চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই টার্মিনাল যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরদের হাতে
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই টার্মিনাল যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরদের হাতে

চট্টগ্রাম বন্দরের আরও দুই টার্মিনাল যাচ্ছে বিদেশি অপারেটরদের হাতে
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পর এবার চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং বে পোর্ট মাল্টিপারপাস টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্বও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনালকে (আরএসজিটিআই) সিসিটি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (সিপিএ) নির্দেশ দিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। গত ২৮ সেপ্টেম্বর এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

সিসিটি বর্তমানে পরিচালনা করছে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড। অন্যদিকে জিসিবি পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা এবং ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে প্রস্তাবিত ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিলের দাবি জানিয়েছে বন্দর রক্ষা কমিটি। একই সঙ্গে এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছে তারা। দাবি মানা না হলে আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ফটকে দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে কমিটি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। কমিটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ৫ অক্টোবরের মধ্যে সরকার এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের বিষয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা না দিলে অবস্থান কর্মসূচি থেকে বৃহত্তর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আরএসজিটিআইকে সিসিটি দেওয়ার প্রক্রিয়া

গত ২৮ সেপ্টেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফারজানা হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনালের অপারেটর হিসেবে আরএসজিটিআইয়ের নিয়োগপত্র প্রক্রিয়াকরণের জন্য আইবিএকে অনুরোধ করা হচ্ছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ‘সিসিটি ও জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি)’ এবং ‘বে পোর্ট-মাল্টিপারপাস টার্মিনাল’ প্রকল্প সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের বিষয়ে বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই) আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

এ বিষয়ে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের ২০১৬ সালের ১৯ আগস্টের একটি পত্রের সূত্র উল্লেখ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে ওই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে আরএসজিটিআই কর্তৃক চিটাগং কনটেইনার টার্মিনালের (সিসিটি) অপারেটর হিসেবে নিয়োগের পত্রটি প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

টার্মিনালটি পরিচালনার জন্য দুবাইভিত্তিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড গত ৮ এপ্রিল এবং সৌদি আরবের আরএসজিটিআই ২২ এপ্রিল আলাদাভাবে প্রস্তাব জমা দিয়েছিল। দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী এমজিএইচ গ্রুপও একটি প্রস্তাব জমা দেয়।

তবে আরএসজিটিআই সিসিটির পাশাপাশি জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) টার্মিনালও পরিচালনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, সুযোগ পেলে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

বন্দরের ১৬ শতাংশ কনটেইনার সিসিটিতে

২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ১৬ শতাংশ পরিচালিত হয়েছে সিসিটির মাধ্যমে। এছাড়া এনসিটিতে প্রায় ৪৪ শতাংশ, জিসিবির মাধ্যমে প্রায় ৩৬ শতাংশ এবং পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) মাধ্যমে প্রায় ৪ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ত নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) ১৫ বছরের জন্য একটি আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটরের কাছে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার খসড়া চুক্তিতে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। ‘চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং ওভারফ্লো ইয়ার্ড (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি দেওয়ার পরিকল্পনা

পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রকল্পসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটির আধুনিকায়ন, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (সিপিএ)। ২০২৩ সালের ২৩ মার্চ প্রকল্পটি অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির কাছ থেকে প্রথম নীতিগত অনুমোদন পায়।

বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক কোম্পানি লিমিটেড এনসিটি পরিচালনা করছে। টার্মিনালটিতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডেল করা হয়, যা চট্টগ্রাম বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৪০ শতাংশ।

চার টার্মিনালে চার ধরনের পরিচালনা

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে চারটি কনটেইনার টার্মিনাল চালু রয়েছে—নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) ও পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি)। এর মধ্যে এনসিটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ড্রাই ডক কোম্পানি লিমিটেড। সিসিটি পরিচালনা করছে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক। জিসিবি পরিচালনা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজেই।

অপরদিকে পিসিটি পরিচালনা করছে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটিআই)। ২০২৪ সালে পাওয়া ২২ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি ইতোমধ্যে পরিচালনা করছে আরএসজিটিআই।

এটি সাধারণ প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়

বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, ‌‘চট্টগ্রাম বন্দর দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য, আমদানি-রফতানি, রাজস্ব, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। গত ১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এনসিটি ও ওভারফ্লো ইয়ার্ড পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি আন্তর্জাতিক অপারেটরের সঙ্গে ১৫ বছরের কনসেশন চুক্তির খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘এনসিটি বন্দরের অন্যতম প্রধান কনটেইনার টার্মিনাল। ফলে এটিকে ১৫ বছরের জন্য কনসেশনে দেওয়ার বিষয়টি কোনও সাধারণ প্রশাসনিক বা বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়। এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় এনসিটি পরিচালনার সম্ভাব্য আয়, সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তি ও অটোমেশনের ব্যবহার, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কনসেশনে দিলে রাষ্ট্রের সম্ভাব্য আর্থিক সুবিধা—এসব বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তুলনামূলক মূল্যায়ন জনসম্মুখে প্রকাশ করা প্রয়োজন।’

