অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্প মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ব্যক্তি জড়িত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৩ অপরাহ্ন

অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্প মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ব্যক্তি জড়িত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্প মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের ব্যক্তি জড়িত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

পোশাকশিল্পে অস্থিরতা তৈরিতে কিছু শিল্পমালিক এবং শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, এসব ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ, অডিও ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। গতকালও কয়েকজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলনের নামে কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোমবার (২ নভেম্বর) সচিবালয়ে পোশাকশিল্পের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে একটি পক্ষ সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতার মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির ষড়যন্ত্র করছে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে।

আন্দোলনে শ্রমিক নন, এমন ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রকৃত কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠনের নেতা নিজেদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক, তা চাইবেন না। সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে প্রকৃত শ্রমিকদের সম্পৃক্ততা নেই বলে সরকার বিশ্বাস করে। তবে কোনো শ্রমিক সংগঠনের নেতা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে তাদেরও সরে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে মালিকপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যেসব কারখানা উদ্দেশ্যমূলকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে, সেগুলোর তালিকা সরকারকে দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্থিরতা তৈরিতে জড়িত শ্রমিক সংগঠন ও নেতাদের নামের তালিকাও চাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার কোনো শিল্পকারখানা বন্ধ হোক, তা চায় না। কারণ, এর সঙ্গে শ্রমিকদের রুটি-রুজির বিষয় জড়িত। কিছু কারখানা আর্থিক সংকট বা রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার কারণে বন্ধ থাকতে পারে। তবে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে গাজীপুর ও কালিয়াকৈর এলাকার কয়েকটি কারখানা গতকাল এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেগুলো আজ চালু হয়েছে।

পোশাকশিল্পের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ বিভাগ ও মালিকপক্ষের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে একটি নিয়ন্ত্রণকক্ষ স্থাপনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতি তিন বছর অন্তর ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালিকপক্ষ তাদের প্রতিনিধির নাম দিলেও শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে নাম দিতে কয়েক দিন সময় নেওয়া হয়। সর্বশেষ গত পরশু রাতে তারা প্রতিনিধিদের নাম দেয়। গতকাল যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজই মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা হতে পারে। তা না হলে অল্প সময়ের মধ্যেই সভা হবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে। ডিসেম্বরের মধ্যে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার সময়সীমা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, শ্রমিকদের স্বার্থ ও জীবনমানের উন্নতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সহানুভূতির সঙ্গে মজুরি নির্ধারণ করতে হবে।

শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে সোমবার বিকেল ৩টায় বৈঠকের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিকেলে শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য ও পরামর্শ শোনা হবে। সবার মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শেখ হাসিনাসহ সাজাপ্রাপ্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ব্যক্তিদের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছে। তারা দেশে ফিরলে আদালতের রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে অযথা আলোচনা তৈরি করে পলাতক নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চলছে। তবে ডিসেম্বর, ফেব্রুয়ারি বা নভেম্বর কোনো মাসকে কেন্দ্র করেই দেশে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না।

বৈঠকে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা ও সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, বিজিএমইএ'র সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ'র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিকেএমইএ'র নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসানসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে বড় পরিবর্তন, এক লাইনে লেখার অনুমতি

মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটে বড় পরিবর্তন, এক লাইনে লেখার অনুমতি
ছবি সংগৃহীত।

মোটরসাইকেলের সামনের নম্বরপ্লেটের নকশা, আকার ও নম্বর লেখার পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। এখন থেকে মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর এক লাইনে লেখার অনুমতি দিতে পারবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। পাশাপাশি মোটরসাইকেলের নকশা অনুযায়ী একাধিক মাপের নম্বরপ্লেট ব্যবহারের অনুমতিও দিতে পারবে সংস্থাটি।

এজন্য রোববার (১ নভেম্বর) সংশোধিত ‘সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২’ এর গেজেট প্রকাশ হয়েছে। এর আগে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’ এর ১২২ ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে বিধিমালার ৩৬ নম্বরে পরিবর্তন আনা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত পদ্ধতির পাশাপাশি একটি আনুভূমিক রেখায় নম্বর লেখার অনুমতি দিতে পারবে কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ আগে দুই লাইনে নম্বর লেখার যে পদ্ধতি ছিল, তার পাশাপাশি এক লাইনে নম্বর প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি হলো।

এ ছাড়া মোটরসাইকেলের নকশা অনুযায়ী সামনের নম্বরপ্লেটের আকার পরিবর্তনের সুযোগ রাখা হয়েছে। আগে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের জন্য ২০৫ বাই ১৫২ মিলিমিটারের একটি নির্দিষ্ট মাপ উল্লেখ ছিল। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজনে একাধিক মাপের বিপরীতমুখী রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ প্লেট ব্যবহারের অনুমতি দিতে পারবে বিআরটিএ।

নতুন বিধিমালায় সামনের নম্বরপ্লেটের বিভিন্ন অক্ষরের উচ্চতা, জেলা বা অঞ্চলের নাম নির্দেশকারী অক্ষরের মাত্রা, যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের উচ্চতা, প্লেটের ওপরের অংশের ফাঁকা জায়গা এবং দুটি সংখ্যার মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গার পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে বিআরটিএকে।

