দেশে আর কোনো স্বৈরাচার সৃষ্টি হতে দেব না, সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাব

সব প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিএনপি সরকার। আর কখনো কোনো স্বৈরাচারী গোষ্ঠী তৈরি হতে দেওয়া হবে না। বিএনপি সরকারের পাশে থাকবেন—এই মর্মে দুহাত তুলে সমর্থন চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। হাটহাজারী পার্বতী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠের বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, "নির্বাচনের আগে দেশের মানুষকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বিএনপি সরকার। এ সরকার জনগণের সরকার। আপনাদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। তাই আমরা নারীদের পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে চাই, তাঁদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই। সে জন্যই আমরা ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলেছিলাম; সরকার গঠনের সাথে সাথেই ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। একই সাথে কৃষক ভাইদের জন্য কৃষি কার্ডের কথা বলেছিলাম, তাও বাস্তবায়ন করেছি। ওয়াদা করেছিলাম, সারা বাংলাদেশে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যেই তা করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক ঋণমুক্ত হয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "গ্রাম ও পাহাড়ের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ৩১ শয্যার হাসপাতাল করেছিলেন, পরে বেগম খালেদা জিয়া তা ৫০ শযয়ায় উন্নীত করেছিলেন। বর্তমান সরকার সারা দেশের ৫০১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১০১ শযয়ায় উন্নীত করে স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেবে, যাতে দেশের মানুষ উপযুক্ত চিকিৎসা পায়। শিক্ষাখাতের উন্নয়নের জন্য সারা দেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে পোশাক তৈরি করে দেওয়া হবে।"
রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে হাটহাজারী পার্বতী সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব কথা বলেন। তাঁর আসার আগেই পুরো মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। সরকার গঠনের ছয় মাসের মধ্যে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী হাটহাজারীতে এলেন।
এর আগে বেলা দুটার দিকে তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। পরে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেন। সেখান থেকে বিকেল ৫টার দিকে হাটহাজারী মাদ্রাসায় প্রবেশ করে হেফাজতে ইসলামের সাবেক প্রয়াত আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী (রহ.) ও আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর (রহ.) কবর জিয়ারত করেন। এ সময় হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমীর মুফতি খলিল আহমদ কাসেমীসহ মাদ্রাসার শিক্ষকদের সঙ্গে তিনি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
ফটিকছড়ি থেকে বুলেটপ্রুফ বাসে আসার সময় নাজিরহাট-হাটহাজারী সড়কের দুই পাশে হাজার হাজার নেতাকর্মী জমায়েত হয়ে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। পরবর্তীতে চট্টগ্রামে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি হাটহাজারী ত্যাগ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনসহ দলীয় শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।







