বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২১ অপরাহ্ন

বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

পরিবেশ ও বন রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরেও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একইসঙ্গে দেশের পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও বাস্তবায়নবিষয়ক সভায় প্রধানমন্ত্রী এ অহ্বান জানান।

সভায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের মাদার ট্রি চিহ্নিত করে সেগুলো সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে গাছ লাগানোর পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করা, রোপণ করা চারা বেঁচে আছে কি না, তা নিজস্ব লোক পাঠিয়ে পর্যবেক্ষণ করা এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বনায়ন বাড়ানোর উপায় বের করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের প্রকৃতির মাঝে যাওয়ার জায়গা কম। এ ধরনের জায়গা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ছাদবাগান, স্কুলবাগানসহ বিভিন্ন ভবনে বাগান তৈরিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মানুষ যত বেশি সচেতন হবে, কাজ তত সহজ হবে।

পরিবেশ ও বন রক্ষায় গৃহীত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পৃথক পরিকল্পনা রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ঢাকার বায়ুদূষণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক বছর ধরে ঢাকা বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় প্রথম বা দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসছে। এটি দেশের জন্য লজ্জার বিষয়। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আপনার যেটা ডিউটি, তার থেকে আপনি কিন্তু একটু বেশি করার সক্ষমতা আপনার রয়েছে।’ তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ সবার কাছে আসে না। যারা আজ দায়িত্বশীল অবস্থানে রয়েছেন, তাদের সেই সুযোগ রয়েছে। শুধু নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করেই থেমে গেলে হবে না। দেশের মানুষের জন্য আরও কিছু করার চেষ্টা থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহতাআলা আমাদের একটা সুযোগ দিয়েছেন এই দেশের জন্য, এই দেশের মানুষের জন্য কিছুটা করার। আপনি নয়টা-পাঁচটা অফিস করতেই পারেন। এরপরে যদি আপনি কিছু না করেন, কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু পরিবেশটা যদি খারাপ হয়ে যায়, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, আপনার পরবর্তী প্রজন্ম তো দেশেই থাকবে।’

তিনি বলেন, দেশের পরিবেশ ভালো রাখতে হলে সবাইকে দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কিছুটা বেশি কাজ করতে হবে। পরিবর্তন চাইলে নিজের সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, ঠিকভাবে কাজ করতে পারলে এর সুফল দেশের সব মানুষ পাবে। সবাই এগিয়ে এলে দেশের মানুষের জন্য সম্মিলিতভাবে ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, অন্য মন্ত্রণালয়গুলো নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম গাছ লাগালে সেই ঘাটতি পূরণে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়কে উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে রোপণ করা গাছের নিয়মিত পরিচর্যা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, ভারপ্রাপ্ত সচিব ফাহমিদা খান উপস্থিত ছিলেন।




দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় কাজ কর‌বেন আনসার-ভিডিপির ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য

দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় কাজ কর‌বেন আনসার-ভিডিপির ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য
ছবি সংগৃহীত।

শারদীয় দু‌র্গোৎস‌বের নিরাপত্তায় সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজার ১১৮ জন আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ‌নি‌য়ো‌জিত র‌য়ে‌ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সেই স‌ঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহারের মাধ্যমে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা জা‌নি‌য়ে‌ছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

তি‌নি ব‌লেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত পূজামণ্ডপে আটজন করে এবং সাধারণ পূজামণ্ডপে ছয় জন করে আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি যে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় থাকবে স্ট্রাইকিং পেট্রোল।’

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আনসার বাহিনীর সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান মহাপ‌রিচালক।

সাজ্জাদ মাহমুদ বলেন, ‘এবার সারাদেশে ৩৩ হাজার ১৬৫টি পূজামণ্ডপের তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৯১৪টি পূজামণ্ডপকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

‘পূজামণ্ডপে মোতায়েন করা সদস্যদের পাশাপাশি ১০৪টি স্ট্রাইকিং পেট্রোল দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কাজে তারা ভূমিকা রাখবে যেন সুযোগসন্ধানীরা ছোট কোনও ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে না পারে। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নিতে স্ট্রাইকিং পেট্রোল প্রস্তুত থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় গত বছরের মতো এবারও ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ ব্যবহার করা হবে। অ্যাপটিতে ৬৬ হাজার সদস্য নিবন্ধিত থাকবেন। কোনও ঘটনা ঘটলে এর মাধ্যমে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে এবং পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করা সম্ভব হবে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও এ ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার সফল ব্যবহার করা হয়েছে।’

এবারও অ্যাপটিকে সমন্বয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগানো হবে বলে জানান তিনি।

ডি‌জি বলেন, ‘নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কার্যক্রম তদারকির জন্য বাহিনীর নিজস্ব মনিটরিং ব্যবস্থা রয়েছে। কোথাও কোনও অনিয়ম বা ঘটনার তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও সদস্য পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন বলে জানা গেলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

দুর্গাপূজায় দায়িত্ব পালনকারী আনসার সদস্যদের ভাতা কম উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, ‘দায়িত্ব পালনের জন্য একজন সদস্য দৈনিক প্রায় ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা ভাতা পান। সদস্যদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের গভীর রাত পর্যন্ত অবস্থান করতে হয়। তাই তাদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে।’

আনসা‌রের ডি‌জি বলেন, ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য হলো সদস্যদের মধ্যে সেবাধর্মী মানসিকতা তৈরি করা। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তারা যেন সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, সেজন্য তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।’

দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে মহাপরিচালক বলেন, ‘সদস্য সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও তাদের যথাযথভাবে দায়িত্বে উপস্থিত রাখা জরুরি। এক্ষেত্রে লজিস্টিক সহায়তা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পূজামণ্ডপগুলোতে দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের খাবারসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘কোনও কোনও পরিস্থিতিতে গণজমায়েত বা উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সদস্যদের ধৈর্য ধরে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে। তাদের ওপর আক্রমণ হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

