অন্যের খেলার দাবার বোর্ড হতে চাই না : শামা ওবায়েদ
রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন

অন্যের খেলার দাবার বোর্ড হতে চাই না : শামা ওবায়েদ

অন্যের খেলার দাবার বোর্ড হতে চাই না : শামা ওবায়েদ
ছবি সংগৃহীত।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশ এখন এমন একটি অবস্থানে রয়েছে যেখানে আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা অন্য খেলোয়াড়দের খেলার জন্য দাবার বোর্ড হতে চাই না। আমরা আমাদের নিজেদের শর্তে খেলতে চাই।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ‘নতুন করে লেখা এক বিশ্ব’ শীর্ষক এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, আমরা মাথা উঁচু রেখে বাকি বিশ্বের সঙ্গে আলোচনা, সহযোগিতা এবং অংশীদারত্ব করতে প্রস্তুত। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো জনগণের স্বার্থ।

শামা ওবায়েদ বলেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশকেও উপসাগরীয় যুদ্ধের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। যেখানে আমাদের দুটি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এর মধ্যে একটি হলো অপ্রত্যাশিত জ্বালানি সংকট এবং অন্যটি হলো বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি, যারা উপসাগরীয় দেশগুলোতে বসবাস ও কাজ করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বৈচিত্র্যকরণ, নতুন উৎস এবং নতুন ক্ষেত্রগুলোর দিকে নজর দিচ্ছি যেখান থেকে আমরা জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারি। সেই সঙ্গে দেশে আমাদের নিজস্ব গ্যাস এবং এলএনজি-এর উৎস রয়েছে, যা এর আগে বা বিগত সরকারের আমলে কখনো অনুসন্ধান করা হয়নি। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আমরা ইতোমধ্যেই এর অনুসন্ধান শুরু করেছি। আমরা সৌরবিদ্যুতের দিকে নজর দিচ্ছি এবং প্রতিটি নাগরিককে জ্বালানির ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার চেষ্টা করছি।

শামা ওবায়েদ বলেন, ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে আসছে, যা ইতোমধ্যেই আমাদের অর্থনীতির ওপর একটি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ সবসময়ই এই বিষয়ে অত্যন্ত সহযোগিতাপূর্ণ এবং সংবেদনশীল। কিন্তু একই সঙ্গে, আমরা আমাদের অংশীদার, বন্ধু, উন্নয়ন সহযোগী এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলছি, যাতে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সম্মানজনক, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল প্রত্যাবাসন সম্ভব করার জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

‘নতুন করে গড়ে ওঠা এক বিশ্বে ক্ষমতা, প্রযুক্তি ও আস্থার পথচলা’ স্লোগানে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এই সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস)। অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।




ঙ্গোপসাগরকে সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখ‌তে চায় বাংলা‌দেশ: আ ন ম মুনীরুজ্জামান

ঙ্গোপসাগরকে সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখ‌তে চায় বাংলা‌দেশ: আ ন ম মুনীরুজ্জামান
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপ‌তি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান ব‌লে‌ছেন, বঙ্গোপসাগরকে যে কোনো বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলা‌দেশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের এক‌টি সেশনে করা প্রশ্নের জবা‌বে এ কথা ব‌লেন তি‌নি।

চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে প্রশ্ন রাখা হয় মুনীরুজ্জামানের কা‌ছে। জবা‌বে তি‌নি ব‌লেন, দক্ষিণ এশিয়া এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। ভারত ও চীন উভয়কে বাংলা‌দে‌শের কাছে অনেক কিছু দেওয়ার আছে।

সামুদ্রিক স্থিতিশীলতার প্রসঙ্গ টে‌নে সা‌বেক এই মেজর জেনারেল ব‌লেন, বঙ্গোপসাগরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। বঙ্গোপসাগর কেবল এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং ভারত মহাসাগরের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত পরিকল্পনায় এই বিশাল উপসাগরটির ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাংলাদেশ এখানে সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, যা ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই অপরিহার্য।

তি‌নি ব‌লেন, আমরা বঙ্গোপসাগরকে যে কোনো বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চাই।

