চলতি বছর ৩ দফায় বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, লিটারে সর্বোচ্চ ৪৩ টাকা
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন

চলতি বছর ৩ দফায় বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, লিটারে সর্বোচ্চ ৪৩ টাকা

চলতি বছর ৩ দফায় বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম, লিটারে সর্বোচ্চ ৪৩ টাকা
ছবি সংগৃহীত।

বছরের শুরুতে দুই দফা দাম কমলেও এরপর তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বরে দফায় দফায় দাম বাড়ায় ৯ মাস শেষে জানুয়ারির তুলনায় ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে বেড়েছে ৩৩ থেকে ৪৩ টাকা। জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পণ্য ও সেবার ব্যয়ে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের চাপও বেড়েছে।

বছরের শুরুতে দুই দফা দাম কমলেও এরপর এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বরে তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। সবশেষ সেপ্টেম্বরে বৃদ্ধির পর জানুয়ারির তুলনায় ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে বেড়েছে ৩৩ থেকে ৪৩ টাকা। অক্টোবরেও এই বাড়তি দাম বহাল রয়েছে। জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পণ্য ও সেবার ব্যয়ে, বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের চাপ।

সরকার স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের দাম নির্ধারণ করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক মাস ওই পদ্ধতিতে নিয়মিত মূল্য সমন্বয় করা হয়নি।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর আগে বছরের শুরুতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই দফায় দাম কমানো হয়। এরপর এপ্রিল, জুন ও সেপ্টেম্বরে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়িয়েছে সরকার।

সর্বশেষ ২০ সেপ্টেম্বর চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ফলে ডিজেলের দাম দাঁড়ায় ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা। অক্টোবর মাসে এসে আবার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এর আগে জানুয়ারিতে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২ টাকা করে কমানো হয়। ফলে ডিজেলের দাম ১০৪ টাকা থেকে কমে ১০২ টাকা, কেরোসিন ১১৬ থেকে ১১৪ টাকা, পেট্রোল ১২০ থেকে ১১৮ টাকা এবং অকটেন ১২৪ থেকে ১২২ টাকা হয়।

ফেব্রুয়ারিতে আবারও চার ধরনের তেলের দাম লিটারে ২ টাকা করে কমানো হয়। এতে ডিজেল ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকায় নেমে আসে। মার্চে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

এরপর ১৯ এপ্রিল থেকে দাম বাড়ানো হয়। ওই দফায় ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। মে মাসে আবার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়।

জুনে আবারও দাম বাড়ানো হয়। তবে ওই দফায় ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারে ৫ টাকা করে বাড়ানো হয়। ফলে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা হয়। জুলাই ও আগস্টে এই দাম অপরিবর্তিত ছিল।

অর্থাৎ জানুয়ারির দামের সঙ্গে অক্টোবরের সর্বশেষ দরের তুলনায় দশ মাসে ডিজেলের দাম বেড়েছে লিটারে ৩৩ টাকা, কেরোসিন ৪১ টাকা, পেট্রোল ৪২ টাকা এবং অকটেন ৪৩ টাকা। টাকার হিসাবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে অকটেনের দাম।

ভোগান্তিতে ভোক্তারা

বারবার জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় সরাসরি পরিবহন খরচের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয়ও বেড়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা। বিশেষ করে ডিজেলনির্ভর পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়ায় এর প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন ও যাতায়াতের খরচে। ফলে জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের চাপ সামলাতে গিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় আরও বেড়েছে।

উত্তরার বাসিন্দা শামসুন নাহার বলেন, গত এক বছরে বাসা ভাড়া বেড়েছে, বাস ভাড়া বেড়েছে, জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। কেবল বাড়েনি তাঁদের আয়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বেড়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে খরচ কমাতে অনেক কিছু কাটছাঁট করছেন তাঁরা।

মানিকনগরের এক বাসিন্দা বলেন, মাসের শুরুতে বেতন পান। মধ্যবিত্ত হিসেবে এমনিতেই সারা মাস আয়-ব্যয় মিলাতে হিমশিম খেতে হয়। এর মধ্যে কোনো জিনিসের দাম বাড়লে তার সরাসরি শিকার হন তাঁদের মতো মধ্যবিত্তরা। তেলের দাম বাড়ানোর প্রভাবে বাজারে জিনিসের দাম বেড়েছে, আবার বাস ভাড়াও বেড়েছে। সরকার লোকসানের কথা বলে দাম বাড়ায়, তাঁদের কথা ভাবে না।

কেন বারবার বাড়ে দাম

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি আর ইরানের যুদ্ধ একটি বড় কারণ। তবে সবচেয়ে বড় কারণ দেশের অর্থনীতি। সরকার একদিকে ব্যয় বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ঘাটতি বাড়ছে। আবার ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। মানুষের আয়-ব্যয় কমার ফলে সরকারের রাজস্ব ঘাটতি হচ্ছে। এ কারণে সরকার দাম বাড়িয়ে সেটি জনগণের ঘাড়ে চাপাচ্ছে।

তিনি বলেন, সব মিলিয়ে অর্থনীতি দেউলিয়া হতে বসেছে। অন্যদিকে জ্বালানি নিরাপত্তাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।




একসঙ্গে ৩০টির বেশি ব্যাংকের সেবা বন্ধ, ভোগান্তির শঙ্কায় গ্রাহক

একসঙ্গে ৩০টির বেশি ব্যাংকের সেবা বন্ধ, ভোগান্তির শঙ্কায় গ্রাহক
ছবি সংগৃহীত।

কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম আপগ্রেড ও মাইগ্রেশনের কারণে দেশের ৩০টির বেশি ব্যাংকের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা সাময়িক বন্ধ থাকছে। ব্যাংক ভেদে সেবার ধরন ও বন্ধ থাকার সময় কিছুটা ভিন্ন হলেও এটিএম, কার্ড, ফান্ড ট্রান্সফার, ই-কমার্স ও বাংলা কিউআরসহ গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হবে। এতে জরুরি প্রয়োজনে লেনদেন করতে গিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এনআরবিসি ব্যাংক, কৃষি ব্যাংক, ট্রাস্ট ব্যাংক, এসবিএসি ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংক এ বিষয়ে গ্রাহকদের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে কিছু সেবা বন্ধ থাকবে।

একটি ব্যাংক জানিয়েছে, ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত কিউ-ক্যাশের আওতাভুক্ত এটিএম, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম), ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ডের লেনদেন এবং পিওএস সেবা বন্ধ থাকবে। তবে ডেবিট কার্ডসহ কিছু বিকল্প সেবা চালু থাকবে।
এনআরবিসি ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একই সময়ে এটিএম ও সিআরএম, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন, ফান্ড ট্রান্সফার ও বাংলা কিউআর সেবা সাময়িক বন্ধ থাকবে। তবে গ্রাহকদের সুবিধার্থে এনআরবিসি প্ল্যানেট অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ, নগদ ও উপায়ে ফান্ড ট্রান্সফারের সুবিধা চালু থাকবে। সাময়িক অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে ব্যাংকটি।

ব্যাংকগুলোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কিছু ক্ষেত্রে বিকল্প চ্যানেলে লেনদেনের সুযোগ থাকলেও সব ব্যাংকে একই ধরনের সুবিধা থাকবে না। ফলে কোন ব্যাংকের কোন সেবা বন্ধ থাকবে, তা গ্রাহকদের নিজ নিজ ব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি দেখে জেনে নিতে হবে।

কিউ-ক্যাশের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ৩৭টি ব্যাংক এ নেটওয়ার্কের আওতায় সেবা নিচ্ছে। ফলে একই সময়ে বিপুলসংখ্যক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সীমিত থাকায় গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে জরুরি সময়ে এটিএম থেকে টাকা তোলা, কার্ডে কেনাকাটা কিংবা ফান্ড ট্রান্সফারের প্রয়োজন হলে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন গ্রাহকেরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, নিরাপদ ও আধুনিক ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করতে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কাজ চলছে। এ কারণে নেটওয়ার্কটির আওতাভুক্ত ব্যাংকগুলোর কিছু সেবা সাময়িক বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। তবে ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তারা যেন গ্রাহকদের আগে থেকেই নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি জানায়। এতে গ্রাহকেরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং ভোগান্তি কমানো সম্ভব হবে।




কমলো সোনার দাম

কমলো সোনার দাম
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালঙ্কারের দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ এক হাজার ৬৯১ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

​সোমবার (৫ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম আজ সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এ নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালঙ্কারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ৮১৭ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৭ হাজার ৯০৭ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৮ টাকা।

​সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।




এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা

এলপিজির দাম বাড়ল ২৫২ টাকা
ছবি সংগৃহীত।

ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি খাতের তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বেড়েছে। এতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বেড়ে নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।

রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন এ দাম সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হচ্ছে।

একইসঙ্গে অটোগ্যাসের লিটারপ্রতি মূল্য মূসকসহ ৭৩ টাকা ০৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা করা হয়েছে।

সংস্থাটি প্রতি মাসেই এলপিজির দাম নির্ধারণ করে। তবে বাজারে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি।