আজ মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪, ৪ঠা আষাঢ় ১৪৩১

ইটের উপর বসে চুল-দাঁড়ি কামানোর পেশা ধরে রেখেছেন জহরলাল শীল

নিজস্ব প্রতিবেদক : | প্রকাশের সময় : শুক্রবার ৩ ডিসেম্বর ২০২১ ১১:০৩:০০ পূর্বাহ্ন | এক্সক্লুসিভ

চট্টগ্রামের আনোয়ারায়  ইটের উপর বসে চুল-দাঁড়ি কাটানোর সেই অতীতের পেশা আজও ধরে রেখেছেন ক্ষৌরকার (নৃপতি) জহরলাল শীল। অনেকেই সেই ৫০/৬০ দশকের পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিয়েছেন। সর্বত্র আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও উপজেলার বিলপুর গ্রামের সাধারণ বৃদ্ধ মানুষ এখনও হাটে-বাজারে ও বাড়ির আঙ্গিনায় ইটের উপর বা কাঠের পিড়িতে বসে চুল কাটানোর কাজটি  সেরে নেন। 

গ্রামের অতীত স্মৃতি খুঁজতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে গেলে এরকম  পেছনে ফেলে আসা দিনগুলির চিত্র  চোখে  পড়ে। ৪০ টাকা থেকে শুরু করে শতাধিক টাকা দিয়ে বর্তমানে চুল কাটা ও দাঁড়ি সেভ  করা হয়। কিন্তু গ্রামের সেই জহরলাল নাপিতের কাছে ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা দিলেই  চুল কাটানো হয়। 

সরে জমিনে দেখা যায় , শুক্রবার সকালে উপজেলা সদরের পাশের গ্রাম বিলপুরে  চায়ের দোকানের সামনে রাস্তার ধারে বৃদ্ধ মানুষের দাঁড়ি কাটছেন ঐ গ্রামের খুব চেনা মানুষ জহরলাল শীল  (৬৫)। তাকে গ্রামের সবাই জহরলাল নাপিত বলে জানেন। এক নামেই যার পরিচিতি। কথা হলো সেই মানুষটির সাথে। 

জহরলাল বলেন, আমি দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে নিজ গ্রাম ও পাশের জয়কালী বাজারে ভ্রাম্যমাণ ভাবে চুলদাঁড়ি কামানোর কাজ করে আসছি। আমি স্ত্রী ছেলে মেয়ে নিয়ে আমার পরিবার ।আধুনিককালে সুন্দর ও উন্নতমানের ডেকোরেশন করে বিশাল আয়নার সামনে কাঠের বা প্লাষ্টিক চেয়ারে বসে প্রসাধনী ও সেভিং ক্রীম দিয়ে চুল দাঁড়ি কাটা হয়। গ্রামেও আধুনিক মানের সেলুন ব্যবসা শুরু হয়েছে।করোনা কালে খুব কষ্টে দিন পার করেছি । সরকার থেকে শুনেছি গরীবদের জন্য অনেক সহযোগিতা এসেছি । কিন্তু আমি কোন সহযোগিতা পাইনি । 

গ্রামের দীনমজুর দানু মিয়া জানান, আমরা গরীব মানুষ। বেশী টাকা দিয়ে বাজারের সেলুনে যেতে পারিনা। তাই অল্প টাকা খরচ করে গরীবের বন্ধু জহরলাল নাপিতের কাছে আমরা চুল দাঁড়ি কাটিয়ে থাকি। দীর্ঘদিন যাবত আমাদের ছেলে মেয়েদেরও চুল কাটানোর কাজটি করে থাকি। 

কথা প্রসঙ্গে বেশ কয়েকজন জানান, বিলপুর গ্রাম সহ আশে পাশের গ্রাম গুলোতে দিন ভাগ করে জহরলাল কাজ করে থাকেন। পাঁচদিন গ্রামের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় , দুই দিন জয়কালী বাজারে কাজ করেন। গ্রামের বেশীরভাগ দরিদ্র পরিবারের লোকজনের চুল দাড়ি কাটানোর কাজ বাকীতে করে পরবর্তীতে ফসল কাটার মৌসুমে ধান চাল নিয়ে থাকেন। 

এব্যাপারে গ্রামের একজন চাকরীজীবি জানান, আমরা যাই করিনা কেন, অতীতকে ভুলে নয়। শেকড়ের কথা আমাদের মনে রাখতে হবে। আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য সাহিত্য সংস্কৃতি আমরা যেন  ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে  তুলে ধরতে পারি।