যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বোয়িং কিনছে বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর জানিয়েছে, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য সম্মত হয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।

ভারতে নিযুক্ত মার্কিন এই রাষ্ট্রদূত বলেন, এই সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আরেকটি অসাধারণ চুক্তি করেছেন। বাংলাদেশ আরও বেশি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার জন্য কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে সম্মত হয়েছে, যা তাদের প্রাথমিক ক্রয়াদেশ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে।

সার্জিও গর লিখেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী প্রেসিডেন্ট। তিনি প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে লাখ লাখ উচ্চ বেতনের কর্মসংস্থান তৈরি, ট্রিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ বাড়ানো এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছেন।




পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬

পাকিস্তানে মসজিদে বোমা হামলা, নিহত অন্তত ১৬
ছবি সংগৃহীত।

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে মসজিদে বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। যারমধ্যে ১১ জন বেসামরিক সাধারণ মানুষ। আর বাকি পাঁচজন পুলিশ সদস্য।

আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পেশোয়ার পুলিশ।

মসজিদটি খাইবার পাখতুনখাওয়ার কোহাত জেলায় অবস্থিত।

হামলাকারীরা বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে মসজিদে ধাক্কা দেয়। এরপর ওই গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়ে এত হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হামলাকারীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর এখনো গোলাগুলি চলছে। এরমধ্যে এক হামলাকারী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা বাড়ার শঙ্কার রয়েছে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কোহাত জেলার পুলিশ সদরদপ্তরের মসজিদের গেটে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দেয় হামলাকারীরা। ওই সময় সাধারণ মানুষ জুম্মার নামাজের জন্য মসজিদটিতে জড়ো হয়েছিলেন। ১৬ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি এ হামলায় আরও অন্তত ৫০জন আহত হয়েছেন।

বার্তাসংস্থা ডিপিএ জানিয়েছে, আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী ওই অঞ্চলের মসজিদে হামলার পর হাসপাতালে ১৫টি মরদেহ এবং আহত অবস্থায় আর প্রায় ৫০ জনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসক তাহির শাহ বলেছেন, আহত অবস্থায় যাদের নিয়ে আসা হয়েছে তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা বেশ গুরুতর। এতে করে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে সেখানে তেহরিক-ই-তালেবানের উপস্থিতি রয়েছে। যারা প্রায়ই পাকিস্তানের নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর হামলা চালায়। অতীতে তারা মসজিদেও বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।

সূত্র: বিবিবি, আলজাজিরা




১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের: প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কড়া বার্তা ভারতের

১০১টি চুক্তি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের: প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, কড়া বার্তা ভারতের
ছবি সংগৃহীত।

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে হওয়া ১০১টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনা করবে বাংলাদেশ। গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি বলেন, “আমরা চুক্তিগুলো পর্যালোচনা করছি। তার অর্থ ১০১টি সমঝোতা স্মারক পর্যালোচনার ফলাফল আপনারা খুব শিগগিরই দেখতে পাবেন।”

এ বিষয়ে আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়ালকে প্রশ্ন করেছিলেন দেশটির এক সাংবাদিক।

জবাবে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ যদি এমন কিছু করে তবে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তবে তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কিছু জানায়নি।

জয়সোয়াল বলেন, “আমরাও এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে কিছু খবর দেখেছি। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের কোনো কিছু জানানো হয়নি। অবশ্যই ভারত তার স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।”

শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার, কানেক্টিভিটি এবং অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় চুক্তি হয়েছিল।

ভারত ‘লাইন অব ক্রেডিট’ বা ঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশে সাত বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে।

এছাড়া তাকে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়েও প্রশ্ন করা হয়। ৩০ বছর মেয়াদি এ চুক্তিটি আগামী ডিসেম্বরে শেষ হয়ে যাবে। এ বিষয়ে ভারতের এ কূটনীতিক বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আমাদের একটি যৌথ নদী কমিশন ব্যবস্থা আছে। এটির কাজ হলো পানিসংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করা। পানি বিষয়ে কারিগরি পর্যায়ভিত্তিক বৈঠক অব্যাহত আছে।”




ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে

ভেনেজুয়েলার স্বর্ণ যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে
ছবি সংগৃহীত।

ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রায় ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণের মজুত ব্যাংক অব ইংল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে স্থানান্তরের বিষয়ে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস।

আলোচনায় থাকা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান দেলসি রদ্রিগেজ স্বর্ণের ওপর আইনগত নিয়ন্ত্রণ পাবেন। তবে সরকার তাৎক্ষণিকভাবে ওই স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে না।

বরং স্বর্ণের মজুত জামানত হিসেবে ব্যবহার করে ঋণ নেওয়ার সুযোগ রাখা হতে পারে। এই অর্থ সরকারের ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি গত জুনের ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর পুনর্গঠন কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রথম বাস্তব ফলগুলোর একটি হতে পারে এই সমঝোতা। চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে স্বর্ণ নিয়ে সাত বছর ধরে চলা বিরোধের অবসান হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ তৎকালীন জাতীয় পরিষদের প্রধান ও বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই বিরোধ শুরু হয়। এরপর বিরোধী পক্ষ ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে রাখা ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের ওপর নিয়ন্ত্রণ দাবি করে। এ নিয়ে আইনি বিরোধ একপর্যায়ে যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সমঝোতাটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কারিগরি বিভিন্ন বিষয় চূড়ান্ত করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

আলোচনায় যুক্ত বিরোধী দলের এক নেতা বলেন, ‘স্বর্ণ যুক্তরাষ্ট্রে যাবে, কিন্তু দেলসি সরাসরি এর নিয়ন্ত্রণ পাবেন না। এটি তদারকি ও বিধিনিষেধের আওতায় থাকবে।’

ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী পক্ষ গত মাসে জানিয়েছিল, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে থাকা প্রায় ৩১ টন স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের পথ খুলতে তারা একসঙ্গে কাজ করছে। তবে সমাজতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তোলা বিরোধী পক্ষ স্বর্ণের মজুত যাতে অপব্যবহার না হয়, সে জন্য কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে স্বর্ণ স্থানান্তর নিয়ে আলোচনার মধ্যেই চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য ও ভেনেজুয়েলা কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাজ্য কারাকাসে আবার রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করবে। দেশটির সরকার ভেনেজুয়েলায় নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চলমান আলোচনাকেও স্বাগত জানিয়েছে।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের বর্তমান প্রধান হোর্হে রদ্রিগেজ লন্ডনে যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ভেনেজুয়েলার জনগণের জন্য ‘সুসংবাদ’ আসছে বলে মন্তব্য করেন।

ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের আদালতের নতুন আদেশ না পাওয়া পর্যন্ত ব্যাংক কোনো নির্দেশনা বাস্তবায়নের অবস্থানে নেই। কার স্বর্ণের হিসাবের ওপর আইনগত কর্তৃত্ব রয়েছে, তা স্পষ্ট করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে যুক্তরাজ্যের আদালতে গিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করতে হবে।

ভেনেজুয়েলায় সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে চলমান আলোচনার লক্ষ্য নতুন নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ তৈরি করা। ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিকোলাস মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করেছিলেন। তবে বিরোধী পক্ষের স্বাধীনভাবে যাচাই করা ভোটের হিসাব অনুযায়ী, তিনি বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পুনঃসম্পৃক্ততার প্রক্রিয়া জোরদার হয়। এরপর দেশটির অর্থনীতির ওপর কিছু মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। এপ্রিলে সাত বছর পর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে ভেনেজুয়েলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়। এর ফলে কারাকাসের সরকার আইএমএফে থাকা তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পায়।

জানুয়ারিতে অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া দেলসি রদ্রিগেজ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের বিভিন্ন পথ খুঁজছেন। ভূমিকম্পের আগেই দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতির ছিল।

চুক্তিটি চূড়ান্ত হলে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা স্বর্ণের মজুত ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। তবে স্বর্ণের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও তা বিক্রির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ এবং ব্যবহারের ওপর তদারকি থাকবে বলে আলোচনায় যুক্ত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস