রামুর ঈদগড়ে সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ কাটার সময় দু'জন আটক
সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ন

রামুর ঈদগড়ে সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ কাটার সময় দু'জন আটক

রামুর ঈদগড়ে সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ কাটার সময় দু'জন আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ঈদগড় ঘিলাতলী এলাকায় সামাজিক বনায়ন থেকে গাছ কাটার সময় দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেছে বন বিভাগ।

জানা গেছে, গত শনিবার (৩ অক্টোবর) ঈদগড় বিট কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মিয়াজীর নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—ঈদগড় ঘিলাতলী এলাকার কালু মিয়ার ছেলে নাঈম উদ্দিন এবং রশিদনগর মুরাপাড়া এলাকার আবদু শুক্কুরের ছেলে সুলতান আহমদ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সামাজিক বনায়ন থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটার সময় তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঈদগড় বিট কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মিয়াজী জানান, বন ও সামাজিক বনায়ন রক্ষায় অবৈধভাবে গাছ কাটার বিরুদ্ধে বন বিভাগের অভিযান ও আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।




চকরিয়ায় ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা

চকরিয়ায় ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভুয়া চিকিৎসক, অপচিকিৎসক ও অনুমোদনহীন বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ রবিবার (৪ অক্টোবর ২০২৬) বিকেলে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বয়ে উপজেলার মালুমঘাট ও চিরিংগা পৌর শহরে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আলম। অভিযানকালে চিকিৎসকের ভুয়া পদবি ব্যবহার, অনুমোদনহীন ওষুধ প্রেসক্রিপশনে লেখা এবং অবৈধভাবে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি করার অপরাধে ৫ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অভিযانকালে মালুমঘাট মা-মনি হাসপাতালে ভুয়া চিকিৎসকের পদবি ব্যবহার, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রেশন না থাকা এবং ডিপ্লোমা বা ডিগ্রি ছাড়াই বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে অ্যানাস্থেসিয়া দেওয়ার অপরাধে মো. আলী আকবর খানকে বিএমডিসি আইন, ২০১০ অনুযায়ী ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল এলাকায় প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াই ধাত্রীবিদ্যা অনুশীলন এবং চিকিৎসকের প্যাডে অনুমোদনহীন ওষুধ লেখার অপরাধে হুসনে আরা নামের এক নারীকে বিএমডিসি আইনে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সরকারি হাসপাতাল সড়কে ডিএমএফ সনদধারী হয়ে চিকিৎসকের প্যাডে অনুমতিবিহীন ওষুধ লেখার দায়ে রিদুয়ানুল কবির নিশানকে বিএমডিসি আইনে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সোনালী ট্রেডার্স ফার্মেসিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন রেখে চিকিৎসাকার্য পরিচালনার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া সেইফ মেডিসিন কর্নার ফার্মেসিতে একই অপরাধে অনুমোদনহীন আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান পরিচালনাকালে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানাস্থেসিওলজি) ডা. মামুন-অর-রশিদ চৌধুরী, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মিসকাত উদ্দীন আহমদ এবং উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আরিফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চকরিয়া থানা পুলিশ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সশস্ত্র আনসার বাহিনীর একটি চৌকস দল অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

অভিযান শেষে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আলম জানান, জনস্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চকরিয়ায় ভুয়া চিকিৎসক ও অবৈধ বেসরকারি স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে।




রামুর ঈদগড়ে পুলিশের অভিযানে জোড়া খুনের পলাতক আসামিসহ আটক ২

রামুর ঈদগড়ে পুলিশের অভিযানে জোড়া খুনের পলাতক আসামিসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

ঈদগড় পুলিশের বিশেষ অভিযানে জোড়া খুনের পলাতক আসামি দেলোয়ারসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।

জানা যায়, ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই খোরশেদ আলম ও এএসআই জহিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ভারুয়াখালী থেকে তাঁদের আটক করে।

ঈদগড় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি) এসআই খোরশেদ আলম জানান, বৌঘাট উপরেরখীল এলাকার আলোচিত জোড়া খুনের পলাতক আসামি দেলোয়ার এবং বাইশারী এলাকার রুহুলকে আজ ৪ অক্টোবর আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি ও অস্ত্রসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।




সাপের কামড়ে ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চমেক হাসপাতালে রামুর যুবকের অকালমৃত্যু

সাপের কামড়ে ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে চমেক হাসপাতালে রামুর যুবকের অকালমৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামু উপজেলার দক্ষিণ মিঠাছড়ি ইউনিয়নে সাপের কামড়ে ৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেছেন মুফিদুল আলম (৩০) নামের এক যুবক।

৩ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

নিহত মুফিদুল আলম দক্ষিণ মিঠাছড়ি ঘাটপাড়া এলাকার বাসিন্দা গুরা মিয়ার চতুর্থ সন্তান এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী সরওয়ার কামালের ছোট ভাই। তাঁর মরদেহ চট্টগ্রাম থেকে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ির নিজ বাড়িতে আনা হয়।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুফিদুল আলম দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি বন্ধুদের সাথে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রতিদিনের মতো খাটের নিচে মাটিতে কাঁথা বিছিয়ে ঘুমিয়েছিলেন মুফিদুল। গভীর রাতে একটি বিষাক্ত সাপ তাঁকে দংশন করে পালিয়ে যায়।

আহত অবস্থায় মুফিদুল নিজেই নিজের পায়ে বাঁধন দিলেও তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক ও উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ায় দ্রুত বিষক্রিয়া তাঁর সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে ৫ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ ভোরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুকালে তিনি ফেনী জেলার বাসিন্দা স্ত্রী, ৭ বছর বয়সী এক পুত্রসন্তান, পিতা-মাতা, চার ভাই ও চার বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন। তাঁর এই অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।