আজ রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ই শ্রাবণ ১৪৩১

‘উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নে কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : | প্রকাশের সময় : রবিবার ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ০৭:৩৯:০০ অপরাহ্ন | জাতীয়

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেছেন,বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গুণগতমান নিশ্চিত করতে হবে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে হবে।

 

সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা নিতে হবে।  

আমাদের দেশের প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়েরই নিজস্ব কিছু সম্ভাবনা রয়েছে।

 

হয়তো আমাদের রিসোর্সের সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে। কিন্তু সেই সীমিত রিসোর্সের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে একজন শিক্ষার্থী তার চিন্তাভাবনা লালন করে সেটাকে পূর্ণতা এনে দিতে পারে।

রোববার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটরিয়ামে চুয়েটের ২১তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন চুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। প্রধান বক্তা ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট সাংবাদিক ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এমএ মালেক।

 

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সুনীল ধর, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. মইনুল ইসলাম, পুরকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সুদীপ কুমাল পাল, তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামসুল আরেফিন। স্বাগত বক্তব্য দেন যন্ত্রকৌশল অনুষদের ডিন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির।

 

বক্তব্য দেন এমআইই বিভাগের অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন আহাম্মদ, সুফিয়া কামাল হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মোছা. ফারজানা রহমান জুথী, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম, স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জামাল উদ্দীন এবং ইইই বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুল হাসান, ফাইরুজ তাসনীম রুহিয়া ও আশরাফুল আলম তানিম। সঞ্চালনা করেন ইইই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সম্পদ ঘোষ, ইটিই বিভাগের প্রভাষক প্রিয়ন্তি পাল টুম্পা ও এমআইই বিভাগের প্রভাষক তাসমিয়া বিনতে হাই। চুয়েটের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করেন উপ-পরিচালক (তথ্য ও প্রকাশনা) মোহাম্মদ ফজলুর রহমান।

 

ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম বলেন, চুয়েট মাত্র দুই দশকের পথচলায় দেশের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ক্ষেত্রে অবদান রাখছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে গবেষণা সংস্কৃতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দেশ-বিদেশে আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা মেধা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়েও আমাদের অবস্থান সুসংহত হয়েছে। সবার সহায়তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চাই।  

 

দৈনিক আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক বলেন, গণমাধ্যমের নীতি হচ্ছে শুধুই কাজ করে যাওয়া। স্বীকৃতির আশায় আমরা বসে থাকি না। দৈনিক আজাদী ঐতিহাসিকভাবে চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ভূমিকা রেখে চলেছে। আজাদীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আমার বাবা মরহুম আবদুল খালেক ছিলেন বাংলাদেশের প্রথম মুসলমান ইঞ্জিনিয়ার। তাই ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকেই বিআইটি থেকে চুয়েট রূপান্তরের আন্দোলন-সংগ্রামে আজাদী অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। চুয়েট মেধাবীদের উর্বর ভূমি। চুয়েটের যেকোনো অর্জনে তাই আমরাও আনন্দিত হই। চট্টগ্রামের উন্নয়ন ও পরিকল্পনায় আমরা চুয়েটের আরও বলিষ্ঠ ভূমিকা প্রত্যাশা করি।  

 

২১তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালি রেব করা হয়। র‌্যালিতে রঙ-বেরঙের বাঁশি-ভুভুজেলা ও ঢাকঢোল বাজিয়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীরা অংশ নেন।  

 

২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা-গবেষণার একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির অধীনে ১৯৬৮ সালের ২৮ ডিসেম্বর ‘চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই স্বায়ত্তশাসিত ‘বিআইটি, চট্টগ্রাম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। চুয়েটে বর্তমানে ১২টি বিভাগে ৯২০টি আসনের (উপজাতি কোটাসহ মোট ৯৩১ আসন) বিপরীতে স্নাতক পর্যায়ে ৪ হাজার ৮০০ জন এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১ হাজার ২০০ জন মিলিয়ে প্রায় ৬ হাজার ছাত্রছাত্রী অধ্যয়নরত রয়েছে। এ ছাড়া ১০১ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারীসহ প্রায় ৩৪০ জন শিক্ষক, ১৭০ জন কর্মকর্তা এবং ৪৬০ জন কর্মচারী নিয়ে একটি পরিবার হিসেবে চুয়েট এগিয়ে যাচ্ছে।