মুক্তির পথ খুঁজছে ইইউ: ইউরোপের বাজারে চীনের দাপট, বাণিজ্য ঘাটতি দিনে ১০০ কোটি ইউরো
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন

মুক্তির পথ খুঁজছে ইইউ: ইউরোপের বাজারে চীনের দাপট, বাণিজ্য ঘাটতি দিনে ১০০ কোটি ইউরো

মুক্তির পথ খুঁজছে ইইউ: ইউরোপের বাজারে চীনের দাপট, বাণিজ্য ঘাটতি দিনে ১০০ কোটি ইউরো
ছবি সংগৃহীত।

চীনের সঙ্গে তৈরি হওয়া বাণিজ্য ঘাটতি, বিরল খনিজ রপ্তানিতে দেশটির কড়াকড়ি এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কে দিন দিন বাড়তে থাকা ভারসাম্যহীনতা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) জন্য। এর সমাধানে ব্রাসেলসের কাছে সমমর্যাদার সংলাপ ও গভীর সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

সম্প্রতি চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওর সঙ্গে বৈঠক করতে চীন সফর করেছেন ইইউয়ের বাণিজ্যবিষয়ক কমিশনার মারোস সেফকোভিচ। চীন থেকে ইইউতে পণ্য আমদানির পরিমাণ দিন দিন বাড়ছে। চীনের সঙ্গে ইইউয়ের বাণিজ্য ঘাটতি দৈনিক ১০০ কোটি ইউরো ছাড়িয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিগত তিন মাস ধরে চলতে থাকা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ধারাবাহিকতায় মারোস সেফকোভিচের এ সফর। আর মূলত তার এই সফরের পরই এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে নতুন করে।

বিরল খনিজ রপ্তানিতে চীনের দেওয়া বিধি-নিষেধ ইউয়ের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন করেছে। এতে দুই পক্ষের ঐতিহ্যগত বাণিজ্যিক সম্পর্কে এক ধরনের কৌশলগত টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বিদ্যমান মতভেদ দূর করতে উন্মুক্ত সহযোগিতা এবং সমমর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপ অত্যন্ত জরুরি।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং বলেন, ‘আমরা আশা করি ইউরোপীয় পক্ষ চীনের সাথে একত্রিত হয়ে সমাধান বের করার লক্ষ্যে কাজ করবে।’ একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উভয় পক্ষের যৌথ স্বার্থ রক্ষা করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

কেন্দ্রবিন্দুতে বাণিজ্য ঘাটতি
বেইজিং এবং ব্রাসেলসের মধ্যে অন্যতম প্রধান এবং দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ইইউয়ের বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি।

ইউরোপীয় সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ইউরোপের বাজারে চীনা পণ্যের অতিরিক্ত আধিপত্য নিয়ে ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। তাদের অভিযোগ, চীনা পণ্যের জন্য ইউরোপের বাজার সহজ হলেও চীনে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর প্রবেশাধিকার বেশ কঠিন।

অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক দিন দিন অনিশ্চিত হয়ে ওঠার কারণে বেইজিংয়ের কাছে ইউরোপের সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ইইউয়ের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো চীনের সাথে তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত না করে কীভাবে নিজেদের অর্থনৈতিক ঝুঁকি কমিয়ে আনা যায় তা নির্ধারণ করা।

ইউরোপীয় নীতি-নির্ধারকেরা এখন চীনের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং কৌশলগত নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিচ্ছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তবে, দুই পক্ষের এই বিরোধ এখন কেবল সাধারণ পণ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বৈদ্যুতিক যানবাহন, নবায়নযোগ্য শক্তি, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলোর জন্য যেসব বিরল খনিজ উপাদান অপরিহার্য, সেগুলো রপ্তানিতে চীন বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে। এর ফলে ‘সাপ্লাই চেইন’ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করেছে।

ইউরোপীয় দেশগুলো বেশ কিছু দিন ধরেই বিকল্প উৎস থেকে বিরল খনিজ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। কিন্তু চীনের ওপর এই নির্ভরতা রাতারাতি কমিয়ে আনা সম্ভব নয়।

আলোচনার টেবিলে এটিই বেইজিংকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে। তবে বাণিজ্য এবং খনিজ রপ্তানিকে চীন চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করায়, ইউরোপীয় দেশগুলো দ্রুততম সময়ে বিকল্প উৎসের জন্য উৎসাহিত হতে পারে।

