লক্ষ্মীছড়িতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন

লক্ষ্মীছড়িতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ

লক্ষ্মীছড়িতে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ি জেলার লক্ষ্মীছড়ি বাজারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। ৪ অক্টোবর রোববার দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল খান সজিবুল ইসলাম, পিপিএম, পিএসসি, জি, জোন কমান্ডার, লক্ষ্মীছড়ি জোন-এর নির্দেশনায় লক্ষ্মীছড়ি বাজারে স্থানীয় ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকার অধিবাসীদের জন্য বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয় বলে জানা গেছে।

উক্ত মেডিকেল ক্যাম্পে লক্ষ্মীছড়ি জোনের আরএমও-র মাধ্যমে আগত রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাপরামর্শ, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকার অসহায় এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য এ ধরনের মানবিক চিকিৎসাসেবা স্থানীয় জনগণের মাঝে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

লক্ষ্মীছড়ি জোনের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতেও দায়িত্বপূর্ণ এলাকার স্থানীয় ও দুর্গম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর কল্যাণে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।




থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫

থানচিতে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৫
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে ডিমপাহাড়-টিন্দুমুখ সড়কে একটি পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
সোমবার (০৫ অক্টোবর) বিকাল ৩.৪৫ টা সময় ডিমপাহাড় হতে টেন্ডুমুখ নৌঘাটের দিকে নামার সময় টেন্ডুমুখ নৌ চেকপোস্ট হতে আনুমানিক ৬০০ মিটার দূরে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় গাড়িতে থাকা পর্যটকদের মধ্যে ০২ জন ঘটনাস্থলেই নিহত এবং ০৫ জন আহত হন। দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়া সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস এর নেতৃত্বে অধীনস্থ টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। পরবর্তীতে আহত ০৫ জনকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়। নিহত দুজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানচি থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। 
দুর্ঘটনায় উদ্ধার কার্যক্রমে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি)-এর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি বিজিবির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। 
 




লামায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১৩ মামলায় ২৯ লাখ টাকা জরিমানা

লামায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১৩ মামলায় ২৯ লাখ টাকা জরিমানা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নে অবৈধ ইটভাটা ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। ৫ অক্টোবর (সোমবার) পরিচালিত এসব অভিযানে মোট ১৩টি মামলায় ২৯ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফাইতং এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে এই অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন।

প্রথম অভিযানে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১)(৫) ধারা এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর ১৫ ধারায় একটি মামলা করেন। এতে এক আসামিকে নগদ ৫,০০,০০০ (পাঁচ লাখ) টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

একই দিনে অপর একটি পৃথক অভিযানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার হোসেন বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ৬(খ) ধারা লঙ্ঘনে ১৫(১)(৫) ধারায় মোট ১২টি মামলা পরিচালনা করেন। এসব মামলায় ১২ জন আসামিকে সর্বমোট ২৪,০০,০০০ (চব্বিশ লাখ) টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন জানান, ফাইতং এলাকায় পরিবেশ সুরক্ষায় ও অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে পরিচালিত এই দুই অভিযানে সর্বমোট ১৩ জন আসামির কাছ থেকে ২৯ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে ও পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের মাঝে ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ

লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জনের মাঝে ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার চেক বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামায় বন্যহাতির আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও ব্যক্তিদের মাঝে আর্থিক ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ এবং হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) লামা বন বিভাগের আয়োজনে বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বন বিভাগের পক্ষ থেকে বন্যহাতির আক্রমণে নিহত এক ব্যক্তির পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত ৬৬ জন ব্যক্তির হাতে সর্বমোট ২১ লাখ ৫৯ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণের চেক হস্তান্তর করা হয়।

সহকারী তথ্য অফিসার মোহাম্মদ রাশেদুল হক রাসেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লামা বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মাসুম আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এবং লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান। এ সময় বিভিন্ন রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা, বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, "যারা হাতির আক্রমণে আপনজন হারিয়েছেন, কেবল তারাই বোঝেন এর ক্ষতি কতখানি। এ ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রদান করা এই আর্থিক সহযোগিতা মূলত সমবেদনা জানানোর একটি প্রয়াস মাত্র।"

তিনি আরও বলেন, "হাতির আবাসস্থল দখল করে জনবসতি, জুমচাষ ও বাগান সৃজনের কারণে খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত খাবার না পেয়ে হাতিগুলো লোকালয়ে নেমে আসছে এবং মানুষ ও ফসলের ক্ষতি করছে। এতে হাতি ও মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এ জন্য সরকার ইতিমধ্যে হাতি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ ছাড়া প্রতিটি হাতিপ্রবণ এলাকায় 'ইআরটি' (ERT) নামের একটি দল গঠন করা হয়েছে। এই দলের সদস্যরা হাতি সংরক্ষণে কাজ করছেন। হাতি আমাদের জাতীয় সম্পদ, তাই এর আবাসস্থল নষ্ট না করে উন্মুক্ত রাখা জরুরি। কোনোভাবেই হাতি মারা যাবে না, বরং সবাইকে মিলে হাতি সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।"

সভায় বক্তারা আরও বলেন, পাহাড়ি এলাকায় মানুষ ও বন্যহাতির দ্বন্দ্ব নিরসনে বন বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি লাঘবে সরকার দ্রুততম সময়ে এই ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করছে। পাশাপাশি বন্যহাতি সংরক্ষণ ও বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় সকলকে সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়।