হিসাব-নিকাশসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ফটিকছড়িতে মাদ্রাসা পরিচালক বহিষ্কার
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ন

হিসাব-নিকাশসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ফটিকছড়িতে মাদ্রাসা পরিচালক বহিষ্কার

হিসাব-নিকাশসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে ফটিকছড়িতে মাদ্রাসা পরিচালক বহিষ্কার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাইন্দং বাইতুছ ছালাম জামে মসজিদ ও হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) নূরানী মাদ্রাসা ও হিফজখানার সুপার ও পরিচালক মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটি। একই সঙ্গে তাঁকে প্রতিষ্ঠানের সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদ্রাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুহাম্মদ মফিজুল আলম। তিনি বলেন, মাদ্রাসা পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়া, ব্যাংক হিসাব না খোলা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সনদপত্র কমিটির কাছে উপস্থাপন না করা এবং পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত না মানাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

সভাপতি মফিজুল আলম বলেন, প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন অনিয়ম ও অসংগতির বিষয়ে মাসুম বিল্লাহকে একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। পরে প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি ওয়াকফ এস্টেটভুক্ত করার জন্য সরকারি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। ওই প্রক্রিয়া শেষে মোতোয়াল্লি ও পরিচালনা কমিটি অনুমোদন পেয়েছে।

তিনি জানান, গত ২৭ আগস্ট ও ৫ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংক হিসাব পরিচালনার জন্য অপারেটর নিয়োগের রেজুলেশন করা হয়। কিন্তু এরপরও মাসুম বিল্লাহ প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশ ও ব্যাংকসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য কমিটির কাছে হস্তান্তর করেননি। তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থের হিসাব না দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের অর্থ নিজস্ব স্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মাদ্রাসার ভবন ও জায়গা ব্যবহারে অনিয়ম এবং কমিটির সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মাসুম বিল্লাহকে মাদ্রাসার সব দায়িত্ব থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। বিষয়টি ঢাকা ওয়াকফ অফিস, চট্টগ্রাম অঞ্চল, ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পাইন্দং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের পর মাসুম বিল্লাহ বিভিন্নভাবে হুমকি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এ কারণে মাদ্রাসা ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষকদের প্রায় আড়াই মাসের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ও মসজিদের পাওনা পরিশোধ না করার অভিযোগ করা হয়। প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সরিয়ে নিয়ে প্রমাণ নষ্টের চেষ্টা না করার জন্যও তাঁকে সতর্ক করা হয়।

জানা যায়, মসজিদ ও মাদ্রাসার কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জামিয়া ইসলামিয়া ওবাইদিয়া নানুপুর মাদ্রাসার মহাপরিচালক শাহ মুহাম্মদ ছালাহ উদ্দিন নানুপুরীকে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক এবং মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মাওলানা জুনায়েদকে নায়েবে মোহতামিম করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি নুরুল আলম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, শফিউল আলম সওদাগর, আলহাজ শামসুল আলম, অর্থ সম্পাদক বদিউল আলম, সিরাজুল ইসলাম, নুরুল হুদা কোম্পানি ও প্রবাসী তাজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।




হালদা নদীর সংযুক্ত খালে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড

হালদা নদীর সংযুক্ত খালে পরিবেশ দূষণের অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীর ফতেয়াবাদের ছড়ারকূল এলাকায় হালদা নদীর সংযুক্ত খালে কারখানার দূষিত পানি সরাসরি নির্গমন করে পরিবেশ দূষিত করার অভিযোগে গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজকে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট। সোমবার(৫অক্টোবর) মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এ জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুবিন।এসময় তার নেতৃত্বে আল রাজিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সরেজমিন পরিদর্শন করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো: আল আমিন হোসেন।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা সুত্রে জানা যায়, মেসার্স গ্লোবাল এন্টারপ্রাইজ পরিবেশের ছাড়পত্র ব্যতিরেকে কেমিক্যাল গুদামজাতকরণ এবং কেমিক্যালযুক্ত পানি সরাসরি ড্রেনের মাধ্যমে ছড়ারকূল খালে নির্গমণ করে হালদা নদীর সংযুক্ত খালে কারখানার দূষিত পানির কারনে পরিবেশ দূষিত করার অভিযোগের সত্যতা পায়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় এক লক্ষ জরিমানা করা হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় সার্বিক সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের প্রসিকিউশন টিম এবং হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ।

