সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় নারী-শিশুসহ নিহত ৫
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন

সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় নারী-শিশুসহ নিহত ৫

সীতাকুণ্ডে লরিচাপায় নারী-শিশুসহ নিহত ৫
ছবি সংগৃহীত।


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় লরিচাপায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন। সোমবার দিবাগত রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ছোট কুমিরা রয়েল সিমেন্ট গেট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।


নিহতদের মধ্যে এক শিশু, তিনজন নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত অবস্থায় অন্তত ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। এরমধ্যে ফাতেমা (৪০) এবং তার  ৮ বছর বয়সী ছেলে রাকিবের নাম জানা গেছে। তাদের বাড়ি নেত্রকোণার মদন শিবাশ্রম এলাকায়।

ফায়ার সার্ভিস কুমিরা স্টেশনের ফাইটার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম  বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকামুখী এক যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশে দাঁড়ানো ছিল। গাড়িটি মেরামতের সময় যাত্রীরা নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। এসময় ঢাকামুখী একটি লরি সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৩ জন নিহত হন এবং বাকি দুজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।




বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া, প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের প্রতারণা ও চাপের মুখে ফেলে রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করানোর প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের এক প্রতিবেদনের সূত্রে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে পেশ করা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে মস্কো। এদের বড় একটি অংশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার সুযোগ নিয়ে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই রুশ ভাষায় লেখা ডিফেন্স মিনিস্ট্রির চুক্তিপত্রে তাদের সই করতে বাধ্য করা হয়, যার ভাষা তারা বুঝতেই পারেননি। জাতিসংঘ কমিশনকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা যখন বুঝতে পারেন যে তাদের রুশ সামরিক বাহিনীর হয়ে সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে হবে, তখন তারা হতভম্ব হয়ে যান।

কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের ওপর তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ২৯টি দেশ হলো— বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে।

একই প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মারাত্মক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। কমিশন জানিয়েছে, কনকনে শীতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ সেবা বন্ধ করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার এই কাজ যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের সামিল।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে বলেন, জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে এই আক্রমণগুলো যুদ্ধাপরাধ, কারণ এগুলো সরাসরি বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে করা হয়েছে। এর ফলে বরফশীতল অন্ধকারে সাধারণ মানুষকে অমানবিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাওয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় লিফটে উঠতে না পেরে বয়স্ক মানুষেরা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি এবং হাসপাতালের লাইফ-সাপোর্টে থাকা রোগীরা চরম জীবনঝুঁকিতে পড়েন। ২০২৫-২৬ সালের শীতে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংস্থার সাক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন জানিয়েছে, তারা এই কমিশনের প্রতিবেদনকে স্বীকার করে না এবং তাদের আনা সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ভুয়া তথ্য নির্ভর দবলে দাবি করেছে। 




শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে মবের শিকার হবেন না: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ছবি সংগৃহীত।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কোনো ধরনের মব বা বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না। তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী বিচার প্রক্রিয়া চলবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, আমরা যাকে চাই, তিনি আসলেন, আপনি হ্যাপি? আমাদের তাহলে ধরে বেঁধে আনতে হলো না। উনি আসলেন, উনি আসলেন, উনি বিচারের মুখোমুখি হবেন, উনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। উনি আসার পর লিগ্যাল প্রসেসে যা যা হওয়ার তাই হবে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফেরার বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে বারবার আলোচনা হলে একই বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জল্পনা চলতে থাকবে। এ প্রসঙ্গে তিনি ডিসেম্বর ও পরবর্তী জুন মাসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের পর দেশে আসতে না পারার কথা জানিয়ে আবার নতুন সময়ের কথা বলা হলে একই আলোচনা পুনরায় শুরু হবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পর তার নিরাপত্তা ও বিচার প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, তিনি কোনো মবের মুখোমুখি হবেন না এবং কোনো বেআইনি পরিস্থিতির শিকার হবেন না। তার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টি ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই হতে হবে।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে এরশাদের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, নব্বইয়ের পর এরশাদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাননি। তিনি মন্ত্রিসভাসহ দেশে ছিলেন, জেলে থেকেছেন এবং পাঁচটি আসনে জয়ীও হয়েছেন। তার দলের ৩৫টি আসন ছিল।

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় যা হওয়ার, তা-ই হবে। তাকে কোনো ধরনের বেআইনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে দেওয়া হবে না।

সিপিবির কার্যালয়ে হামলা ও অপরাধ প্রতিরোধ

সিপিবির কার্যালয়ে হামলাসহ বিভিন্ন ঘটনায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগে ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, অপরাধ প্রতিরোধে সরকারের বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে। অনেক ঘটনা আগেই ঠেকানো হয়, যেগুলো সাধারণ মানুষ জানতে পারেন না।

তিনি বলেন, ধরুন, পুলিশেরই একটা প্রিম্পটিভলি অপরাধ বোঝার মতো একটা সংস্থা আছে। এর সাহায্যে, এর রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রচুর অপরাধ আসলে ঠেকানো হয়, আমরা হয়তো দেখেও পাই না।

বাংলাদেশের অর্থনীতি থেকে শুরু করে সব ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময় কিছু ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সরকার সেসব ঘটনায় ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে জল্পনা নয়

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কথা বলা হয়নি। তাই এ নিয়ে অনুমাননির্ভর আলোচনা না করাই ভালো।

তিনি বলেন, ‘না, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কবে ভারতে যাবেন, এরকম কোনো রকম কোনো কথা সরকারি দিক থেকে অফিশিয়ালি হয় নাই। সুতরাং এটা নিয়ে আমাদের আসলে স্পেকুলেট না করাই ভালো হবে।’




পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপা‌নের

পাঁচ বছরে বাংলাদেশে ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা জাপা‌নের
ছবি সংগৃহীত।

আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন (৬.৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে জাপান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তাকাইচি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ব‌লেন, দুই দেশের সহযোগিতার মূল ভিত্তি ‘বঙ্গোপসাগরীয় শিল্প প্রবৃদ্ধি অঞ্চল’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদল পাঠানো হ‌বে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক ত্বরান্বিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (ইপিএ) কার্যকর করা এবং বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার ওপর জোর দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দুই দেশের নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব মূলত চারটি স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে। এগুলো হলো-আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি, সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি ও নিয়মনীতি প্রণয়ন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা।

তাকাইচি বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করবে জাপান। সামুদ্রিক নিরাপত্তা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওডিএর আওতায় বাংলাদেশকে টহল জাহাজ দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান সরকার।

এ ছাড়া, অফিসিয়াল সিকিউরিটি অ্যাসিস্ট্যান্স এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অব্যাহত রেখে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী।

ভৌগোলিক অবস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়াকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে, তা জাপানের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।