আজ মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩১
প্রস্তাবনা ও ডিজাইন যাচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তরে

সীতাকুণ্ডের ১৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় কাটবে সিডিএ

ইলিয়াছ ভূঁইয়া, সীতাকুণ্ড : | প্রকাশের সময় : শুক্রবার ৩ ডিসেম্বর ২০২১ ০৮:৪৪:০০ অপরাহ্ন | উত্তর চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে ছয় কিলোমিটার সড়ক তৈরি করতে সাবাড় করা হয়েছে ১৬টি পাহাড়। ছোট্ট একটি সড়ক করতে এত বেশি পাহাড় কাটার ঘটনা অতীতে কখনও ঘটেনি। পরিবেশ অধিদপ্তর বারবার জরিমানা করার পরও ফৌজদারহাট-বায়েজিদের এই সংযোগ সড়ক তৈরি থেকে পিছু হটেনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (চউক বা সিডিএ)। আইনের তোয়াক্কা না করেই সরকারি সংস্থাটি প্রকল্পটি প্রায় শেষ করে ফেলেছে। 

এই সংযোগ সড়ক তৈরি করতে গিয়ে নির্বিচারে পাহাড় কেটেছে চউক। জঙ্গল সলিমপুর মৌজার পাহাড়গুলো এমনভাবে কাটা হয়েছে যে, সামান্য বৃষ্টিতেই পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাড়াভাবে কাটার পর এসব পাহাড়ের পাদদেশে কোনো গাছও লাগানো হয়নি। রাস্তার পাশে ড্রেন করা হলেও পাহাড় বেয়ে নেমে আসা পুরো পানি নিস্কাশন হওয়ার সুযোগ কম। আর পানি সরে যাওয়ার পথ না পেলে বর্ষা মৌসুমে এই সড়কে ঘটতে পারে পাহাড়ধসের ঘটনা। তাই পুনরায় কাটা হবে চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ফৌজদারহাট- বায়েজিদ লিংক রোডের ১৬ পাহাড়। ইতিমধ্যে খাড়া থাকা ১৬ পাহাড়কে পরিবেশসম্মতভাবে কাটার ডিজাইন চূড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বিশেষজ্ঞ টিম। এ প্রস্তাবনা পরিবেশ অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস।

 

জানা যায়, ৬ কিলোমিটারের ফৌজহারহাট – বায়েজিদ লিংক রোড নির্মাণের জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আড়াই লাখ ঘনফুট পাহাড় কাটার অনুমোদন নিয়ে সিডিএ ১০ লাখ ৩০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটে। পরবর্তীতে গত বছরের ২৯ জানুয়ারি পাহাড় কেটে জীববৈচিত্র ধ্বংস, পাহাড়ের উপরিভাগের মাটি এবং ভূমির বাইন্ডিং ক্যাপাসিটি নষ্টসহ পরিবেশ-প্রতিবেশের অপূরণীয় ক্ষতি সাধন করার দায়ে ১০ কোটি ৩৮ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৩ টাকা জরিমানা নির্ধারণ করে পরিবেশ অধিদপ্তর। একইভাবে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি আরেক শুনানিতে প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকেও ৫ কোটি ২৩ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে পরিবেশ অধিদপ্তর। যদিও জরিমানার দুই মামলা আপিল শুনানিতে এখনো নিষ্পত্তি হয়নি ।

 

পরবর্তীতে প্রকল্পে আগে কাটা ১৬টি পাহাড় ২২.৫ ডিগ্রি এঙ্গেলে কাটার প্রস্তাবনা দিলেও পরিবেশ অধিদপ্তর না করে দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অনুমোদন চাওয়া হলেও ২২.৫ ডিগ্রি এঙ্গেলে পাহাড় কাটার সম্মতি মেলেনি। এরপর ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়গুলো কাটা ও সংরক্ষণ কিভাবে করা হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতসহ প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এরপর সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। সিডিএ’র চেয়ারম্যান এম জহিরুল আলম দোভাষের নির্দেশনায় পাঁচ সদস্যের এ কমিটিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের এক প্রকৌশলীকেও রাখা হয়। অন্যদের মধ্যে ছিলেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের দুই বিশেষজ্ঞ শিক্ষক। পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পাহাড় কাটার বিষয়ে সিদ্ধান্তে নিয়েছিল সিডিএ। কিন্তু শেষতক এ সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে প্রকল্প পরিচালক ও চুয়েটের দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ কমিটি করা হয়। বিশেষজ্ঞ কমিটি তাদের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। মূলত চুয়েটের দুই শিক্ষকই পাহাড়গুলোর ব্যবস্থাপনার মূল পরিকল্পনা ও ডিজাইন তৈরি করেন।

 

সরেজমিনে ফৌজহারহাট- বায়েজিদ লিংক রোডে গিয়ে দেখা গেছে, বৃষ্টিতে পাহাড় ধস শুরু হওয়ায় দুর্ঘটনারোধে গত ২১ এপ্রিল থেকে একপাশে আড়াআড়ি করে দেওয়া আরসিসি ব্লক গুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং যান চলাচল করছে।

সিডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, রোডটিতে কাটা ১৬টি পাহাড়কে নতুন করে পরিবেশসম্মত উপায়ে কাটার প্রস্তাবনা ও ডিজাইন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর পাহাড়গুলো কাটার কাজে হাত দেওয়া হবে। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বে যেভাবে পাহাড় ব্যবস্থাপনা করা হয়, সেভাবেই পাহাড়গুলোকে কাটা হবে। তছাড়া কিছু পাহাড়ে রিটেইনিং ওয়াল, কিছুতে জিও টেং, জিও ম্যাশ দিয়ে গ্রিন এনভায়রনমেন্ট তৈরি করা হবে ।