আঞ্চলিক সংযোগের কেন্দ্রবিন্দু উদাহরণ দি‌য়ে মুনীরুজ্জামান ব‌লেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ভূ-কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশ যদি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত একটি স্থলপথ বা করিডোর তৈরি করে, তবে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগের মাধ্যমে ভারত ও চীন উভয় ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গও তো‌লেন সা‌বেক এই সেনা কর্মকর্তা। তি‌নি ব‌লেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা বর্তমানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশের ভূমিকা ভারত ও চীন উভয়ের জন্য উপকারী।




শেখ হা‌সিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না : দীনেশ ত্রিবেদী

শেখ হা‌সিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না : দীনেশ ত্রিবেদী
ছবি সংগৃহীত।

২০২৪-এর ৫ আগস্টে বাংলা‌দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনাকে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভারতের হাতে কোনো বিকল্প ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনা দীনেশ ত্রিবেদী।

তি‌নি বলে‌ন, ‘শেখ হাসিনা যখন ভারত যান তিনি তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তা‌কে আশ্রয় দেওয়া ছাড়া ভার‌তের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে এক সেশনে প্রশ্নের জবা‌বে ভারতীয় হাইক‌মিশনার এ কথা ব‌লেন।

শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণ নি‌য়ে এক প্রশ্নের জবা‌বে দী‌নেশ ত্রিবেদী ব‌লেন, ‘এটা বলতে গেলে আমাদের একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ভারত সরকার তাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মাধ্যমে বারবার এর উত্তর দিয়েছে যে, এর একটি নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আইনি বৈধতা জড়িত ও এটি বেশ সুগঠিত।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘এ বিষয়ে বলতে গেলে প্রক্রিয়াটি চলছে এবং এটি আদালতের সঙ্গে জড়িত। তাই কেউ আপনাকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে পারবে না।’

দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে শেখ হাসিনাকে আমাদের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। সেসময় বাংলাদেশের মর্মান্তিক পরিস্থিতির কারণেই এমনটা হয়েছিল এবং আমরা আশা করি, প্রার্থনা করি যে, এমনটা যেন আর কখনো না ঘটে, যেখানে নির্দোষ মানুষ নিহত হয়। সেটা পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক না কেন।

তি‌নি ব‌লেন, ‘সামরিক বিমানটি ভারতে এসেছিল, যার জন্য ভারত প্রস্তুত ছিল না। আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম এবং স্ক্রলে লেখা আসছিল যে তিনি অন্য কোথাও, অন্য কোনো দেশে যাচ্ছেন। তাই সেই সময়ে, শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ ব্যাপারে আমাদের কাছে তেমন কোনো বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল।’

ভারতীয় হাইক‌মিশনার ব‌লেন, ‘অনেক সময় পরিস্থিতি এমন হয় যেখানে আপনি এর জন্য প্রস্তুত থাকেন না। আমাদের কাছে আর কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম যে, না আমরা তাকে গ্রহণ করব না, আমরা ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি দেব না, তবে পরিস্থিতি যে কী দাঁড়াতো তা আমার জানা নেই। সুতরাং এটিই হলো ঐতিহাসিক কারণ।’

তি‌নি আরও ব‌লেন, ‘বাকিটা আমার জানা নেই। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, সে বিষয়ে আপনি পুরোপুরি নিশ্চিত থাকতে পারেন। বাংলাদেশের মতো ভারতও একটি প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ এবং আপনিও আইনি ব্যবস্থাকে সম্মান করবেন বলে আশা করি। আর আইনি ব্যবস্থা তার কাজ করছে।’ 




শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে শক্তিশালী বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ছবি সংগৃহীত।

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিখাত। আমরা প্রযুক্তি, সেচ, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজার সংযোগ আরও সহজলভ্য করছি। আমরা মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের সহায়তা প্রদান করছি। খাদ্য নিরাপত্তার পরিপূরক হিসেবে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষি রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। কারণ আমি বিশ্বাস করি, একটি শক্তিশালী গ্রামীণ অর্থনীতিই গড়ে তুলতে পারে একটি শক্তিশালী বাংলাদেশ।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানী হোটেল সোনারগাঁও বে অব বেঙ্গল কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সুদৃঢ় করছি। মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই সুরক্ষিত রাখতে হবে। আইনের শাসন প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। আমরা এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে তুলব, যেখানে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ একই সঙ্গে একটি বড় বৈশ্বিক দায়িত্ব পালন করে চলেছে। আমরা এখনও প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো মিয়ানমারে তাদের দ্রুত, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা। এর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি এই সংকটের মূল কারণগুলোর সমাধান করাও জরুরি; যে সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তার সমাপ্তিও হতে হবে মিয়ানমারেই।