এ ছাড়া দুই লাইনে নম্বর প্রদর্শনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় লাইনের সংখ্যাগুলোর মধ্যবর্তী হাইফেনের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ। একই লাইনে নম্বর লেখার ক্ষেত্রে জেলা বা অঞ্চলের নাম এবং যানবাহনের শ্রেণি নির্দেশকারী অক্ষরের পর নির্ধারিত দৈর্ঘ্যের হাইফেন ব্যবহারের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

বিধিমালার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, ৩৬ নম্বর বিধির উপবিধি ১০ থেকে ‘মোটরসাইকেল এবং’ শব্দ দুটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালের মূল বিধিমালায় মোটরসাইকেল ও প্রতিবন্ধীবাহক মোটরযানকে সামনের অংশে রেজিস্ট্রেশন নম্বর প্রদর্শন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। সংশোধনের ফলে মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে সেই অব্যাহতি আর থাকছে না। তবে প্রতিবন্ধীবাহক মোটরযানের জন্য অব্যাহতি বহাল থাকছে।




পোশাক শিল্পে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

পোশাক শিল্পে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ
ছবি সংগৃহীত।

তৈরি পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১ নভেম্বর) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে তৈরি একই সঙ্গে কারখানাগুলোর উৎপাদন যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বজায় থাকে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা পোশাক খাতে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে সরকার তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করবে।

একই সঙ্গে কারখানাগুলোর উৎপাদন যাতে কোনোভাবেই ব্য রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরও জানান, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি পোশাক খাতের স্বাভাবিকতা ব্যাহত না হয় এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বজায় থাকে সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন কার্যক্রম বজায় রাখা এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।




টিআইবির প্রতিবেদন: মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত শীর্ষ ৩ দল, এক দশক কাউন্সিল হয়নি বিএনপির

টিআইবির প্রতিবেদন: মনোনয়ন বাণিজ্যে জড়িত শীর্ষ ৩ দল, এক দশক কাউন্সিল হয়নি বিএনপির
ছবি সংগৃহীত।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোতে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলে মনোনয়ন বাণিজ্য হয়ে থাকে।

তাছাড়া শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন, নীতিনির্ধারণ ও প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া ব্যক্তিনির্ভর এবং পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। দলগুলোর সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে। একই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষ পদ আঁকড়ে থাকায় নেতৃত্বের পরিবর্তন ও জবাবদিহির সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দেশের অন্যতম বড় দল ক্ষমতাসীন বিএনপির কাউন্সিল হয়নি এক দশক।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

রবিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির মেঘমালা সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান প্রতিবেদনের বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন।

এতে জানানো হয়, দেশের প্রধান ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলোতে সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে ‘মনোনয়ন বাণিজ্যের তথ্য পেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। মাঠপর্যায়ে একটি আসনের নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে প্রার্থীর ৫০ কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের তথ্য দলগুলোর নেতাদের কাছ থেকেই পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যমান রাজনৈতিক দলের মধ্যে ১০টিতে পরিবারকেন্দ্রিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব দলের মধ্যে রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় পার্টি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা এবং বাংলাদেশ জাস্টিস পার্টি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দলগুলো প্রকাশ্যে মনোনয়ন বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করলেও এটি যে মাঠপর্যায়ে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত, তা বিভিন্ন সময়ে দলীয় প্রতিনিধিদের বয়ানেই উঠে এসেছে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেন, সেখানে নির্বাচন কমিশনে পুরো দল মিলে বছরে মাত্র ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয়। দলগুলোর এই আর্থিক অস্বচ্ছতার কারণে পর্দার আড়ালে বা টেবিলের নিচে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন এবং অবৈধ অর্থায়নের পথ সুগম হচ্ছে বলে মনে করে টিআইবি।

প্রতিবেদনে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক চর্চা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসনের সংকট তুলে ধরা হয়েছে।

এতে উল্লেখ করা হয়, একটি প্রধান রাজনৈতিক দল দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কোনও কাউন্সিল আয়োজন করেনি। অবশ্য উপস্থিত সাংবাদিকরা সেই দলটির নাম জানতে চাইলে জানানো হয় ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একাদশ আনুষ্ঠানিক কাউন্সিল করেনি।

এ সময় ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নিয়মিত কাউন্সিল ও তৃণমূলের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত না হওয়ায় সাধারণ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে পড়ছে। এতে দলগুলো ভেতর থেকে শক্তিশালী হওয়ার পরিবর্তে শুধু ওপরের স্তরের মুষ্টিমেয় নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব বাছাইয়ের অনীহার কারণে পরিবারতন্ত্র ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক কর্তৃত্বপরায়ণতা ক্রমাগত প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিচ্ছে। দেশে বর্তমানে অন্তত ১০টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব পারিবারিক উত্তরাধিকার সূত্রে নির্ধারিত হচ্ছে।

টিআইবির গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত ৩২টি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বের সময়কাল বিশ্লেষণ করে উল্লেখ করা হয়, ১২টি দলের প্রধান ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে পাঁচটি দলের প্রধানের নেতৃত্বের মেয়াদ ১০ থেকে ২০ বছর এবং সাতটি দলের প্রধান ২০ বছরের বেশি সময় ধরে দায়িত্বে রয়েছেন। বাকি ২০টি দলের প্রধানের নেতৃত্বের মেয়াদ ১০ বছরের কম।