নাইক্ষ্যংছড়ি মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপারের যোগদানের অনুমোদন
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ন

নাইক্ষ্যংছড়ি মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপারের যোগদানের অনুমোদন

নাইক্ষ্যংছড়ি মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপারের যোগদানের অনুমোদন
ছবি সংগৃহীত।

দীর্ঘ ১৩ বছর পর বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সদর ইউনিয়নে অবস্থিত চাকঢালা মহিউচ্ছুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার সুপার মোহাম্মদ নুরুজ্জামান পুনরায় মাদ্রাসায় যোগদান করেছেন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এনামুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ সুপার হিসেবে স্বপদে যোগদানের অনুমতি পান তিনি। অনুমোদন পাওয়ার পরই সকালে মাদ্রাসায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল খালেকের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নিয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম এমপিওভুক্ত এ মাদ্রাসাটি থেকে দাখিল পাস করা প্রাক্তন ছাত্র মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ১৯৯৯ সালে সুপার পদে যোগদান করেন। তাঁর মেয়াদে প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি লাভ করে। ২০১৩ সালে বিভিন্ন সাজানো অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

সর্বশেষ ২৪ জুন ২০২৬ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বরখাস্তের আবেদন খারিজ করা হয়। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, নাইক্ষ্যংছড়ি বরখাস্তকৃত সুপারকে এক মাসের মধ্যে যোগদান করানোর নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে তাঁর যোগদানের আবেদন অনুমোদন করা হয়।

সুপার মাদ্রাসায় যোগদানের পর প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকসহ সর্বমহলে আনন্দের জোয়ার বইছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাওলানা নুরুজ্জামানের যোগদানের খবরটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

মাদ্রাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থী কবির আহমদ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, ছবরে মেওয়া ফলে এবং সত্যের জয় একদিন না একদিন অনিবার্য—এটা তারই দৃষ্টান্ত। যারা এই দীর্ঘ যাত্রায় পাশে ছিলেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। কারণ এটা শুধু একজন ব্যক্তির বিজয় নয়, বরং ষড়যন্ত্রকারীদের অন্ধকার ও ধোঁয়াচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে আলোর পথে নিয়ে যাওয়ার প্রথম পদক্ষেপ।"




চকরিয়ায় প্রকাশ্যে চলছে বনভূমি দখল, রহস্যজনকভাবে নিরব কর্তৃপক্ষ

চকরিয়ায় প্রকাশ্যে চলছে বনভূমি দখল, রহস্যজনকভাবে নিরব কর্তৃপক্ষ
ছবি সংগৃহীত।

প্রতিনিয়ত মৌরসী সম্পত্তির মতো করেই শতশত একরের মতো পাহাড় দখল করে নেওয়া হচ্ছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ ও কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের সংরক্ষিত বনভূমি। শুধুমাত্র গত একমাসেই দখল করে নেওয়া হয়েছে অন্তত কয়েকশ একর সংরক্ষিত বনের জায়গা। এমনকি দখলে নেওয়া বনভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা শতবর্ষী মাদার ট্রি (গর্জন), সেগুনসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা নির্বিঘ্নে কেটেও সাবাড় করে ফেলা হয়েছে।

পরিবেশ বিধ্বংসী এসব কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে চলতে থাকলেও বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তা–কর্মচারীরা একেবারেই চুপ থাকছেন। সংরক্ষিত বনভূমির দখল ও বন উজাড় ঠেকাতে বনবিভাগের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। তবে বনবিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি– কোথাও বনভূমি দখল বা গাছপালা কেটে নেওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গেলে দখলকারীরা দলবদ্ধ হয়ে বনবিভাগের কর্মীদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা করছে। এতে অনেকটা জান বাঁচানোটাই মূখ্য হয়ে দাঁড়ায় বনবিভাগের কর্মীদের। অবশ্য যারা এই দখলদারির সঙ্গে জড়িত রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নাম–ঠিকানা শনাক্তপূর্বক তাদের বিরুদ্ধে বন মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে দাবি বনবিভাগের।