হালদা নদীর পরিবেশ সুরক্ষায় নদীর সংযুক্ত খাল-ছড়ায় কেমিক্যাল, অপরিশোধিত বর্জ্য কিংবা যেকোনো দূষণকারী পদার্থ নির্গমনের মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতিসাধন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে ইউএনও আবদুল্লাহ আল মুবিন জানান।




সীতাকুণ্ডে কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনার প্রস্তুতি সভা, ২৫৫ সদস্যের কমিটি গঠন

সীতাকুণ্ডে কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনার প্রস্তুতি সভা, ২৫৫ সদস্যের কমিটি গঠন
ছবি সংগৃহীত।

সীতাকুণ্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থী ও গুণীজন সংবর্ধনা, প্রকাশনা উৎসব এবং মিলনমেলা সফল করতে ২৫৫ সদস্যের উদ্যাপন কমিটি গঠিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে সীতাকুণ্ড পৌর সদরস্থ উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশাল মিলনমেলা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে গঠিত হয়েছে ১৮টি বিষভিত্তিক উপকমিটি।

উদ্যাপন পরিষদের আহ্বায়ক মো. মনঞ্জুর মোরশেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. নুরুল আবছারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সীতাকুণ্ড উপজেলা সমাজকল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি লায়ন মো. গিয়াস উদ্দিন। সভায় বক্তারা সীতাকুণ্ডের শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যায়নে এ উদ্যোগকে ঐতিহাসিক আখ্যা দিয়ে তা সফল করতে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা আহ্বান জানান।

সভায় সংবর্ধনা আয়োজন ও প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে বিভিন্ন উপকমিটির দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। এতে যুক্ত রয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক লায়ন এডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু, অর্থ উপকমিটির সদস্য সচিব লায়ন মফিজুর রহমান সাজ্জাদ, প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটির সদস্য সচিব সাংবাদিক কামরুল ইসলাম দুলু, অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক আলহাজ রাজু কামাল ও সদস্য সচিব মাস্টার ইকবাল হুসাইন, এবং শান্তি-শৃঙ্খলা উপকমিটির সদস্য সচিব মো. ওমর ফারুক।

এছাড়া সংবর্ধিত অতিথি নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব পালন করবেন গুণীজন সংবর্ধনা উপকমিটির সদস্য প্রফেসর ড. মো. ফসিউল আলম, মাস্টার আবুল কাশেম, এডভোকেট আবুল হাসান সাহাবুদ্দিন, মুহাম্মদ আবুল হাসনাত ও পলাশ কুমার চৌধুরী। উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী দিনে সীতাকুণ্ডে শিক্ষার আলো ও সমাজসেবার ধারা অব্যাহত রাখতে কাজ করবে এই কমিটি।




রাউজানে দুটি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করল আলহাজ জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশন

রাউজানে দুটি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করল আলহাজ জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশন
ছবি সংগৃহীত।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের রাউজানে নতুন দুটি মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে আলহাজ জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশন। উপজেলার রাউজান সদর ইউনিয়নের নূরনগরে আলহাজ জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশনের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ‘আলহাজ জসিম উদ্দীন জামে মসজিদ-৫’ এবং ডাবুয়া ইউনিয়নের পূর্ব ডাবুয়া আদর্শ গ্রামে ‘আলহাজ জসিম উদ্দীন জামে মসজিদ-৬’ নামের মসজিদ দুটির নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

২ অক্টোবর শুক্রবার বাদ জুমা প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মসজিদ দুটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন আলহাজ জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশনের পরিচালক এবং আলহাজ জসিম উদ্দীনের মেজো ভাই, ব্যবসায়ী আলহাজ মোহাম্মদ মোখতার আহমদ।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও নোয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ মাস্টার, আলহাজ ইয়াসিনুল হক ও ফারুক আজম প্রমুখ।

ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রামবাসীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টিনশেড ও আধাপাকা মসজিদ দুটি নতুন নকশায় পূর্ণাঙ্গ নির্মাণের উদ্যোগ নেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন।

মসজিদ নির্মাণের এ প্রকল্পের আওতায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সীমিত পরিসরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে জরাজীর্ণ, কাঁচা, আধা পাকা, টিনশেড ও মাটির নির্মিত মসজিদ—যেগুলো আর্থিক সংকটের কারণে সংশ্লিষ্ট গ্রামবাসী বা পরিচালনা কমিটি কর্তৃক পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না—এমন মসজিদ পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হবে জসিম উদ্দীন ফাউন্ডেশনের এ প্রকল্পের মাধ্যমে।