সবমিলিয়ে এটি উভয় পক্ষের জন্যই ভারসাম্য বজায় রাখার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। ইউরোপ চায় অর্থনৈতিক সুরক্ষা জোরদার করতে, আর চীন চায় ইউরোপীয় বাজারে নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার এবং একটি স্থিতিশীল অর্থনৈতিক সম্পর্ক।

আরও বিস্তৃত কৌশলগত আলোচনার প্রত্যাশায় ফ্রান্স
চলমান এই বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি চীন ও ফ্রান্সের মধ্যে একটি পৃথক কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইমানুয়েল বোন আগামী ৯ থেকে ১৩ অক্টোবর চীন সফর করবেন। সেখানে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বেইজিং জানিয়েছে, এই বৈঠকের মূল লক্ষ্য হবে কৌশলগত যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা।

বিশ্ব অর্থনীতি, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের মতো ভূ-রাজনৈতিক বিষয়গুলোর সাথে চীন-ইইউ অর্থনৈতিক সম্পর্ক নিবিড়ভাবে জড়িয়ে পড়ায় এই বৈঠকের সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ফ্রান্স সবসময় ইউরোপের নিজস্ব কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি বেইজিংয়ের ব্যাপারে একটি স্বতন্ত্র ইউরোপীয় অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করে এসেছে।

তাই ইইউর বাণিজ্য কমিশনার মারোস সেফকোভিচ ও চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাওর মধ্যকার কারিগরি পর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনার পাশাপাশি, ওয়াং ই-র সঙ্গে ইমানুয়েল বনের এই বৈঠক দুই দেশের মাঝে আরও বিস্তৃত কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ সুগম করতে পারে।

বর্তমানে বেইজিং এবং ব্রাসেলসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি সমঝোতায় পৌঁছানো যা বাণিজ্য বিরোধকে বড় কোনো সংঘর্ষে রূপ না দিয়ে ইউরোপের উদ্বেগগুলো নিরসন করবে।

চীনের সমমর্যাদার সংলাপের ওপর জোর দেওয়া ইঙ্গিত করে যে, তারা এই আলোচনাকে কেবল ইউরোপের একতরফা দাবির মুখে নতি স্বীকার হিসেবে দেখতে চায় না। অন্যদিকে, ইইউ প্রশাসনও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং চীনা সাপ্লাই চেইনের ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে নিজেদের দেশে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছে।

এ কারণেই সাম্প্রতিক এই আলোচনা নির্দিষ্ট পণ্য বা কেবল বাণিজ্য পরিসংখ্যানের সাধারণ কোনো বিরোধের চেয়ে অনকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি কীভাবে ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার যুগে একে অপরের ওপর নির্ভরতা নিয়ন্ত্রণ করবে তা-ই এখন এই সম্পর্কের মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদি বেইজিং ও ব্রাসেলস বাজারের প্রবেশাধিকার, বাণিজ্য ঘাটতি এবং বিরল খনিজ সরবরাহের বিষয়ে বাস্তবসম্মত চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে তা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে স্থিতিশীল করতে সহায়তা করবে।

তবে আলোচনা যদি ব্যর্থ হয়, ইউরোপ হয়তো চীন থেকে নিজেদের সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করবে এবং বেইজিংকে ইউরোপীয় বাজারে আরও বেশি বিধিনিষেধ ও প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হতে পারে।

অর্থনৈতিক পারস্পরিক নির্ভরতা কি চীন ও ইইউয়ের সহযোগিতার ভিত্তি হিসেবে টিকে থাকবে, নাকি কৌশলগত প্রতিযোগিতাই নতুন করে নির্ধারণ করে দেবে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের সমীকরণ— সাম্প্রতিক এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা তারই চূড়ান্ত পরীক্ষা

সূত্র : মডার্ন ডিপ্লোমেসি




সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা

সোনার দাম ভরিতে বাড়ল ২ হাজার ২১৬ টাকা
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

​শুক্রবার (৯ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ (​শুক্রবার) সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩১ হাজার ২৯৭ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৮১ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২০ হাজার ৯১৬ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৯ হাজার ৭১৫ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫৬ টাকা।

​সোনার দাম বাড়ানো হলেও অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা।




একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৬ হাজার ২০৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ের ১৩টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। অনুমোদিত এই অর্থায়নের মধ্যে সরকারি খাত থেকে ১০ হাজার ৬০০ কোটি ৮০ লাখ টাকা জোগান দেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রকল্প ঋণ হিসেবে মিলবে ৪ হাজার ৮১ কোটি ৮৫ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো নিজেদের তহবিল থেকে ১ হাজার ৫২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয় করবে। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ১০টি একেবারে নতুন, দুটি সংশোধিত এবং একটি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প হিসেবে স্থান পেয়েছে।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এসব প্রকল্পের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতেই এই বৃহৎ বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়। সচিবালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সভায় মন্ত্রিপরিষদের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জনাব আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং ভূমি মন্ত্রী জনাব মো. মিজানুর রহমান মিনু অংশ নেন।

এছাড়াও শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী জনাব খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী জনাব মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বাস্থ্য মন্ত্রী জনাব সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জনাব শেখ রবিউল আলম, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জনাব হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় যুক্ত ছিলেন।


আজকের একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে একক মন্ত্রণালয় হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রকল্প পেয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে মোট ৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অন্তর্ভুক্ত নতুন ৫টি অঞ্চলের ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার সর্বাত্মক উন্নয়ন প্রকল্প। উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং রসিকের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদন লাভ করেছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) ১ থেকে ৮ নম্বর জোনের রাস্তা, নর্দমা ও ফুটপাত নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নারী স্বাবলম্বিতা অর্জনে সমবায়ের মাধ্যমে নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্যোক্তা সৃজন প্রকল্প পাস করা হয়েছে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও নওগাঁ জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ও দ্বিতীয় সংশোধনীর সম্মতি দেওয়া হয়েছে।

পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গতি বাড়াতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই বৈঠকে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিআইডব্লিউটিসি’র জন্য ৩৫টি বাণিজ্যিক ও ৮টি সহায়ক জলযান সংগ্রহ এবং ২টি নতুন স্লিপওয়ে নির্মাণ সম্পর্কিত ৩য় সংশোধিত প্রস্তাব পাস করা হয়। বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ৩০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ সংগ্রহের অনুমোদন দিয়েছে একনেক। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় পঞ্চগড়ের ভজনপুর-আটোরখাড়ি-ময়নাগুড়ি-আমতলী-মিরগড়-পঞ্চগড় সড়কের ১৫তম কিলোমিটারে দ্বিতীয় করতোয়া সেতু নির্মাণ প্রকল্প পাস হয়। এছাড়া পাহাড়ি এলাকার যোগাযোগে গতি আনতে থানচি-রিমাকরি-মদক-লিকরি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের দ্বিতীয় সংশোধনী অনুমোদিত হয়।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নিশ্চিত করতে রামপাল ৪৪২ মেগাওয়াট পিক সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। অন্যদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ফ্রান্সের প্যারিসে কেনা চ্যান্সারি ভবনকে ব্যবহারের উপযোগী করা এবং এর সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প পাস করা হয়। সভা শেষে সহকারী সচিব মোহাম্মদ আলীর স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত জয়পুরহাট জেলার নন্দাহার, হারাবতী নদী, নুনগোলা খাল এবং খাড়োয়া খাল পুনঃখনন প্রকল্প সম্পর্কেও একনেক কমিটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।




৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব

৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএমসহ বিভিন্ন সেবা বন্ধ, কিউ-ক্যাশ কর্তৃপক্ষকে তলব
ছবি সংগৃহীত।

একসঙ্গে ৩০টির বেশি ব্যাংকের কার্ড, এটিএম ও এনপিএসবি-সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল লেনদেন সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আইটি কনসালট্যান্টস পিএলসির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে সুইচিংসহ কার্ড-সংশ্লিষ্ট সব সেবা দ্রুত পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

গত ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে কিউ-ক্যাশ নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, সিস্টেম মাইগ্রেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের কারণে ৩০টির বেশি ব্যাংকের বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন সেবা বিঘ্নিত হয়। এতে এসব ব্যাংকের গ্রাহকদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিকেশন্স অ্যান্ড পাবলিকেশন্স থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, গ্রাহকদের স্বার্থ ও আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে কিউ-ক্যাশ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে অতি দ্রুত সুইচিংসহ কার্ড-সংশ্লিষ্ট সব সেবা পুনরায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তবে এনপিএসবি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রোভাইডার এবং অন্যান্য পেমেন্ট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক লেনদেন অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক পরিচালিত BACPS, BEFTN ও RTGS-সহ দেশের অন্যান্য পরিশোধ ব্যবস্থার কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিকল্প পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।