চুয়েটে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ঢুকলেন নতুন উপাচার্য
সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৫৮ অপরাহ্ন

চুয়েটে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ঢুকলেন নতুন উপাচার্য

চুয়েটে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ঢুকলেন নতুন উপাচার্য
ছবি সংগৃহীত।


আন্দোলনের ২১ দিনের মাথায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে তিনি রাউজানে চুয়েট ক্যাম্পাসে গিয়ে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। পরে তিনি উপাচার্যের কার্যালয়ে যান।

উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চুয়েটে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করতে হবে। এ দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছেন।

একই দাবিকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরিফুল আলমের নিয়োগের পর থেকে তার ক্যাম্পাসে উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।

সোমবার সকালে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে উপাচার্যের প্রবেশের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে উপাচার্যের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি সাড়া দেননি।




লামার ডিএফওর বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও বন উজাড়ের অভিযোগ

লামার ডিএফওর বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য ও বন উজাড়ের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে জোত ও ট্রানজিট পারমিটের আড়ালে কাঠ পাচারে সহায়তা, বদলি-পদায়নে অর্থ লেনদেন, ইটভাটা ও চেকস্টেশন থেকে মাসোহারা এবং বনায়ন প্রকল্পের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ও বন-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনাঞ্চল উজাড় হচ্ছে। এসব অভিযোগের পরও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ । বান্দরবান থেকে শামসুল ইসলাম আকাশের রিপোর্টে বিস্তারিত। 
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ফরেস্টার রনি পারভেজকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি লামা বন আদালতের এফসিসিও, বমুবিলছড়ি বিট, বিশেষ টহল দল, লামা রেঞ্জ ও লামামুখ চেকস্টেশনের দায়িত্বে রয়েছেন বলে তাঁদের দাবি। একই ব্যক্তির হাতে এতগুলো দায়িত্ব দেওয়ায় নজরদারি দুর্বল হয়ে কাঠ পাচারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁদের। আরও ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আব্দুল মালেক নামে এক রেঞ্জারকে লামা সদর রেঞ্জের দায়িত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব লেনদেনের সমর্থনে নথি দেওয়া হয়নি।
ইটভাটার মালিকদের অভিযোগ, লামা বন বিভাগের আওতাধীন কাঠ পোড়ানো ৪০টি ইটভাটা থেকে এককালীন পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসে ১০ হাজার টাকা করে ডিএফওর নামে নেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে ভাটার লাকড়ি জব্দ ও বারবার অভিযান চালানো হয় বলে তাঁদের দাবি। স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের অভিযোগ, বেকারিতে জ্বালানি কাঠ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিনিময়েও মাসে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আদায় করা হয়। ফার্নিচার পরিবহনের অনুমোদনের নামে এক হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
বনায়ন প্রকল্প নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বন-সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবি, ৮০ হেক্টর এলাকায় বাগান সৃজনের বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ হেক্টরে। অবশিষ্ট ৫০ হেক্টরের বরাদ্দ কোথায় ব্যয় হয়েছে, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। আউটসোর্সিংয়ের ছয় কর্মচারীকে সরকারি কাজের পরিবর্তে ডিএফওর ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রত্যেক কর্মচারীর মাসিক সরকারি বেতন-ভাতা প্রায় ১৮ হাজার টাকা।
বাঁশ কাটা ও পরিবহনেও অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বর্ষায় বাঁশ কাটা ও পরিবহন বন্ধের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঘুষের বিনিময়ে পরিবহন পাশ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বাঁশে ডিএফওর নামে পাঁচ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। মাতামুহুরী সংরক্ষিত বনের বাঁশ মহাল বন্ধ থাকলেও রাতে ভুয়া টিপিতে বাঁশ পরিবহনের দাবি করেছেন তাঁরা। তবে সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞার আদেশ ও টিপির কপি পাওয়া যায়নি।
ইয়াংছা মৌজার ৫০ নম্বর এফএল জোতের অনুমোদনও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ওই জোতে দুই হাজার ৪২২টি সেগুন ও ২৩৮টি গামারীসহ মোট দুই হাজার ৬৬০টি গাছ কাটার অনুমোদন দেওয়া হয়। সেগুনের প্রায় ১৮ হাজার এবং গামারীর প্রায় দুই হাজার ৭০০ ঘনফুট কাঠের সাইজলিস্ট অনুমোদনের কথা উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৩৮৮টি গাছের বিপরীতে প্রায় ১৬ হাজার ঘনফুট কাঠ পরিবহনে ৪৮টি টিপি নেওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন ও পরিবহনের হিসাব মিলিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাঠ পরিবহনে প্রতি ঘনফুটে ডিএফওর নামে ৪০ টাকা আদায় করা হয়। সদর রেঞ্জের টিপি শাখায় প্রায় ১০ বছর ধরে দায়িত্ব পালনকারী মো. সেলিম প্রতিটি টিপির বিপরীতে ডিএফওর জন্য ১০ হাজার টাকা নেন বলেও তাঁদের দাবি। মাসে আড়াই শতাধিক টিপি অনুমোদনের অভিযোগের পাশাপাশি সরকারি শাখায় বেসরকারি ব্যক্তির দায়িত্ব পালন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা এ কে এম আলতাফ হোসেন ও রনি পারভেজ অর্থ আদায়ে মধ্যস্থতা করেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ। আলতাফের বিরুদ্ধে ফাইতং সড়ক দিয়ে মাসিক চুক্তিতে কাঠ পাচারের সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সরবরাহ করা বিবরণ অনুযায়ী, ডিএফওর নম্বরে একাধিকবার কল করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি। সিএফ মিহির কুমার দে গাড়িতে থাকার কথা জানান; নেটওয়ার্ক সমস্যায় কথোপকথন শেষ হওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত জবাব পাওয়া যায়নি। জোত ও টিপির রেকর্ড, বনায়নের বরাদ্দ-ব্যয় এবং পদায়নের আদেশ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বন-সংশ্লিষ্টরা।
 




সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

সমন্বিত জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরি করছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দরের ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসারে জাতীয় বন্দর কৌশল (ন্যাশনাল পোর্ট স্ট্র্যাটেজি) প্রণয়ন করছে সরকার। এ কৌশলে কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সংস্থার স্বার্থের চেয়ে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোববার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত।

তাই বন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিচালন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা এখন সময়ের দাবি।
শেখ রবিউল আলম বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি সমন্বিত বন্দর ব্যবস্থাপনা কৌশল অনেক আগেই প্রণয়ন করা প্রয়োজন ছিল।

অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পরিধি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরও দক্ষ ও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তাও বেড়েছে। দীর্ঘদিনের এ প্রয়োজন পূরণে সরকার জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নের কাজ এগিয়ে নিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরির ক্ষেত্রে কোনো মন্ত্রণালয়, বন্দর কর্তৃপক্ষ বা সরকারি সংস্থার আইনগত দায়িত্ব ও কর্তৃত্বকে উপেক্ষা করা যাবে না। বরং বিদ্যমান কাঠামোর মধ্যে থেকেই পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নিয়ে দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্বার্থকে সামনে রেখে এ কৌশল তৈরি করতে হবে।

দেশের সমুদ্রবন্দর, নদীবন্দর ও স্থলবন্দর পৃথক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিচালিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বন্দরের কার্যক্রমের সঙ্গে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), কাস্টমস এবং আমদানি-রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জড়িত। ফলে জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মতামত নেওয়া জরুরি।

শেখ রবিউল আলম বলেন, কোনো একটি পক্ষের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে কৌশলপত্র তৈরি করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন হবে। বন্দর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, প্রয়োজন ও স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে সমন্বিত কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, ভবিষ্যৎ বাণিজ্যের সম্ভাবনা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার আলোকে বিশেষজ্ঞদের কার্যকর সুপারিশ প্রয়োজন।

আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর উদ্যোগ
জাতীয় বন্দর কৌশল প্রণয়নে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সহযোগিতা করছেন বলে জানান মন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও মতামত কাজে লাগিয়ে দেশের উপযোগী একটি কার্যকর কৌশলপত্র তৈরি করা সম্ভব হবে।

বন্দর পরিচালনায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, দেশের বিভিন্ন বন্দরের কনটেইনার পরিচালনা ও টার্মিনাল ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডিপি ওয়ার্ল্ড, ডেনমার্কের এপি মোলার এবং সিঙ্গাপুরের পিএসএ-সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের বন্দরগুলোর দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব। তবে এ ধরনের উদ্যোগের সুফল পেতে হলে বন্দর পরিচালনা, বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এজন্য প্রয়োজন সমন্বিত নীতি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।

নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, বন্দরের উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। টার্মিনাল পরিচালনা, কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, পরিবহন সংযোগ, কাস্টমস কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট সেবাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করে বন্দর ব্যবহারকারীদের জন্য ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা বাড়লে আমদানি-রপ্তানি সহজ হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাই জাতীয় বন্দর কৌশল তৈরির সময় উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও আমদানি-রপ্তানিকারকদের প্রয়োজন এবং স্বার্থ যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।

শেখ রবিউল আলম বলেন, জাতীয় বন্দর কৌশল কেবল একটি মন্ত্রণালয় বা নির্দিষ্ট কোনো কর্তৃপক্ষের বিষয় নয়। দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানো ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা সংকীর্ণ স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বন্দর ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের তাগিদ
সেমিনারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, বাংলাদেশের বন্দরগুলোর দীর্ঘ ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। বহু বছর ধরে এসব বন্দরকে কেন্দ্র করে নৌযান চলাচল, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। সময়ের সঙ্গে দেশের বন্দর অবকাঠামো ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের পরিধি বেড়েছে। এখন সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আরও উন্নত ও কার্যকর করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বন্দরগুলোকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে হলে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান বের করতে হবে। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন যথেষ্ট নয়, ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বৃদ্ধি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

সেমিনারে নৌপরিবহন সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে জাইকার কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস তাকাহাশি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন বন্দরের চেয়ারম্যান, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।




এবার বন্ধ জেদ্দা বিমানবন্দর, বিপাকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট

এবার বন্ধ জেদ্দা বিমানবন্দর, বিপাকে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক হামলার ঘটনার মধ্যে নিরাপত্তাজনিত কারণে জেদ্দা বিমানবন্দর থেকেও ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে জেদ্দা থেকে ঢাকাগামী বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট ছাড়তে না পারায় যাত্রীরা আটকা পড়েছেন।

রবিবার (১১ অক্টোবর) জেদ্দা বিমানবন্দরে নিযুক্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সেলস ম্যানেজার এম এ সাত্তার এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে বিমান ছাড়তে পারছি না। এ কারণে ঢাকাগামী ফ্লাইটের যাত্রীরা আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতির কারণে এখনও যাত্রীদের বোর্ডিং শুরু করা সম্ভব হয়নি।’

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কান্ট্রি ম্যানেজার আরও জানান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ফ্লাইট চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ছে।

এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, হুথিদের হামলার কারণে শনিবার থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত মোট ৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এগুলো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া এবং রিয়াদ এয়ারের ফ্লাইট।