সরজমিন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া, মাহমুদ নগর, আলমনগর, পহরচাঁদা, হারবাং ইউনিয়নের হারবাং বনবিটের উত্তর হারবাংয়ের কোরবানিয়া ঘোনা, কাটতলীসহ বিভিন্ন স্থানে এবং কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের মানিকপুর বনবিটের উত্তর মানিকপুর, সুরাজপুর, ভিলেজার পাড়া, কাকারা বনবিটের শাহওমর নগর, পাহাড়তলীসহ একাধিক স্থান, নলবিলা বনবিটের বার আউলিয়া নগর, কৈয়ারবিলের ইসলাম নগর, নলবিলা, ফাঁসিয়াখালী বনবিটের উচিতার বিল, নয়াপাড়া, মুসলিম নগর, ফাঁসিয়াখালী, ছাইরাখালী, রিংভং, ছগিরশাহ কাটা, ডুলাহাজারা বনবিটের মালুমঘাট, ডুলাহাজারা, সোয়াজনিয়াসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা ছাড়াও ফুছড়ি রেঞ্জের খুটাখালী ইউনিয়ন খুটাখালীর সেগুন বাগিচা, শিয়াপাড়াসহ অসংখ্য স্থানে এবং মেদাকচ্ছপিয়া বনবিটের মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যানের সংরক্ষিত বনভূমি যেন দখলদারদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বনবিভাগের একাধিক কর্মকর্তা–কর্মচারী বলেন, ক্ষমতাসীন সরকারি দলের সাথে স্থানীয়ভাবে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী নেতারাই এসব সংরক্ষিত বনভূমি দখলে নিয়ে সেখানে প্লট আকারে বিভিন্ন উপজেলার মানুষকে বিক্রির মাধ্যমে বাণিজ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সেখানে বনবিভাগের কর্মীরা গেলেই শুরু হয় ধাওয়া দেওয়ার মতো ঘটনা। তাই জান বাঁচানোর তাগিদে দখলদারদের বিরুদ্ধে সরাসরি তেমন কোন সংঘাত–সংঘর্ষে জড়াতে চান না তারা। শুধুমাত্র গত একমাসেই এসব বনবিটের অন্তত কয়েশ একর সংরক্ষিত বনভূমি দখলে নিয়ে সেখানকার গাছপালা কেটে সাবাড়ের পর অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করা হয়েছে। এই অবস্থায় জড়িতদের শনাক্তপূর্বক বন আইনে মামলা দেওয়া ছাড়া আর কিছু করার নেই বনবিভাগের।

সরজমিন আরও দেখা গেছে– চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া অংশের উত্তর হারবাং, হারবাং, বরইতলী, বানিয়ারছড়া, নলবিলা, ইসলাম নগর, মালুমঘাট, ডুলাহাজারা, মেদাকচ্ছপিয়া, খুটাখালীসহ বিভিন্ন স্থানে দুই পাশে সংরক্ষিত বনভূমির সমতল স্থানে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে একের পর বসতঘর, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মুরগির খামারসহ নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা।

সংশ্লিষ্ট বনবিট কার্যালয়ের একেবারে কাছেই প্রকাশ্যে বনভূমি দখলের এমন কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর প্রতিরোধ না থাকায় স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে– সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা, বিট কর্মকর্তারা মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ হয়ে এবং মাসোয়ারার চুক্তিতে এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। খুটাখালী, ডুলাহাজারা ও মালুমঘাট এলাকার সচেতন একাধিক লোকজন অভিযোগ করেছেন– কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের ফাঁসিয়াখালী, ফুলছড়ি রেঞ্জ কার্যালয়ের মেদাকচ্ছপিয়া জাতীয় উদ্যান, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক, মালুমঘাট খ্রিস্ট্রান মেমোরিয়াল হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় এখন ব্যাপকভাবে দখলদারিত্ব চলছে। ডুলাহাজারায় রেলওয়ে স্টেশনসংলগ্ন মাদার ট্রি (গর্জন) বাগান ও সামাজিক বনায়ন এলাকার বনভূমিতে বেশ কিছুদিন ধরে দখলদারিত্ব চলছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে বনভূমির বিভিন্ন অংশ দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে নতুন বসতি, মুরগির খামার ও ব্যবসায়িক স্থাপনা। ফলে ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে গেছে সংরক্ষিত বনভূমি।

ডুলাহাজারা বনবিট কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আমিন বলেন, কোথাও বনভূমি দখলের খবর পেলেই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কিন্তু অভিযান শেষে চলে আসার পর একই স্থানে পুনরায় স্থাপনা নির্মাণ করার চেষ্টা চলছে। তবে বনবিভাগের পক্ষ থেকে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) কামরুল হাসান বলেন, ডুলাহাজারা বনবিটসহ পাঁচটি বিটের যেখানে সংরক্ষিত বনভূমি দখলের খবর পাওয়া গেছে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এমনকি জড়িতদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলাও দেওয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। সম্প্রতি ডুলাহাজারায় অবৈধ স্থাপনা ও মুরগির খামার উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার উত্তর বনবিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মারুফ হোসেন বলেন, যেসব বিষয়ে অভিযোগ আসে সেসব বিষয়ে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো ভূমিদস্যু, বনদস্যু, বালুখেকো বনভূমি জবর–দখলকারীর সাথে বনবিভাগের কারো সাথে কোনো প্রকার আতাঁত কিংবা অবৈধ লেনদেন প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে জনবল সংকটও বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সংরক্ষিত বনভূমি রক্ষার ক্ষেত্রে।




