হোসেন মহরম, ২ নম্বর চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াসমিন লাকি এবং ইসলামপুর বি. আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, নবগঠিত কমিটির অন্য সদস্যরা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপযুক্ত পাঠদান নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক প্রাতিষ্ঠানিক পরিকাঠামো উন্নয়নে নতুন কমিটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

নবগঠিত কমিটির সভাপতি সাংবাদিক মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, "বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ জোরদার করা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে আমরা সবাই মিলে একযোগে কাজ করব। প্রতিষ্ঠানটিকে একটি আদর্শ মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।"

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল আশা প্রকাশ করেছে, নতুন পরিচালনা কমিটির দিকনির্দেশনায় বিদ্যালয়টি শিক্ষা ও শৃঙ্খলা উভয় ক্ষেত্রেই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করবে।




বর্ণাঢ্য আয়োজনে রামগড়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনে রামগড়ে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে র্যালি, কেক কাটা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করেছে রামগড় উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বেলা ৪টায় রামগড় দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু করেন নেতাকর্মীরা। র্যালিটি রামগড় শিল্পী কমিউনিটি সেন্টারের সামনে এসে শেষ হয়। পরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং রামগড় পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন—খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সহসভাপতি হাফেজ আহমদ ভূঁইয়া। এছাড়া বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সাফায়েত মোর্শেদ ভূঁইয়া মিঠু, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহা উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেফায়েত উল্লাহ, পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. সুজায়েত আলী সুজা, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মো. ইলিয়াস হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ আলম বাদশা এবং পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জামাল উদ্দিন শামীমসহ জেলা, উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে রামগড় উপজেলা বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন বলেন, "১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বেলা ৫টায় রমনা রেস্তোরাঁয় এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দলটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা ঘোষণা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় সারা দেশের ন্যায় রামগড় উপজেলা ও পৌর বিএনপি পরিবার দিনব্যাপী নানান অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।"

আলোচনা সভা শেষে উৎসবমুখর পরিবেশে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেন নেতাকর্মীরা।




রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ

রামুর কচ্ছপিয়ায় মাদকবিরোধী সমাবেশ
ছবি সংগৃহীত।

"চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে", "মাদকমুক্ত সমাজ গড়ি, সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ি"—এই প্রত্যয়ে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ জোরদার এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে ঐতিহ্যবাহী গর্জনিয়া ফইজুল উলুম ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা মিলনায়তনে রামু থানার উদ্যোগে ও গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ব্যবস্থাপনায় এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান। আলোচনায় অংশ নেন কচ্ছপিয়া কে.জি. স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাংবাদিক মাঈনুদ্দিন খালেদ এম.এড, কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির উপদেষ্টা দিদারুল আলম, উদীয়মান রাজনৈতিক নেতা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাইমুনুল হক মামুন, বিএনপি নেতা ও সাবেক মেম্বার নুরুল আবসার, নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন টুক্কু, ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন শাহীন, ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল খালেক, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামশুল আলম শাহীন, বাপ্পি, ফাহিম, দেলোয়ার হোসেন, কালু ও সাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক ও অনলাইন জুয়ায় জড়িতদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে সমাবেশ করে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তারা। এছাড়া মসজিদের ইমামদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এ ধরনের আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদক নির্মূলে পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকা এখন সময়ের দাবি।

হাফেজ ছৈয়দ আলমের কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সমাবেশে বক্তারা মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে একটি র‍্যালি বের হয়ে গর্জনিয়া বাজার ও প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গর্জনিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে শেষ হয়।