দেশে আর কোনো স্বৈরাচার সৃষ্টি হতে দেব না, সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৩৮ পূর্বাহ্ন

দেশে আর কোনো স্বৈরাচার সৃষ্টি হতে দেব না, সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব

দেশে আর কোনো স্বৈরাচার সৃষ্টি হতে দেব না, সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব
ছবি সংগৃহীত।

সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিএনপি সরকার। আর কখনো কোনো স্বৈরাচারী গোষ্ঠী তৈরি হতে দেওয়া হবে না। বিএনপি সরকারের পাশে থাকবেন—এই মর্মে দুহাত তুলে সমর্থন চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাটহাজারী পার্বতী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, "নির্বাচনের আগে দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বিএনপি সরকার। এ সরকার জনগণের সরকার। আপনাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাই আমরা নারীদের পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে চাই, তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই। সে জন্যই আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম; সরকার গঠনের সাথে সাথেই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। একই সাথে কৃষক ভাইদের জন্য কৃষি কার্ডের কথা বলেছিলাম, তাও বাস্তবায়ন করেছি। ওয়াদা করেছিলাম, সারা বাংলাদেশে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই তা করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক ঋণমুক্ত হয়েছেন।"

তিনি আরও বলেন, "গ্রাম ও পাহাড়ের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৩১ শয্যার হাসপাতাল করেছিলেন, পরে বেগম খালেদা জিয়া তা ৫০ শযয়ায় উন্নীত করেছিলেন। বর্তমান সরকার সারা দেশের ৫০১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শযয়ায় উন্নীত করে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে, যাতে দেশের মানুষ উপযুক্ত চিকিৎসা পায়। শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পোশাক তৈরি করে দেওয়া হবে।"

রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে হাটহাজারী পার্বতী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তাঁর আসার আগেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীতে এলেন।

এর আগে বেলা দুটার দিকে তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হেফাজতে ইসলামের সাবেক প্রয়াত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর (রহ.) কবর জিয়ারত করেন। এ সময় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি খলিল আহমদ কাসেমীসহ মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

ফটিকছড়ি থেকে বুলেটপ্রুফ বাসে আসার সময় নাজিরহাট-হাটহাজারী সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী জমায়েত হয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি হাটহাজারী ত্যাগ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ দলীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।




নির্বাচনের মতো দেশ গঠনেও আলেমদের পাশে চান প্রধানমন্ত্রী, হেফাজতের ৯ দাবি

নির্বাচনের মতো দেশ গঠনেও আলেমদের পাশে চান প্রধানমন্ত্রী, হেফাজতের ৯ দাবি
ছবি সংগৃহীত।

নির্বাচনের সময় যেভাবে আলেমদের সহযোগিতা পেয়েছেন, দেশ গঠনেও একইভাবে তাঁদের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি শান্তি, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করে একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মাদ্রাসায় আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে করে ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘির মোড় সিঅ্যান্ডবি মাঠে অবতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বাসযোগে তিনি বাবুনগর মাদ্রাসায় যান। মাদ্রাসায় পৌঁছানোর পর হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে দেখা হলে প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হেফাজত আমির। একপর্যায়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।

পরে হেফাজতে ইসলামের আমিরের সভাপতিত্বে আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান সরকারপ্রধানের কাছে সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে নয়টি দাবি তুলে ধরেন।

হেফাজতের ৯ দাবি হেফাজতে ইসলামের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— মহান আল্লাহ, রাসুলুল্লাহ (সা.), পবিত্র কোরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন করা; কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করা; ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনা, ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার নিশ্চিত করা।

এ ছাড়া দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে এই ডিগ্রির স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্মশিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা ও হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে দেশি-বিদেশি মিশনারিদের ‘অপতৎপরতা’ বন্ধ করার দাবিও রয়েছে হেফাজতের তালিকায়।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার করে আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করা এবং তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবিও করেছে সংগঠনটি। পাশাপাশি ভারতের মাওলানা সাদের বাংলাদেশে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা এবং টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থীদের ইজতেমার অনুমতি না দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

মতবিনিময়সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে হেফাজত আমিরের কাছে দোয়া নিতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। নির্বাচনের পর আল্লাহর রহমতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ সম্পন্ন করেছে। এরপর রমজান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, সংস্কার কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ততার কারণে আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি ও অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব বিষয় সামাল দিতে সরকারকে সময় দিতে হয়েছে। তবে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

