লামায় মাতামুহুরী নদী থেকে বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

বান্দরবানের লামায় মাতামুহুরী নদী থেকে মংচেসা মার্মা (৬০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে লামা থানা পুলিশ। শনিবার (৭ নভেম্বর ২০২৬) দুপুরে নদীর হোয়াইট পিক রিসোর্টের নিচের অংশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মংচেসা মার্মা লামা উপজেলার ১ নম্বর গজালিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মিনঝিরি পাড়া এলাকার মৃত পাইংসাউ মার্মার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি এলাকায় শূকর ও বন্যহাতির উপদ্রব থেকে পাহাড়ি বাগান ও ফসল রক্ষায় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় এক বাসিন্দার বাগানে হাতি তাড়ানোর জন্য পাতা বিশেষ বৈদ্যুতিক ফাঁদে স্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই সেই বাগানমালিক আত্মগোপনে চলে গেছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
মাতামুহুরী নদীর হোয়াইট পিক রিসোর্টের নিচের অংশে পানিতে মংচেসা মার্মার মরদেহ ভাসতে দেখতে পান স্থানীয়রা। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি লামা থানায় জানানো হয়। খবর পেয়ে লামা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তৈয়ব বলেন, “মাতামুহুরী নদীর হোয়াইট পিক রিসোর্টের নিচের অংশে নদীতে মরদেহটি ভাসতে দেখা যায়। খবর পেয়ে স্থানীয়দের নিয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসি।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদ জানান, “মাতামুহুরী নদীতে মরদেহ ভেসে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে যায় এবং মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। বন্যপ্রাণী তাড়াতে পাতা বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
মংচেসা মার্মার আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবার ও পুরো মিনঝিরি পাড়াবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।









