রামুতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৮ পূর্বাহ্ন

রামুতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

রামুতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘবছরের ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রামুর বাঁকখালী নদীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে ফতেখাঁরকুলের বৃহত্তর অফিসের চর ক্রীড়া পরিষদের উদ্যোগে খেলার উদ্বোধন হয়। এর আগে একটি শোভাযাত্রা (র‍্যালি) বের করা হয়।

বাদ্যের তালে যুবকদের নাচে-গানে শুরু হয় উৎসব। এ সময় নদীর দুপাড়ে উৎসুক জনতার ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।

ফাইনালসহ মোট ১৫ রাউন্ড খেলায় বিজয়ী হয়েছে ‘নদীর তুফান’ দল এবং রানার্সআপ হয়েছে ‘কৃষক সমবায় সমিতি’।

বিজয়ী দলের সদস্যরা জানান, নৌকাবাইচের এই সুন্দর আয়োজনে তারা বেশ উচ্ছ্বসিত। তারা আয়োজকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

আয়োজকদের অন্যতম সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন রনি বলেন, “বাঁকখালীতে দীর্ঘকাল ধরে বৃহৎ পরিসরে নৌকাবাইচ হচ্ছে না। সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম জানান, নৌকাবাইচের এই ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাকুক। বর্তমান প্রজন্ম মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলায় মনোনিবেশ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর।

খেলার শেষে বিজয়ীদের মাঝে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ ট্রফি তুলে দেন অতিথিরা। এ ছাড়া খেলোয়াড়দের মাঝে পুরস্কার হিসেবে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন চৌধুরী, বিএনপি নেতা মির্জা আবছার, মৈত্রী-০২-এর সভাপতি ও ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুল আলমসহ অনেকে।

আয়োজকদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দীন রনি, সোহেল রানা, আমির হামজা, রিমন, মোমেন, নুরুল আজিম, আনসার উল্লাহ, স্বপন প্রমুখ।

বাঁকখালীর বুকে যুগ যুগ ধরে চলমান থাকুক নৌকাবাইচ—এই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।




সাংবাদিকদের জন্য দ্রুত তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে- কক্সবাজারে তথ্য সচিব

সাংবাদিকদের জন্য দ্রুত তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে- কক্সবাজারে তথ্য সচিব
ছবি সংগৃহীত।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেছেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে নতুন করে দেশ গড়ে তুলতে হবে। জুলাই আন্দোলনে আমাদের তরুণরা রক্ত দিয়েছেন। তাঁদের সেই আত্মত্যাগের ঋণ শোধ করার মতো নয়। তাঁদের প্রত্যাশা পূরণে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ দেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে কক্সবাজারের হিলটপ সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মাহবুবা ফারজানা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ উন্নয়ন এবং তাঁদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।কক্সবাজারে সাংবাদিকদের জন্য দ্রুত একটি তথ্যকমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কক্সবাজারের সাংবাদিকদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা এবং তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

মাহবুবা ফারজানা আরও বলেন, সারাদেশে অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধে সাইবার আইনের সংশোধনীসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ এবং সঠিক তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। যাচাই-বাছাই করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে সাংবাদিকেরা সমাজে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন।

মতবিনিময় সভায় জেলা তথ্য অফিসার আব্দুস সাত্তার, কক্সবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি মাহবুবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক নেতা শামসুল হক শারেক, ইকরাম চৌধুরী টিপু, এড. মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী, মুরশেদুর রহমান খোকন, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সহ-সভাপতি এম আর মাহবুব, সাধারণ সম্পাদক এস এম জাফর, বাংলাভিশনের এম আর খোকন, এটিএন বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেন শাকিলসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




‎রামুতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার

‎রামুতে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রাপ্ত আসামী গ্রেফতার
ছবি সংগৃহীত।

‎রামুতে মাদক মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
‎
‎শুক্রবার রাতে রামু থানার এসআই আনোয়ারের নেতৃত্বে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন থেকে এ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
‎
‎আসামী মো: রফিক মিয়া জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের মৃত কবির আহমদের পুত্র। তার নামে নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জ থানার মাদক মামলা ছিলো। এ মামলায় তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।
‎
‎দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পরে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।
‎
‎গেফতারকৃত এই আসামীর বিরুদ্ধে পরবর্তী আইননুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে রামু থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
‎