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করছি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, দেশকে একটি শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছি। উৎপাদন, সেবা, রপ্তানিসহ সব খাতে আমরা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত নিশ্চয়তা অপরিহার্য, আর আমাদের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতাই সেই নিশ্চয়তা প্রদান করবে।

তিনি বলেন, আমাদের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা অগ্রাধিকার পান। ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এর মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের মায়ের হাতে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে, যা সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু হবে। ‘কৃষক কার্ড’ কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা, কৃষি সেবা ও বাজার ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করবে। ‘হেলথ কার্ড’ নিশ্চিত করবে সবার জন্য চিকিৎসাসেবা। আর চূড়ান্তভাবে, ‘ইউনিভার্সেল কার্ড’-এর মাধ্যমে নাগরিকরা এক ছাতার নিচে সমন্বিত সরকারি সেবাগুলো গ্রহণ করতে পারবেন।

স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১ লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগে কাজ করছি, যার মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তারা তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় রেফারেল সেবা প্রদান করবেন। পাশাপাশি আমরা মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের শুধু সনদের জন্য নয়, বরং বাস্তব জীবনের জন্য তৈরি করবে। আমরা আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছি। আমাদের সন্তানদের চরিত্র গঠনে পাঠ্যক্রমে সংস্কৃতি, খেলাধুলা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। তাদের জন্য একটি তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগও থাকবে। সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটানো হবে। আমাদের সরকার প্রথম শ্রেণি থেকেই বিনামূল্যে ইউনিফর্ম, স্কুলব্যাগ, মিড-ডে মিল ও বৃত্তি প্রদান করবে। এছাড়া স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার পরিধি আমরা সম্প্রসারিত করছি। আমাদের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী জাতীয় অগ্রগতির এক অনন্য চালিকাশক্তি। তবে এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগাতে প্রয়োজন দক্ষতা ও উপযুক্ত কর্মসংস্থান। আমরা ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে গ্রহণ করছি। আমরা উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্ট-আপগুলোকে সহায়তা দিচ্ছি। আমরা চাই আমাদের তরুণেরা বিশ্বমঞ্চে প্রতিযোগিতা করুক এবং ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপান্তর করুক।

পানি নিরাপত্তাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আগামী ৫ বছরে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও জলপথ খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আমরা পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছি। এছাড়া আমরা তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করছি। এসব পদক্ষেপ কৃষিখাতকে সহায়তা করবে এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করবে।

তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় আমাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আগামী ৫ বছরে আমরা ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করব।আমরা সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারিত করছি। বাংলাদেশ বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব গ্রিন ফ্যাক্টরি স্থাপনে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড সার্টিফাইড ফ্যাক্টরির মধ্যে ৫৩টিই এখন বাংলাদেশে। পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলার মাধ্যমে আমরা বর্জ্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে পারি।

বঙ্গোপসাগর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করে চলেছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে আমাদের সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতি পুরো বিশ্বের সাথে যুক্ত হতে পারে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ চেইনে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিকভাবে আমাদের এই অভিন্ন ভৌগোলিক অবস্থানকে অভিন্ন সমৃদ্ধিতে রূপান্তর করতে হবে। আর সেজন্য প্রয়োজন আরও গভীর দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সম্পৃক্ততা।

তিনি বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করতে পারি। আমরা নতুন বাজার উন্মুক্ত করতে পারি এবং আমাদের তরুণদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করতে পারি। সমতা, ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে আমরা আরও শক্তিশালী সহযোগিতার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের একত্রিত করেছে; আর আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক আমাদের আরও বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। আমরা আমাদের জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করব। একই সঙ্গে, আমরা আমাদের সব আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যাব। কারণ শান্তি ও সম্প্রীতিই হলো যৌথ সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের মূলভিত্তি।

বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলটি এমন একটি এলাকায় পরিণত হোক যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র একসঙ্গে বিকশিত হবে, পারস্পরিক সমান সুবিধা গ্রহণ করবে এবং নাগরিকরা অর্থবহ সহযোগিতার হাতকে প্রসারিত করবে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার যথাযথ ভূমিকা পালনে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।