তারেক রহমান বলেন, নারী-পুরুষনির্বিশেষে দেশের প্রতিটি মানুষ যেন শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। ‘আমরা নিজেরা ভালো থাকতে চাই, আমাদের পরিবার ভালো থাকুক, আমাদের সম্প্রদায় ভালো থাকুক— এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

সন্তানদের জন্য স্কুল-কলেজে নিরাপদ ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, অঙ্গীকার পূরণে সরকার বদ্ধপরিকর। একজন মুসলমান হিসেবে অঙ্গীকার রক্ষা করা নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। কথা রাখতে না পারলে কাজের কোনো মূল্য থাকে না।

নির্বাচনের সময় সহযোগিতার জন্য আলেম, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় সবাই একসঙ্গে থেকে যে ভূমিকা রেখেছেন এবং দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে একটি বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছেন, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঠে কাজ করা, মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং দোয়া করার জন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, সমস্যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’ ফ্যাসিবাদের সময়ে মানুষের ওপর অত্যাচার, দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতির প্রভাব দেশের বাইর থেকেও বিভিন্নভাবে এসেছে।

মতবিনিময়সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম, হাটহাজারী বড় মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন।

সভায় সরকারের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলালউদ্দিন, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, রাউজানের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, মীরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, রাঙ্গুনিয়ার সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান ও বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও হেফাজত আমিরের ছেলে মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা মহিউদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামীবাদী।




বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তারেক রহমান, আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদলেন হেফাজত আমির

বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন তারেক রহমান, আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদলেন হেফাজত আমির
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় গিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাতের শুরুতেই তিনি সালাম দিয়ে বাবুনগরীকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। এ সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন হেফাজত আমির। একপর্যায়ে তাঁকে কাঁদতে দেখা যায়।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে বাবুনগর মাদ্রাসায় এ সাক্ষাৎ হয়। পরে সেখানে দেশের আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। মতবিনিময়সভায় নির্বাচনের সময় আলেমদের সহযোগিতার কথা স্মরণ করে দেশ গঠনে তাঁদের সহযোগিতা চান তিনি।

বাবুনগর মাদ্রাসায় পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর কাছে যান। দুজন পরস্পরকে আলিঙ্গন করেন। এ সময় বাবুনগরী আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। উপস্থিত আলেম ও নেতাদের মধ্যেও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়।

এর আগে বাঁশখালী থেকে হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ির পেলাগাজী দিঘীর মোড় সিঅ্যান্ডবি মাঠে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে বাসে করে বাবুনগর মাদ্রাসায় যান তিনি।

সাক্ষাৎ শেষে আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় হেফাজতে ইসলামের আমিরসহ আলেমরা যেভাবে পাশে ছিলেন, দোয়া করেছেন এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করেছেন, তা তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। দেশ গঠনের কাজেও তাঁদের সহযোগিতা চান তিনি।

তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে হেফাজত আমিরের কাছে দোয়া নিতে আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের পর সরকারের বিভিন্ন কাজ, রমজান, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন, সংস্কার কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্যস্ততার কারণে আসতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। একজন মুসলমান হিসেবে অঙ্গীকার রক্ষা করা নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব। কথা রাখতে না পারলে কাজের কোনো মূল্য থাকে না।

তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দেশের মানুষ যেন শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, এমন একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হবে। মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সমস্যা এখনো শেষ হয়ে যায়নি।’ ফ্যাসিবাদের সময় মানুষের ওপর অত্যাচার, দুঃখ-কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব পরিস্থিতির প্রভাব দেশের বাইরে থেকেও বিভিন্নভাবে এসেছে।

মতবিনিময়সভায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী সভাপতিত্ব করেন। এতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মুহাম্মদ হেলালউদ্দিন, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

হেফাজতে ইসলামের পক্ষে সংগঠনের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আইয়ুব বাবুনগরী, মাওলানা মহিউদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা আজিজুল হক ইসলামীবাদী উপস্থিত ছিলেন।




ফটিকছড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ফটিকছড়িতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় পৌঁছেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী দিঘির মাঠে অবতরণ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের পর মাঠে অপেক্ষমাণ সাধারণ মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। তাঁকে একনজর দেখতে উপস্থিত জনতার মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রীও হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছার জবাব দেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার উদ্দেশে রওনা হন।

সফরসূচি অনুযায়ী, সেখানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও দেশের বিশিষ্ট আলেমদের সঙ্গে মতবিনিময় করার কথা আছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে ফটিকছড়িতে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তাঁকে স্বাগত জানাতে সড়কের দুই পাশে অবস্থান নেন দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ। ব্যানার-ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়।