আলীকদমে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত সৎ নানা

আলীকদমে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত সৎ নানা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ নানার বিরুদ্ধে। অভিযোগ জানার পর অভিযুক্তকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করেন শিশুটির বাবা। এতে অভিযুক্ত আহত হলে পরে তাকে ও শিশুটিকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকেই ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মংচাপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত সৎ নানা মোস্তাক আহম্মদ (৫৫)।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি ও অভিযুক্ত একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নেওয়ার পর সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে শিশুটি। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য পরে শিশুটিকে ১০০ টাকা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিশুটির বাবা জানান, শনিবার সকালে মেয়ের কাছে ১০০ টাকার একটি নোট দেখতে পান তিনি। টাকা কোথা থেকে পেয়েছে জানতে চাইলে একপর্যায়ে শিশুটি তাকে আগের দিনের ঘটনা জানায়। বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে তার ডান হাতে আঘাত করেন। এতে অভিযুক্তের হাত ভেঙে গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে।

পরে স্বজনরা শিশুটি ও অভিযুক্তকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। খবর পেয়ে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আলীকদম থানার ওসি শাহেদ পারভেজ বলেন, অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। শিশুটির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




লামায় ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ম্রো শিশুদের টিকাদান

লামায় ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় ম্রো শিশুদের টিকাদান
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামায় উপজেলায় থানছি ডিমপাহাড় সীমান্তবর্তী অত্যন্ত দুর্গম রূপসীপাড়া ইউনিয়নের “তংপং ম্রো পাড়ায়” তিন দিনব্যাপী বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রামের আওতায় সম্প্রসারিত টিকাদান (ইপিআই) কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। 

লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে মার্কিন সরকারের পরাষ্ট্রের মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বেসরকারি সংস্থা গ্রীন হিল এর ‘এমআইএইচআর’ প্রকল্পের সহযোগিতায় গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত এ কর্মসূচী পরিচালিত হয়। কর্মসূচির ৮৮ জন নারী ও শিশুসহ ম্রো জনগোষ্ঠীদের বীনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আনা হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএএফপিও) ডা. গোলাম মোস্তাফা নাদিম নির্দেশনায় স্বাস্থ্য সহকারী ফিলীপ ম্রো নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়। দলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসহকারী মো. মিজানুর রহমান এবং গ্রীন হিল এনজিও-র প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়ক মংছিংপ্রু মার্মা।

স্বাস্থ্যকর্মীদের এই দলটি অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়, উঁচু-নিচু পাহাড়িপথ ও ঝিরি অতিক্রম করে তংপং ম্রো পাড়ায় পৌঁছায়। সেখানে স্থানীয় শিশু ও নারীদের যক্ষ্মা, পোলিও, হাম-রুবেলাসহ বিভিন্ন মারাত্মক রোগের প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি ম্যালেরিয়া পরীক্ষা, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সেবা এবং মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সচেতনতায় প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের এমটিইপিআই মো. গোলাম মোস্তফা জানান, তংপং ম্রো পাড়াটি থানছি ডিমপাহাড় সংলগ্ন রূপসীপাড়া ইউনিয়ন শেষ জনপদ। ওখান জনগোষ্ঠীরা দূর্গম বসবাস করেন বলে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস মিটিয়ে থাকেন থানছি বাজারে গিয়ে। পায়ে হেটে পাহাড়ী উচু-নিচু রাস্তায় লামা বাজারে আসতে হলে তাদের ৫-৬ ঘন্টা সময় প্রয়োজন। আর গাড়ি যোগে আসতে হলে আলীকদম উপজেলা হয়ে আসতে হবে, এতে তাদের পক্ষে আর্থিকভাবে অনেক টাকা খরচ করতে হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক সমীরণ বড়ুয়া জানান, আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীরা যক্ষা, পোলিও, হাম-রুবেলা প্রতিরোধে এই দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিয়ে ক্রাশ প্রোগ্রাম আওতায় এই সেবা পৌঁছে থাকে। তাদের এই সাহসিকতা ও আন্তরিকতা প্রশংসনীয়।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম মোস্তাফা নাদিম বলেন, ভৌগোলিক দুর্গমতার কারণে পার্বত্য এলাকার যেসকল শিশু ও নারী নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচী থেকে বঞ্চিত হয়, তাদের শতভাগ টিকার আওতায় আনতেই এই বিশেষ ক্রাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।