নাইক্ষ্যংছড়িতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও চার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় নাইক্ষ্যংছড়ি সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে এসব প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. আব্দুল হামিদের সঞ্চালনায় এবং উপজেলা আমির মো. আবু নাছেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির এস এম আব্দুচ সালাম আজাদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা জামায়াতের তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক হামেদ হাসান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সহসভাপতি রফিক বশরী, নাইক্ষ্যংছড়ি শ্রমজীবী বিভাগের সভাপতি রফিক আহম্মেদ, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর জামায়াতের আমির মাস্টার আব্দুল গফুর ও বাইশারী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সেলিম উদ্দিন।
এ ছাড়া বান্দরবান জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি নুরুল আবছার এবং ছাত্রশিবিরের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সভাপতি নূর সাদেকসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে জেলা আমির এস এম আব্দুচ সালাম আজাদ উপজেলা চেয়ারম্যান পদে আব্দুল মান্নান, ভাইস চেয়ারম্যান পদে অ্যাডভোকেট কামরুল আমিন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সালমা আক্তারের নাম ঘোষণা করেন।
এ ছাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ঘুমধুম ইউনিয়নে মো. হামিদুল হক, দোছড়ি ইউনিয়নে নুরুল আজিজ, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে উপজেলা আমির মো. আবু নাছের এবং বাইশারী ইউনিয়নে মাওলানা রফিক বশরীর নাম ঘোষণা করা হয়। তবে সোনাইছড়ি ইউনিয়নে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি।
সমাবেশে ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে এখন থেকেই সাংগঠনিকভাবে কাজ শুরু করতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করা এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস এম আব্দুচ সালাম আজাদ বলেন, ইসলামের বিপরীতে যা কিছু রয়েছে, তা তাগুত। জামায়াতে ইসলামীর আকিদা কোরআন ও সুন্নাহভিত্তিক। তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফতোয়া ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী বিরোধী দলে থাকার সময়ের তুলনায় বর্তমানে দলটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য ও ফতোয়া বেশি দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে নেতাকর্মীদের বিভ্রান্ত না হয়ে কোরআন-সুন্নাহর আলোকে নিজেদের আদর্শ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার পাশাপাশি ঘোষিত সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে নিয়ে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।