কক্সবাজারে শিশু সুরক্ষা জোরদার ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার শহরের হোটেল সি উত্তরা-য় আমাল ফাউন্ডেশনের চাইল্ড সেফটি নেট প্রকল্পের (সিএমপিএল) উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিশু সুরক্ষা জোরদারকরণ ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে আমাল ফাউন্ডেশনের প্রকল্প সমন্বয়কারী আব্দুল কাদের প্রকল্পের কার্যক্রম এবং শিশু সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে না এলে এর কারণ খুঁজে দেখা এবং ঝুঁকিতে থাকা শিক্ষার্থীদের বিষয়ে পরিবার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো প্রয়োজন। শিক্ষার পাশাপাশি শিশু সুরক্ষার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, বাল্যবিবাহের সঙ্গে দারিদ্র্য, পারিবারিক সংকট ও সামাজিক অসচেতনতার মতো বিষয় জড়িত। তাই শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও পরিবারকে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সামাজিক সুরক্ষা ও সহায়তার আওতায় আনতে হবে।
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপপরিচালক সুব্রত বিশ্বাস বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কিশোরীদের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন করতে হবে। কোনো পরিবারে বিয়ের চাপ তৈরি হওয়ার আগেই বিষয়টি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া গেলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
স্টুডেন্টস প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী মো. আরিফ উল্লাহ বলেন, শিশু সুরক্ষায় তরুণ ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। বিদ্যালয়, পরিবার ও স্থানীয় পর্যায়ে শিশুদের ঝুঁকি শনাক্ত করতে তরুণ স্বেচ্ছাসেবকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহের কারণ ও স্থানীয় বাস্তবতা নিয়ে তথ্যভিত্তিক গবেষণা বাড়ানো প্রয়োজন।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের মনিটরিং অফিসার বেঞ্জিন শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমে তথ্য সংগ্রহ, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্ব দেন। কর্মসূচির অগ্রগতি ও ঘাটতি চিহ্নিত করতে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, সামাজিক সংগঠন, গণমাধ্যম ও উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের আগেই শনাক্ত করে শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তাঁরা।
সভায় শিশু সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং ঝুঁকিপূর্ণ শিশু ও পরিবারের তথ্যভিত্তিক তালিকা তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট সানজিদা আলম, স্টুডেন্ট নিউজের উপজেলা প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন, কোস্টাল কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ সেন্টারের সদস্যসচিব জিয়াউল কবির, প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।