মসজিদ-মাদ্রাসায় ভবন করে দেওয়ার নামে স্বামী স্ত্রীর প্রতারণার ফাঁদ, অবশেষে ধরা

মসজিদ-মাদ্রাসায় ভবন করে দেওয়ার নামে স্বামী স্ত্রীর প্রতারণার ফাঁদ, অবশেষে ধরা
ছবি সংগৃহীত।

মসজিদ-মাদ্রাসায় ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার নামে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন নামক এক ব্যক্তি। তার সুকৌশলী প্রতারণার সহযোগী ছিলেন স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস। স্বামী-স্ত্রীর এই প্রতারণার জাল বিস্তৃত হয়ে কক্সবাজার থেকে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পৌঁছে যায়। বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে ইতোমধ্যে হাতিয়ে নিয়েছেন কয়েক কোটি টাকা। ভবন নির্মাণ তো দূরের কথা, মাসের পর মাস তাদের হদিস নাই। মুঠোফোনও প্রায় বন্ধ থাকে। বাড়িঘর তালাবদ্ধ। অবশেষে অনন্য উপায় হয়ে থানা ও আদালতে আশ্রয় নেন ভুক্তভোগীরা। 

মো. ওসমান নামক একজন ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, স্বেচ্ছাসেবী এনজিও সংস্থা ইউনিক ইস্টার্ণ লিমিটেডের প্রতিনিধি পবিচয়ে তার গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া দক্ষিণ ছদাহা এলাকায় পরিচালিত “দারুল কোরআন মাদরাসা, শিশুতলা” প্ৰতিষ্ঠানটি ৫ তলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট ৩ তলা ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাসে ‘সয়েল টেস্টসহ আনুষাঙ্গিক খরচ’ বাবদ ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিপরীতে একটি চেক প্রদান করেন। কিন্তু অনেকদিন পার হলেও চুক্তি মতে কাজ শুরু করেন নি। যোগাযোগ বন্ধ। কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অবশেষে আব্দুল্লাহ আল মামুন এর প্রদত্ত চেক নিয়ে ব্যাংকে যান ভুক্তভোগী মো. ওসমান। দেখা যায়, নির্ধারিত ব্যাংক একাউন্টে কোন টাকা নাই। শেষমেষ ওই চেকের ‘ডিজঅনার স্লিপ’ নিয়ে মামলা করেন।
প্রতারণার শিকার মো. ওসমান শহরের পান বাজার সড়কস্ত ফিরোজা শপিং এর এঞ্জেল কালেকশনের স্বত্বাধিকারী। 
আর প্রতারক আব্দুল্লাহ আল মামুন রামু রাজারকুল পশ্চিম সিকদার পাড়ার কামাল উদ্দিনের ছেলে।

এদিকে, চিহ্নিত প্রতারক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ধরতে আদালত থেকে জারি করা হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। সেই পরোয়ানামূলে ঢাকার আশুলিয়া এলাকা থেকে স্ত্রীসহ গ্রেপ্তার হন আব্দুল্লাহ আল মামুন। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে রামু থানা পুলিশের মাধ্যমে ৯ অক্টোবর তাদেরকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। 

প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা জানিয়েছে, আব্দুল্লাহ আল মামুন ইউনিক ইস্টার্ন লিমিটেড নামক একটি এনজিওর প্রতিনিধি পরিচয়ে কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার মসজিদ, মাদ্রাসা ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানে বহুতল ভবন নির্মাণ করে দেওয়ার প্রলোভনে ফেলে শত কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। 

এই প্রতারণার ফাঁদের আরেক কারিগর মামুনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদাউস। স্বামীর সহযোগী হিসেবে তিনিও বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নেন। বিশ্বাস জন্মানোর জন্য দিয়েছেন চেক। যে চেকের বিপরীতে ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায় কোন টাকা নাই। তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করেন ভুক্তভোগীরা। আদালত থেকে জারি হয় গ্রেফতারি পরোয়ানা। সেই পরোয়ানামূলে প্রতারক স্বামী-স্ত্রী আব্দুল্লাহ আল মামুন ও জান্নাতুল ফেরদৌসের ঠিকানা এখন কারাগার। 

ধর্মের লেবাস পরিহিত এই প্রতারকচক্রের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেফতারে আন্তরিক ভূমিকা রাখায় রামু থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। 

একই সঙ্গে হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারে প্রশাসনের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন ভুক্তভোগী বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ ও প্রতিষ্ঠানের পরিচালকবৃন্দ।