লোহাগাড়ায় ৯০ লাখ টাকার সড়ক রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মী সাইফুলের উদ্যোগ
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ন

লোহাগাড়ায় ৯০ লাখ টাকার সড়ক রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মী সাইফুলের উদ্যোগ

লোহাগাড়ায় ৯০ লাখ টাকার সড়ক রক্ষায় গণমাধ্যমকর্মী সাইফুলের উদ্যোগ
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়ায় প্রায় ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত গারাংগিয়া সড়কটি অতিরিক্ত ভারী যানবাহন ও অবৈধ দখলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সড়কটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন গণমাধ্যমকর্মী সাইফুল ইসলাম।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তুলাতলী, কালু আমিন সিকদার পাড়া, উত্তর আমিরাবাদ চট্টলাপাড়া, পালপাড়া ও চৌরাস্তা মাথা এলাকার ‘বাবে দরবারে গারাংগিয়া সড়ক’টি কয়েক মাস আগে কার্পেটিং করা হয়। সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সীমান্ত এলাকার হাজারো মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি নির্মাণের পরপরই এর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল শুরু হয়েছে।

এলাকাবাসী জানান, পার্শ্ববর্তী ইটভাটা থেকে ৩০ টনের বেশি ধারণক্ষমতার ডাম্প ট্রাক ও ইটবাহী ট্রাক নিয়মিত চলাচল করছে। পাশাপাশি আন্তঃজেলা বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ চাকার টাটা গাড়িতে করে অতিরিক্ত বালু পরিবহন করা হচ্ছে। এতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্ত ও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সড়কের দুই পাশও বিভিন্নভাবে দখল হয়ে গেছে। স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ীরা গাছের গুঁড়ি এনে রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখছেন। এসব গুঁড়ি ট্রাকে ওঠানো-নামানোর সময় সড়কের ওপর চাপ পড়ছে এবং যান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া ভারী যানবাহনের হাইড্রোলিক হর্নের কারণে এলাকায় শব্দদূষণও বেড়েছে। এতে শিক্ষার্থী, পথচারী ও ছোট যানবাহনের চালকদের ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসীর পক্ষে গণমাধ্যমকর্মী সাইফুল ইসলাম গত ৯ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি সরেজমিন তদন্ত করে সড়কটিতে অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ, রাস্তার দুই পাশ দখলমুক্ত এবং সড়কটি রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকারি অর্থে নির্মিত সড়ক কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। অতিরিক্ত ভারী যানবাহন চলাচল ও রাস্তার পাশে গাছের গুঁড়ি রেখে জনচলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সড়কটি পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগেই প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ফের সংস্কারের প্রয়োজন হতে পারে।




পটিয়ায় ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

পটিয়ায় ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়ায় একটি ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা এক পুরুষের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের পটিয়া বাইপাস সড়কের করল এলাকার পাশের একটি ডোবা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের আনুমানিক বয়স ৪২ বছর।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকাল আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটের দিকে স্থানীয় লোকজন ডোবার মধ্যে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে গাউছিয়া মানবিক সেবা, পটিয়া উপজেলা শাখার সচিব মাওলানা মোহাম্মদ ইছহাক আল কাদেরী ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে পটিয়া থানার এসআই মো. ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানায়, লাশটির পরনে থাকা পোশাক ও অন্যান্য আলামতের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক জানান, অজ্ঞাতনামা লাশটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।




চুনতির সীরত ময়দানে মুসল্লিদের ঢল, শেষ রাতে আখেরি মোনাজাত

চুনতির সীরত ময়দানে মুসল্লিদের ঢল, শেষ রাতে আখেরি মোনাজাত
ছবি সংগৃহীত।

ঐতিহাসিক ৫৬তম চুনতির ১৯ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের শেষ দিনে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে সীরত ময়দানে জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার মুসল্লি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা চুনতি শাহ মঞ্জিল সীরত ময়দানে আসতে শুরু করেন। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাহফিলস্থল ও আশপাশের এলাকায় মুসল্লিদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে।

মাহফিলের শেষ রাতের চূড়ান্ত অধিবেশন শেষে ফজরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে চুনতির সীরত ময়দান, আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন স্থানে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে ধর্মীয় আবহ বিরাজ করছে।

মাহফিল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট শুরু হওয়া এবারের ১৯ দিনব্যাপী মাহফিলের প্রতিদিন বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা করেন দেশের খ্যাতনামা আলেম ও ওয়ায়েজরা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, কর্ম ও ইসলামের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

শনিবার সমাপনী দিনের কর্মসূচিতে সকাল থেকেই বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরে চূড়ান্ত অধিবেশনে আলেম-ওলামারা সীরাতুন্নবী (সা.)-এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। খোতবায়ে ছদর, সমাপনী বক্তব্য ও মিলাদ শরিফের পর আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

১৯৭২ সালে চুনতির যুগশ্রেষ্ঠ আলেম হযরত শাহ মাওলানা হাফেজ আহমদ (রহ.) এ ১৯ দিনব্যাপী সীরাত মাহফিলের সূচনা করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এ মাহফিল এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজন হিসেবে পরিচিত।

মাহফিলের প্রেস ও মিডিয়া কমিটির প্রধান সমন্বয়ক শাহজাদা তৈয়বুল হক বেদার বলেন, আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মুসল্লিরা মাহফিলস্থলে আসছেন। ১৯ দিনব্যাপী এ আয়োজন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।

তিনি আরো জানান, আগত মুসল্লিদের বসার স্থান, সুপেয় পানি ও তাবরুকসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আয়োজক কমিটির সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবকেরা দায়িত্ব পালন করছেন।এছাড়া পুলিশের বিশেষ একটি টিম মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালনে কাজ করছেন।

শেষ রাতে আখেরি মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া করা হবে। মোনাজাত শেষে ফজরের নামাজের মাধ্যমে এবারের ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের সমাপ্তি ঘটবে।




'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়' স্ট্যাটাসের পর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার

'আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়' স্ট্যাটাসের পর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার
নিহত নরসুন্দর রবি দাশ

আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমাকে সবাই ক্ষমা কইরেন’—ফেসবুকে নিজের আইডিতে স্ট্যাটাস দেওয়ার কিছুক্ষণ পর নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সেলুনের ভেতর থেকে নেপাল রবি দাশ (২৬) নামের এক নরসুন্দরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট বাজারের সেলুনের দোকান থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত নেপাল রবি দাশ উপজেলার পূর্ব বটতলী এলাকার গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা মৃত সুনীল রবি দাশের ছেলে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট ছিলেন। নেপাল ও তাঁর এক ভাই মিলে সেলুনের দোকানটি পরিচালনা করে আসছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে নেপাল রবি দাশ তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লেখেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়, আমাকে সবাই ক্ষমা কইরেন।’ স্ট্যাটাসটি দেখার পর সহকর্মী ও স্বজনেরা দ্রুত তাঁর সেলুনে আসেন। এ সময় সেলুনের দরজা বন্ধ থাকলেও দরজায় কোনো তালা লাগানো ছিল না। স্বজনেরা সেলুনের ভেতরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে ভেতর থেকে ঝুলন্ত মরদেহটি উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি আত্মহত্যা। পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।