পবিত্র কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে কুরআনে হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সাতকানিয়ায় এক বর্ণাঢ্য হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। গত শনিবার রাতে ছদাহা আফজল নগর তাহফিজুল কুরআন রিসার্চ সেন্টারের আয়োজনে স্থানীয় এস ডি দাখিল মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে এই চমৎকার ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভাপতিত্ব ও উদ্বোধনী কার্যক্রম
তাহফিজুল কুরআন রিসার্চ সেন্টারের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াত ও নাতে রাসুল (সা.) পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে ওঠে।
প্রধান বক্তার মূল্যবান আলোচনা
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে অত্যন্ত প্রজ্ঞাপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী আলোচনা পেশ করেন অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ কাদেরী। তিনি পবিত্র কুরআনের হাফেজদের মর্যাদা ও ফজিলত তুলে ধরে বলেন,
"কুরআনের হাফেজদের আল্লাহর দরবারে অত্যন্ত উঁচু মর্যাদা রয়েছে। বিচার দিবসে আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে তাঁরা নিজেদের পরিবারের এমন দশজন সদস্যকে সুপারিশ করে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারবেন, যাঁদের জন্য জাহান্নাম অবধারিত হয়ে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, তাঁদের পিতা-মাতাকেও বিশেষ নূরানি মুকুট ও মর্যাদায় ভূষিত করা হবে।"
তিনি আরও বলেন, দুনিয়াবি শিক্ষার পাশাপাশি সন্তানদের সুশিক্ষিত করে তুলতে হলে কুরআনের শিক্ষার বিকল্প নেই। তাই আসুন, আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের কুরআনের আলোয় আলোকিত করে ইহকাল ও পরকালের প্রকৃত কল্যাণ লাভ করি।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমির অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন জাতি গঠনে কুরআন শিক্ষার চর্চা এবং এ ধরনের হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা যুগোপযোগী ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ মেহমান হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, মাওলানা মোরশেদ আলমসহ এলাকার বিভিন্ন মাদ্রাসার প্রথিতযশা শিক্ষক ও আমন্ত্রিত ওলামায়ে কেরাম। বক্তারা কুরআন চর্চার গুরুত্ব এবং রিসার্চ সেন্টারের এই মহতী উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পুরস্কার বিতরণ ও মোনাজাত
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার ও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ। বিজয়ীদের পদচারণায় এবং উপস্থিত সবার মুখে বিজয়ের হাসিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরিশেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন সাতবাড়িয়া দরবার শরীফের পীর শাহ আব্দুল হালিম রশীদি।