মন্তব্য করতে রাজি নয় বন্দর কর্তৃপক্ষ

এ প্রসঙ্গে জানতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এনসিটি কিংবা অন্য টার্মিনাল ইজারা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।




মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে রপ্তানিমুখী করতে সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি, খামারিদের উৎপাদন ব্যয় কমানো, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে হবে।

প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত খামারিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ও জেলা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের অন্যতম প্রধান প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাত। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এ খাতকে রপ্তানিমুখী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের আরও সুযোগ রয়েছে।

এজন্য খামারি, উৎপাদক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।
এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও কমাতে হবে। বিশেষ করে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
পোল্ট্রি খাত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খামারে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। খামারের পরিচ্ছন্নতা, জীবাণুনিয়ন্ত্রণ, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং মানসম্মত খাদ্য ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। প্রাণিসম্পদ খাতে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উন্নতমানের ফিড সরবরাহ ও ফিডের মান তদারকির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে একদিকে ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য পাবেন, অন্যদিকে খামারিরাও উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে লাভবান হতে পারবেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, দেশীয় উৎপাদনের মাধ্যমে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণের সক্ষমতা বাংলাদেশ অর্জন করেছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত মাংস বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সংরক্ষণের অবকাঠামো উন্নত করা গেলে ভবিষ্যতে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ইতোমধ্যে ১৩টি মিট প্রসেসিং সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের সুবিধা আরও কার্যকর করা গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মাংসের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খামারিদেরও কৃষক কার্ডের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খামারিরা বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রয়োজনীয় ঋণ সুবিধা, উৎপাদন উপকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হলে খামারিরা আরও কার্যকরভাবে উৎপাদন করতে পারবেন। প্রযুক্তিনির্ভর আন্তর্জাতিক মান ও আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

সভায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা, প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।




চট্টগ্রামে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে আগুন

চট্টগ্রামে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে আগুন
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম নগরের বাংলাবাজার এলাকায় রেলওয়ের পরিত্যক্ত বগিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪৭ মিনিটে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, পরিত্যক্ত বগিতে আগুনের সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বর্তমানে আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।




গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ

গুজব ছড়ানোর আগেই ঠেকাতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ
ছবি সংগৃহীত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে আগেই তা শনাক্ত করে প্রতিরোধ করতে চায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এজন্য সাইবার মনিটরিং টিমকে আরও সক্রিয় করার পাশাপাশি গুজব শনাক্ত, তথ্য যাচাই ও দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচারের একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুরোনো ছবি-ভিডিও বা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের উদ্যোগে ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার টিম কর্তৃক করণীয়’ শীর্ষক অনলাইন সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সভাপতিত্বে জুম অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সার্কেলের কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ, ডিআইও-১, ওসি ডিবি ও সাইবার মনিটরিং টিমের সদস্যরা অংশ নেন।

সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য ঘটনা হিসেবে নেওয়ার আগে সেটি সত্য কি না যাচাই এবং গুজবের উৎস শনাক্ত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়। কোনো ছবি, ভিডিও বা পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর সেটি সত্য ধরে না নিয়ে এর উৎস, সময় ও প্রেক্ষাপট যাচাই করতে বলা হয়েছে। পুরোনো বা অন্য কোনো ঘটনার ছবি-ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দুর্গাপূজা, পূজামণ্ডপ, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টে। ধর্মীয় উসকানি বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে—এমন কোনো কনটেন্ট নজরে এলে সেটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচাই করতে বলা হয়েছে।

সভায় পুলিশ সুপার গুজব শনাক্তকরণ, তথ্য যাচাই, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ, প্রয়োজন হলে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচার—এই ধারাবাহিকতায় কাজ করার নির্দেশনা দেন। একইসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কনটেন্টের লিংক, স্ক্রিনশট, সংশ্লিষ্ট আইডি বা পেজ, সময়সহ অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রয়োজনে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

জেলা পুলিশ জানায়, শুধু গুজব শনাক্ত করে সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; গুজবের বিপরীতে দ্রুত সঠিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। এ কারণে কোনো ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ালে সংশ্লিষ্ট থানা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে দ্রুত প্রকৃত ঘটনা নিশ্চিত করে সংক্ষিপ্ত, নিরপেক্ষ ও সময়োপযোগী তথ্য প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এজন্য থানা পুলিশ, জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সংস্থার মধ্যে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অপরাধের উপাদান পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

সভায় জনগণের প্রতিও যাচাই ছাড়া কোনো পোস্ট বা তথ্য শেয়ার না করার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা বলেন, গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিক্রিয়া দেখানোর চেয়ে আগেই শনাক্ত করে তা প্রতিরোধ করা এবং দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সাইবার মনিটরিং কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।