বিভিন্ন অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রায় ২০ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) কর্তৃক মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারকৃত ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৯০০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়েছে।
মাদককে একটি নীরব ঘাতক উল্লেখ করে বিজিবি জানায়, সামাজিক অবক্ষয় ও নিরাপত্তার জন্য মাদক এক বড় হুমকি। মাদকের ভয়াবহ বিস্তার দেশের সামগ্রিক মানবসম্পদের সঠিক ব্যবহার ও মানোন্নয়নকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে, যা দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দেশকে রক্ষায় বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথ (আইস), হেরোইন ও গাজঁাসহ সব ধরনের মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে বিজিবি মাদকমুক্ত দেশ গঠনে বদ্ধপরিকর।
বিজিবি মহাপরিচালকের সার্বিক দিকনির্দেশনা, কক্সবাজার রিজিয়ন সদর দপ্তর ও রামু সেক্টর সদর দপ্তরের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই মাদকবিরোধী অভিযানসমূহ পরিচালিত হচ্ছে। ব্যাটালিয়ন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিজিবি সাফল্য অর্জন করেছে এবং আগামীতেও এই অভিযান আরও কঠোর করা হবে।
উল্লেখ্য, ৩৪ বিজিবির অধীনস্থ বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিওপিসমূহ গত ১৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখ হতে ১৮ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ৫২ হাজার ২৪৮ পিস বার্মিজ ইয়াবা এবং ১৫৫ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করে। উদ্ধার করা এসব মাদকের আনুমানিক মূল্য ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ২০ হাজার ৯০০ টাকা।
আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এসব মাদকদ্রব্য আনুষ্ঠানিকভাবে ধ্বংস করা হয়।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন—কক্সবাজার রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন, বিএসপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, জি; রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার, কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক, বান্দরবানের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি) গত এক বছরে সর্বমোট ১৬০ কোটি ২৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯২০ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য মালামাল জব্দসহ ২৮৫ জন আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে।
সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে বিজিবির এই ব্যাটালিয়ন মাদক অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং এ লক্ষ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে যাচ্ছে। বিজিবি আগামী দিনগুলোতেও মাদকবিরোধী অভিযানে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে।










