ফটিকছড়িতে পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধ, কালা মোবারকসহ গ্রেপ্তার ৪ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

ফটিকছড়িতে পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধ, কালা মোবারকসহ গ্রেপ্তার ৪ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

ফটিকছড়িতে পুলিশ-সন্ত্রাসী বন্দুকযুদ্ধ, কালা মোবারকসহ গ্রেপ্তার ৪ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুলিশের সঙ্গে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় মোবারক হোসেন ওরফে কালা মোবারকসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় চারটি আগ্নেয়াস্ত্র, ২৩টি গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন ও গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গত বুধবার ভোররাতে উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর পল্লানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, ওই এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষা সূত্রে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হন।

গ্রেপ্তার কালা মোবারক ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের মানিকপুর হাছি চৌধুরীর বাড়ির মো. লোকমানের ছেলে। অপর তিনজন হলেন মোহাম্মদ রাইহান ওরফে রায়হান (৪০), মো. ফরিদ (৫০) ও মো. নাছির (৫২)। তাঁরা সবাই ফটিকছড়ির লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর এলাকার বাসিন্দা।

অভিযানে ব্রাজিলের তৈরি একটি ৯ মিমি পিস্তল, ইতালির তৈরি একটি ৭.৬৫ মিমি পিস্তল, পাকিস্তানের তৈরি একটি রিভলভার ও একটি দেশীয় পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯ মিমি পিস্তলের ১৮টি, ৭.৬৫ মিমি পিস্তলের পাঁচটি গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি পিস্তলের গুলির খোসা এবং চারটি শটগানের গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ি, রাউজান ও চট্টগ্রাম নগরে একাধিক হত্যা ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। গত ১৩ জুন পাহাড়তলী এলাকায় মাকসুদুল হক চৌধুরী হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্তেও তাঁর নাম রয়েছে। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মোবারককে শনাক্ত করা হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়। ওই হত্যা মামলায় এর আগে আফছার, ধামা ইলিয়াস ও দিদার নামের তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, পাহাড়তলী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি পিস্তল মোবারকের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৯ মিমি পিস্তলটি ব্রাজিলের তৈরি ‘তরাস’ পিস্তল। প্রাথমিকভাবে অস্ত্রটি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে লুট হওয়া সরকারি অস্ত্র বলে শনাক্ত করা হয়েছে। অস্ত্রটি কীভাবে পুলিশের হেফাজত থেকে অপরাধীদের হাতে পৌঁছাল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মোবারক চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন ও রায়হানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। তাঁকে ‘বড় সাজ্জাদ’ বাহিনীর একজন শুটার হিসেবেও চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, মোবারকের বিরুদ্ধে ফটিকছড়ির জামাল ও সাদ্দাম হত্যা, রাউজানের মাসুদ হত্যা এবং চট্টগ্রাম নগরের সরোয়ার বাবলা হত্যা মামলায় সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া বড় সাজ্জাদের নির্দেশে সংঘটিত বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড ও চাঁদাবাজির ঘটনায় মোবারকের উপস্থিতির প্রমাণ তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ, ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান এবং তিন কনস্টেবল আহত হয়েছেন।

হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে।




ফটিকছড়িতে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

ফটিকছড়িতে পুকুরে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পুকুরে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একখুলিয়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত দুই শিশু হলো—একখুলিয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে জাহিদ (৮) ও আবদুর শুক্করের ছেলে তাহসিন (৮)। তারা স্থানীয় একখুলিয়া দারুস সুন্নাহ নূরানী মাদ্রাসার ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদ্রাসা ছুটির পর চার বন্ধু একসঙ্গে বাড়ি ফেরে। পরে তারা স্থানীয় একটি পুকুরে গোসল করতে নামে। চার শিশুর কেউই সাঁতার জানত না। একপর্যায়ে তারা পানিতে ডুবে যেতে থাকলে চিৎকার শুরু করে। এ সময় দুজন কোনোভাবে পুকুরের পাড়ে উঠতে পারলেও জাহিদ ও তাহসিন পানিতে তলিয়ে যায়।

বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। পরে স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাদের দ্রুত ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুই শিশুকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের স্বাস্থ্য সহকারী নিরঞ্জন সরকার দুই শিশুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, পুকুরে ডুবে যাওয়া দুই শিশুকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।




ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎ টাওয়ারের চূড়ায় যুবক, ৬ ঘণ্টা পর নামলেন নিজেই

ফটিকছড়িতে বিদ্যুৎ টাওয়ারের চূড়ায় যুবক, ৬ ঘণ্টা পর নামলেন নিজেই
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে জাতীয় গ্রিডের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের একটি টাওয়ারের চূড়ায় উঠে পড়েছিলেন এক যুবক। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে তাঁকে নামানোর চেষ্টা করেন পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন। একপর্যায়ে নিজেই টাওয়ার থেকে নেমে আসেন মো. তানজীব (২৫)। তিনি ভোলা জেলার চরফ্যাশনের সোহরাব সর্দারের ছেলে। পরে তাঁকে ভূজপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার মিরেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে টাওয়ারের একেবারে চূড়ায় দেখতে পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ ওই যুবককে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বিশাল আকৃতির একটি টাওয়ারের চূড়ায় অবস্থান করতে দেখা যায়। টাওয়ারটি জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের অংশ হওয়ায় ঘটনাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে নিরাপদে নামিয়ে আনার চেষ্টা শুরু করেন। প্রায় ছয় ঘণ্টা পর বিকেলের দিকে তানজীব নিজেই টাওয়ার থেকে নিচে নেমে আসেন।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, তানজীব কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ। কয়েক দিন আগে পরিবারের সঙ্গে মাইজভাণ্ডার দরবারে এসে সেখান থেকে তিনি নিখোঁজ হন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।




সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের কোনো দল নেই: সরোয়ার আলমগীর এমপি

সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের কোনো দল নেই: সরোয়ার আলমগীর এমপি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি ও ফটিকছড়ি উত্তর) আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর বলেছেন, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের কোনো দল নেই। এমনকি তাদের মা-বাবাও নেই।

তিনি বলেন, মাদকসেবীদের মা-বাবার প্রতি অনুরোধ থাকবে—আপনার সন্তান মাগরিবের পর কোথায় যায়, সে বিষয়ে খেয়াল রাখুন। সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে যেন সন্তান ঘরে ফিরে আসে, তা নিশ্চিত করুন। অনেক কিছুই নিজ ঘর থেকে সংশোধন করা সম্ভব।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে ফটিকছড়িতে আসন্ন মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ সফল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিকভাব সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পরিবার থেকেই সন্তানদের প্রতি নজরদারি বাড়ানো গেলে সমাজ থেকে অনেক অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, মঙ্গলবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় আমি বলেছি, দাঁতমারার হেয়াঁকো এখন মাদকের একটি আন্তর্জাতিক বাজারে পরিণত হয়েছে। ভারতের সীমান্ত দিয়ে গাঁজা ঢুকে হেয়াঁকো রোড হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়। অন্যদিকে, এ দিক থেকে ইয়াবা পাচার হয়।

তিনি বলেন, আমরা যদি মাদকের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারি এবং জড়িতদের সংশোধন করে ভালো পথে ফিরিয়ে আনতে পারি, তাহলে ফটিকছড়িকে মাদকমুক্ত করার ক্ষেত্রে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারব।

সরোয়ার আলমগীর বলেন, মাদকের পথ থেকে কেউ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইলে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে। তাদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হবে। বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসিত করে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির আজম চৌধুরী ও উত্তর জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব নাজিম উদ্দীন শাহীন উপস্থিত ছিলেন।