গুজব প্রতিরোধ ও নিরাপত্তা সমন্বয়ের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ‘পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রয়েছে। জেলা পর্যায়ে ব্রিফিং এবং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় সভা করা হয়েছে। এছাড়া ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপ’ দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’

পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক। 




নিরাপদ অভিবাসনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

নিরাপদ অভিবাসনে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির
ছবি সংগৃহীত।

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য অভিবাসন ব্যয় কমানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রতারণা ও দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা অনিশ্চিত থাকতে পারে না।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রূপসী বাংলা গ্র্যান্ড বলরুমে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) ৩০ বছর পূর্তি উদযাপন ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন ২০২৬’-এর পুরস্কার প্রদান ও সমাপনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য অনেক কর্মী জমি বিক্রি করেন, ঋণ নেন এবং পরিবারের সঞ্চয় ব্যয় করেন। এরপরও তাদের অনেকে অর্থ প্রতারণা, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, অনিশ্চিত চাকরি কিংবা চুক্তি অনুযায়ী বেতন না পাওয়ার মতো সমস্যায় পড়েন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রবাসী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায় বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মিশনগুলোকে শ্রমিকবান্ধব হতে হবে। প্রতিটি কর্মী বিদেশযাত্রার আগে যেন তার চাকরির চুক্তি, বেতন, কর্মপরিবেশ ও আইনি অধিকার সম্পর্কে যেন স্পষ্ট ধারণা পান, সে ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি প্রধান চালিকাশক্তি হলো প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাকশিল্প। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ বৈদেশিক মুদ্রার জোগান, আমদানি ব্যয় পরিশোধ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। এই অর্থ শুধু লাখ লাখ পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে না, দেশের অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী কর্মীর শ্রম, ঘাম, ত্যাগ ও অবদান রয়েছে। তাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠান না, বিদেশে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বও করেন। তাদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা জাতীয় সম্পদ।

দক্ষ কর্মী পাঠানোর ওপর গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পরিবর্তিত পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, শুধু কর্মীর সংখ্যা বাড়ানো যথেষ্ট নয়; দক্ষ কর্মী, উপযুক্ত কর্মসংস্থান ও নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কারিগরি জ্ঞান, ভাষা দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পেশাগত প্রশিক্ষণের গুরুত্ব বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তথ্যপ্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, নার্সিং, স্বাস্থ্যসেবা, বয়স্কদের পরিচর্যা, বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিকস প্রযুক্তি এবং আধুনিক নির্মাণশিল্পে দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে।

এই চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মী তৈরি করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কোন দেশে কোন পেশায় কত কর্মী প্রয়োজন এবং তাদের কী ধরনের যোগ্যতা ও দক্ষতা থাকা দরকার, সেই তথ্যের ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ ও নিয়োগের পরিকল্পনা করার ওপর গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বিদেশি নিয়োগকর্তা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

নারী অভিবাসীদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার কথাও বলেন রাষ্ট্রপতি। প্রবাসীদের সঞ্চয় উৎপাদনশীল বিনিয়োগে উৎসাহিত করা, দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন, দক্ষতার স্বীকৃতি, ঋণসুবিধা এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উন্নত জীবনের আশায় বহু মানুষ গ্রাম থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে আসছেন। এতে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হলেও নগর আবাসন, যানজট ও নাগরিক সেবার ওপর চাপ বাড়ছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, খরা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানুষ নিজ বসতি ছেড়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া এলাকায় কর্মসংস্থান, কারিগরি প্রশিক্ষণ, ক্ষুদ্রশিল্প, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ এবং নাগরিক সেবার সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযোজন, টেকসই অবকাঠামো, দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করতে সুদূরপ্রসারী, সমন্বিত ও ফলাফলভিত্তিক জাতীয় কৌশল গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে ‘অভিবাসন দশক’ ঘোষণার প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার, বিরোধী দল এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

ভাষণে তিনি বিদেশে কর্মসংস্থান ও শ্রমশক্তি রপ্তানির প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গঠনে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। ১৯৭৬ সালে তার প্রতিষ্ঠিত জনশক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের ৩৩টি দেশে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া, তিনি ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠার কথাও তুলে ধরেন।

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসী কার্ড চালু, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা এবং বিশেষ আদালত গঠনের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, আরএমএমআরইউ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল, মানবিক ও টেকসই করতে ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্সের প্রতিটি ডলারের পেছনে রয়েছে একজন মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্ন। তাদের অধিকার রক্ষা, মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।




রিয়াদ-দাম্মামের ১০০ ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চিত ১৫ হাজার ৩৯৩ জনের যাত্রা

রিয়াদ-দাম্মামের ১০০ ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চিত ১৫ হাজার ৩৯৩ জনের যাত্রা
ছবি সংগৃহীত।

ঢাকা থেকে সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মামের ১০০ টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৩৯৩ জন যাত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)  জানায়, শনিবার (১০ অক্টোবর) থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে ৪১টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট।

সরাসরি ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ৭টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের ৭টি ফ্লাইট রয়েছে।

অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগোর ২২টি, এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, সালামএয়ারের ৭টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এসব যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রানজিট নিয়ে রিয়াদ ও দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল। তবে স্ব স্ব দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিলের কারণে ঢাকা থেকে যাত্রী বহন করেনি তারা।

এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) হুথিদের হামলার পর রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা করা হয়। হামলা হয় দাম্মামেও। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদ ও দাম্মামে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদের ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।