মাদক ও অনৈতিকতা থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন

মাদক ও অনৈতিকতা থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

মাদক ও অনৈতিকতা থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

দেশে মাদকাসক্তি ও অনৈতিকতা বাড়ছে উল্লেখ করে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, এসব থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এর জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলা, স্কাউটিং ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা বাড়াতে হবে।

একই সঙ্গে খেলাধুলা ও স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার মতো গুণাবলি গড়ে তোলা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী স্কাউটদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মেধাবীদের হাত ধরেই আগামী বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হলে আমার সামনে প্রথম সারিতে যারা বসে রয়েছে, তাদের প্রয়োজন। মেধাবীদের সমর্থন দিতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, স্কাউটিং থেকে নেতৃত্ব, জনসম্পৃক্ততা, মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশের জন্য আত্মত্যাগের শিক্ষা পাওয়া যায়। খেলাধুলার মাধ্যমেও নেতৃত্বের গুণাবলি, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা গড়ে ওঠে। এসব কার্যক্রম তরুণদের মাদক ও অনৈতিকতা থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করবে। স্কাউট থেকে শেখা যায় কীভাবে জনসভা করতে হয়, কীভাবে নেতৃত্ব দিতে হয়, কীভাবে জনগণকে ভালোবাসতে হয় এবং কীভাবে দেশের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে হয়। এখান থেকেই নেতৃত্বের শিক্ষা নিতে হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে মাদকাসক্তি বাড়ছে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিকতার ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থা থেকে ফিরে আসতে হবে। এর জন্য প্রাথমিক স্তর থেকেই খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের ২২ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মধ্যে ফুটবল খেলায় যারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তাদের পুরস্কৃত করেছেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পোশাক ও মিড-ডে মিলের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাক্রমে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলা, সংস্কৃতি, নীতি ও নৈতিকতা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ‘আনন্দময় শিখন’ (লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস) যুক্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। স্কাউটের জন্য পৃথক একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং বিএনসিসির জন্যও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মেধাবীদের মূল্যায়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, যে কাজ করেনি, তাকে সেই কাজের জন্য পুরস্কার দেওয়া যায় না। এটা আমার কথা নয়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা। তোমরা যারা ভালো ফল করেছ, তোমাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং সম্মানিত করা হবে। আমরা চাই, আগামী প্রজন্ম তোমরাই গড়ে তুলবে। বাংলাদেশের মানুষের মেধা ও জনসংখ্যা দেশের উন্নয়নের বড় সম্পদ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে একটি উদাহরণ তৈরি করতে পারে। আগামী প্রজন্মের হাত ধরেই দেশ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাবে।

বক্তব্যে নারীশিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নারীশিক্ষায় উপবৃত্তি কর্মসূচি একটি সামাজিক বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে মেয়েদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এর প্রভাব দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও পড়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা খাতকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বাড়াচ্ছেন। স্কাউটের জন্যও বাজেট বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।




২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬–৯০ শতাংশে নিতে চায় সরকার : ববি হাজ্জাজ

২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬–৯০ শতাংশে নিতে চায় সরকার : ববি হাজ্জাজ
ছবি সংগৃহীত।

দেশে ২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়তে, লিখতে ও গণনা করতে পারার মৌলিক সক্ষমতা নয়। এটি মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষ্যে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের প্রতিপাদ্যে সাক্ষরতাকে কেবল পড়া, লেখা ও গণনার সক্ষমতা হিসেবে না দেখে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বর্তমান বাস্তবতায় একজন স্বাক্ষর মানুষ শুধু তথ্য পড়তে বা লিখতে সক্ষম হন না। তিনি তথ্য অনুধাবন ও বিশ্লেষণ করতে পারেন, প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হন এবং শিক্ষা ও দক্ষতার মাধ্যমে নিজের ও পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হিসেবে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূরীকরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ধারণ করে সরকার প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাক্ষরতা বিস্তারে গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এই অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হলেও এখনও একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী কার্যকর সাক্ষরতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার বাইরে রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় ‘কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে প্রতি জেলায় ৮০ জন করে মোট ৫ হাজার ১২০ জন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রতিটি কোর্সে ৪৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ১০০ ঘণ্টা কার্যকর সাক্ষরতা এবং ৩৬০ ঘণ্টা দক্ষতা প্রশিক্ষণ রয়েছে। প্রশিক্ষণটি বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর (বিএনকিউএফ) সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, এই কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষা থেকে কর্মে উত্তরণের সুযোগ সৃষ্টি করা। ইতোমধ্যে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন সক্ষম হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন, অর্থাৎ ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ সক্ষম শিক্ষার্থী কোনো না কোনো ধরনের কর্মসংস্থানের সংযোগ পেয়েছেন।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০৩ জন সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন, ৮৭৯ জন শোভন কাজে শিক্ষানবিশ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন, ১ হাজার ৩০৪ জন উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মে যুক্ত হয়েছেন এবং ৪৮৯ জন উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্যে পরামর্শকের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছেন। এ ছাড়া ৪৫৮ জন বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোর প্রথম স্তরে এবং ১০৪ জন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি (ভোকেশনাল) কার্যক্রমে ভর্তি হয়েছেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, সাক্ষরতার সঙ্গে যখন দক্ষতা যুক্ত হয়, তখন তা মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনে।

সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ রয়েছে। বিকল্প শিক্ষা সুযোগ কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪টি উপজেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোরকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আরও ১৯ হাজার ২০০ জন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণকে জীবিকায়ন দক্ষতা দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা কার্যক্রম দেশের আরও ১৬টি জেলায় সম্প্রসারণ করে তিন বছরে ১ লাখ কিশোর-কিশোরীকে দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর চলমান কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেই বিশেষ কার্যক্রমের দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৫০টি জেলায় আরও ৪ হাজার কিশোর-কিশোরীকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

দেশকে নিরক্ষরতামুক্ত করার লক্ষ্যে ‘প্রত্যেকে একজনকে শেখাবে’ মডেলের আলোকে প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা ও কার্যকর সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ কর্মসূচির পাইলট পর্যায়ে ৪০টি জেলার ৪০টি উপজেলায় ৩৫ হাজার নিরক্ষর নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়া হবে। পাইলট বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে মূল কর্মসূচির আওতায় ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী ও পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।




মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ

মুখস্থনির্ভর শিক্ষা নয়, খেলায় খেলায় শিশুদের শেখাতে হবে : ববি হাজ্জাজ
ছবি সংগৃহীত।

প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেছেন, শিশুদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে খেলায় খেলায় শেখার পদ্ধতি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এজন্য স্থানীয় খেলাকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও সেই অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের খেলাগুলো নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিদ্যালয়ে খেলানো যেতে পারে। এ ছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কীভাবে যুক্ত করা যায়, তা নিয়েও কাজ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষায় আনন্দময় শিখনের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আনন্দের সঙ্গে শেখা নিশ্চিত করতে হলে খেলায় খেলায় শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে হবে। শিশুদের শুধু মুখস্থ করানোর মাধ্যমে ভালোভাবে শেখানো সম্ভব নয়। খেলাধুলা ও আনন্দময় কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখানো হলে তাদের শেখার সক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি বাড়বে।

তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং ও প্রবলেম সলভিংয়ের দক্ষতা গড়ে তোলা জরুরি। আর প্রাথমিক বয়সে এসব দক্ষতা তৈরির জন্য খেলার মাধ্যমে শেখানো সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি। তাই নতুন পদ্ধতি পাঠ্যক্রমে যুক্ত করার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের পরিবেশও সে অনুযায়ী তৈরি করতে হবে। শুধু পাঠ্যক্রম পরিবর্তন করলেই হবে না, এর সঙ্গে অবকাঠামোর বিষয়টিও যুক্ত। বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ না থাকলে বা শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ খেলাধুলাভিত্তিক না হলে খেলায় খেলায় শেখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। বিশেষ করে প্রাথমিকের ছোট শিশুদের জন্য ক্রিকেট-ফুটবলের মতো বড় পরিসরের খেলাধুলার চেয়ে শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে করা যায় এমন খেলার ব্যবস্থা করা বেশি প্রয়োজন।

চীন ও জাপানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব দেশে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলার সমন্বয় করা হয়েছে। কোন শ্রেণিতে, কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় শেখাতে কোন খেলনা বা খেলা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যবই ও পাঠ্যক্রমে উল্লেখ থাকে। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন।

বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় খেলনা ব্যবহারের একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে গণিত ও বিজ্ঞানের মতো বিষয় শেখাতে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষামূলক খেলনা ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের ব্যবহারিক জ্ঞান ও ক্রিটিক্যাল থিংকিংয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

তিনি বলেন, পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা ও শিক্ষার পরিবেশ যথাযথভাবে তৈরি হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।




শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুর আন্দোলন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী: ‘চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখছে না’

শিক্ষক নিয়োগ ইস্যুর আন্দোলন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী: ‘চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখছে না’
ছবি সংগৃহীত।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়োগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সমালোচনা করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, “চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কানে হাত দিয়ে দেখছে না কানটি রয়েছে কি না। একটি সভার সিদ্ধান্তের (রেজোলিউশন) আলোচনার অংশবিশেষ কেটে প্রচার করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয়। মন্ত্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা থাকলেও সেই অংশ বাদ দিয়ে খবর প্রকাশ করা হয়েছে।”

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে ‘সমৃদ্ধ অর্থনীতির বিনির্মাণে শিক্ষা: দক্ষতা, ভাষাগত সক্ষমতা ও বৈশ্বিক গতিশীলতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পারছি না। গতকাল রাতে শুনলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিল হচ্ছে। একটি মিটিংয়ের সিদ্ধান্তের আলোচনার জায়গাটি কেটে কোনো এক গুপ্ত ব্যক্তি মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট অংশটি দেখিয়েছে। কিন্তু তার নিচে যে অংশ রয়েছে—মন্ত্রী সেটি দেখবেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন, তারপর সেটির প্রজ্ঞাপন জারি হবে। সেই বিষয়টি কিন্তু ওই প্রজ্ঞাপন বা চিঠির মধ্যেই রয়েছে। সেটুকু বাদ দিয়ে পত্রিকায় ছাপিয়ে দিল, আর তা নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা মিছিল শুরু করে দিল।”

সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “একটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা আলোচনার টেবিলে আলোচনা করা হবে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত হয়ে আমার কাছে আসবে। সেই খসড়া সিদ্ধান্তই কি মন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটি কি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত? এটি কি প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত? এটি কি দলীয় সিদ্ধান্ত? একবারও ভেবে দেখল না! চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পেছনে দৌড়াচ্ছে, কিন্তু কানে হাত দিয়ে দেখছে না নিজের কানটি আছে কি না।”

এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “২০০৪ সালে আমি নিজে শিক্ষকদের মর্যাদা দেওয়ার জন্য তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে অনুরোধ করে এই এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার এসে এনটিআরসিএ থেকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া শুরু করে। তারা ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগ দিতে পারছে না, কারণ তাদের বয়স পার হয়ে গেছে। আমি রাস্তায় গাড়ি দিয়ে যাওয়ার সময় তারা আমার গাড়ির নিচে এসে মাথা দিয়ে দেয়—তাদের বয়স নেই। ১৮তম নিবন্ধনে প্রায় ১ লাখ শিক্ষককে এনটিআরসিএর লাইসেন্স ও সনদ দিয়েছে, কিন্তু চাকরি দেয়নি। তাদেরও বয়স পার হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে ৭৭ হাজার পদ শূন্য হয়ে রয়েছে।”

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বিভিন্ন জটিলতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “তারা যেভাবে নিয়োগগুলো দিয়েছিল—নোয়াখালীর শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কুষ্টিয়ায়, রংপুরের শিক্ষককে খাগড়াছড়িতে, আর খাগড়াছড়ির শিক্ষককে লালমনিরহাটে। এই বদলি প্রক্রিয়া যে কতটা জটিল কাজ!”

৯ হাজার শিক্ষক নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “৯ হাজার শিক্ষককে নিয়োগ দিতে হবে। ৭৭ হাজার থেকে ৯ হাজার চলে গেলে বাকিদের আবার নথি বের করতে হবে এবং তাদের পরীক্ষা নিতে হবে।”

শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির সুযোগ থাকবে না জানিয়ে আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “একজন ছাত্র যখন শিক্ষকের সনদ পাবে, তাকে নিয়োগ দিতেই হবে। এখানে কোনো ধরনের দুর্নীতি চলবে না।”