মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন, ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:২০ অপরাহ্ন

মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন, ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি

মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে যুবদল নেতার সংবাদ সম্মেলন, ফুটেজ যাচাইয়ের দাবি
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারায় মারামারির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় যুবদল নেতা মো. আজম খান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার কালাবিবির দিঘীর মোড় এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আজম খান আনোয়ারা উপজেলা যুবদলের সংগঠক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক অর্থ সম্পাদক।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আজম খান বলেন, গত ৫ সেপ্টেম্বর আনোয়ারা উপজেলার চাতরী-চৌমুহনী বাজারের হাজী এ আলী শপিং কমপ্লেক্সে কাঁচাবাজার ও মার্কেট ব্যবসায়ীদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে আনোয়ারা মেডিকেলে গিয়ে আহতদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর রাজনৈতিক সুনাম ক্ষুণ্ন করতে গত ৯ সেপ্টেম্বর মো. দেলোয়ার হোসাইন বাদী হয়ে চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাঁকে ২ নম্বর আসামি করে ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় চাপাতি দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।

তিনি দাবি করেন, ঘটনার সময় তিনি আনোয়ারা মেডিকেলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আনোয়ারা থানার এসআই মুবিন এবং হাজী এ আলী শপিং কমপ্লেক্সের দুজন ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলেই ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিজের রাজনৈতিক জীবন তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০১৮ সালে তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দায়ের করা একটি মামলায় দুই মাস কারাবন্দী ছিলেন। এলাকায় চাঁদাবাজ, মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় একটি কুচক্রী মহল তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করতে এই মামলা দিয়েছে।

তিনি এই হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সাংবাদিক ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন।




লোহাগাড়ায় পানির মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

লোহাগাড়ায় পানির মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়ায় পানির মোটর চালু করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আরিফুল ইসলাম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের উত্তর পদুয়া ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছলিমা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আরিফুল ইসলাম ওই এলাকার সোনা মিয়া মেম্বারের বাড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ আবদুল আলমের ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আমান উল্লাহ আমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাড়িতে পানির মোটর চালু করতে যান আরিফুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা চিকিৎসার জন্য নেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি মারা যান।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক বলেন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পদুয়ায় এক যৃুবক নিহত হওয়ার খবর পেয়েছি। কেউ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 




ছেলের ফেরার আগেই ঘরে ঝুলছিল মায়ের লাশ

ছেলের ফেরার আগেই ঘরে ঝুলছিল মায়ের লাশ
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারায় মনোয়ারা বেগম (৫৫) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হোসেন বিল্ডিং এলাকার একটি চারতলা ভবনের ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মনোয়ারা বেগম উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের পূর্ব ডুমুরিয়া এলাকার মৃত হোসেন কন্ট্রাক্টরের স্ত্রী।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মনোয়ারা বেগমের তিন ছেলে ও দুই মেয়ে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়েছে। তিন ছেলেই প্রবাসে থাকেন। সম্প্রতি মেজো ছেলে ছুটিতে দেশে আসেন। ঘটনার দিন তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গেলে ফ্ল্যাটে একাই ছিলেন মনোয়ারা বেগম।

সোমবার রাতে ছেলে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে বাসায় এসে মাকে ডাকেন। তবে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ হয় তার। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তিনি আশপাশের লোকজনকে খবর দেন। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নাইলনের রশিতে মনোয়ারা বেগমের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোয়ারা বেগম কিছুদিন ধরে মানসিক নানা সমস্যা ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।




পটিয়ায় অর্ধশতাধিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পেল প্রশাসনের সহায়তা

পটিয়ায় অর্ধশতাধিক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী পেল প্রশাসনের সহায়তা
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়ায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ, ঢেউটিন, সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ার ও সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বিতরণ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার দুপুরে পটিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে এসব সহায়তা বিতরণ করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩০ প্রশিক্ষণার্থীর প্রত্যেককে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। এছাড়া দুজনকে সেলাই মেশিন, পাঁচজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার এবং পাঁচজনকে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড দেওয়া হয়।

এর আগে উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সভায় সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু সকাল ৯টায় এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়। আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।

তিনি বলেন, মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে হবে। কর্মকর্তারা দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে নাগরিকদের অনেক সমস্যা সমাধান করা সম্ভব।

পটিয়ার বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনায় জেলা প্রশাসক বলেন, যেসব সমস্যা উঠে এসেছে সেগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। সবাইকে ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। আইন অমান্য হয়—এমন কোনো কাজ করা যাবে না।

পটিয়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে’র সঞ্চালনায় সভায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সৌম্য চৌধুরী, আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা, সাংবাদিক আবদুল হাকিম রানা, আবেদ আমিরী, রবিউল হোসেন ও ওবায়দুল হক পিপলুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

এ সময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়বসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে জেলা প্রশাসক উপজেলা ভূমি অফিস, পটিয়া পৌরসভা ও কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন।