লামায় ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে প্রবাসী পরিবারের রাবার ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, রাবার চুরি ও নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। ১০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে স্থানীয় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ব্যবসায়ী ওমর ফারুক ও তার দুই কর্মচারীর ওপর হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে লামা রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন আহত ওমর ফারুকের পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হামলায় গুরুতর আহত ব্যবসায়ী আব্দুস সবুর বাবুলের ছেলে মোঃ ওমর ফারুক (৩০) বর্তমানে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় ৫ জনকে নামীয় আসামি এবং আরও ১০-১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। নামীয় আসামিরা হলেন— মাহফুজ আলম প্রকাশ মাসুম (২৮), কোরবান আলী প্রকাশ রাজা মিয়া (২৪), মনির হোসেন মজলু (৩৫), মোঃ লিটন (৩০) ও রফিকুল ইসলাম। তারা সবাই আজিজনগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদের ২০-২২ বছরের পুরনো রাবার বাগানই জীবিকার প্রধান উৎস। দীর্ঘদিন ধরে আসামিরা ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। প্রায় ৫-৬ মাস আগে প্রাণভয়ে ১৫ হাজার টাকা দিলেও চাঁদার চাপ ও হুমকি বন্ধ হয়নি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের প্রায় ৭০০ কেজি রাবার শিট চুরি হয়। পরদিন ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় এ বিষয়ে প্রধান আসামি মাহফুজ আলম মাসুমকে জিজ্ঞাসা করলে সে হুমকি দিয়ে বলে, “১০ লাখ টাকা না দিলে কিছুই রক্ষা করতে পারবি না, সব লুট করে নেওয়া হবে।
এরই ধারাবাহিকতায় ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে আজিজনগর বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে ওমর ফারুককে একা পেয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। পরে রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পুনরায় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে ওমর ফারুক ও তার দুই কর্মচারীর ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়।
হামলায় ওমর ফারুকের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে পাঠানো হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সবুর বাবুল বলেন, আমরা শান্তিতে ব্যবসা করতে চাই। সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি ও হামলার কারণে আমার ছেলে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। আমি প্রশাসনের কাছে দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।










