বটতলী রুস্তমহাটে বাস স্ট্যান্ড দখল করে ইজারাদারের দোকান নির্মাণ!
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৯ অপরাহ্ন

বটতলী রুস্তমহাটে বাস স্ট্যান্ড দখল করে ইজারাদারের দোকান নির্মাণ!

বটতলী রুস্তমহাটে বাস স্ট্যান্ড দখল করে ইজারাদারের দোকান নির্মাণ!
বাস স্ট্যান্ড দখল করে খাস জমিতে ইজারাদারের নির্মিত দোকান।

আনোয়ারা উপজেলার বটতলী রুস্তম হাটে ৩০ বছরের পুরোনো বাস স্ট্যান্ড দখল করে সরকারি খাস জমিতে দোকান নির্মাণ করেছেন বাজারের ইজারাদার। হাট-বাজার ইজারা নেওয়ার চুক্তি মতে ইজারাদার কেবল রাজস্ব বা হাসিল আদায়ের অধিকার পান; সরকারি ভূমিতে কোনো ধরনের স্থাপনা বা দোকান তৈরি করার আইনি এখতিয়ার তাঁদের না থাকলেও বটতলী রুস্তম হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর সহযোগীদের এমন দখলদারত্বের কারণে বাসচালক, যাত্রী ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ইজারাদারের দাবি, প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তারা দোকান নির্মাণ করছে। তবে উপজেলা প্রশাসন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৪৩১ বাংলা সনে (দ্রষ্টব্য: মূল লেখায় ১৪৩৩ লেখা ছিল, যা বর্তমানে অপ্রাসঙ্গিক হলেও আপনার নির্দেশনামতে মূল অর্থ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে) উপজেলার বটতলী রুস্তম হাট বাজারটি ১ কোটি সাড়ে ৬ লাখ টাকায় ইজারা পান স্থানীয় জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর সহযোগীরা। সরকারি নিয়মানুযায়ী প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করায় তাঁদের উপজেলা প্রশাসন থেকে বাজারের হাসিল আদায়ের অনুমতি দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ইজারা পাওয়ার পর থেকেই বাজারজুড়ে সড়ক দখল করেই প্রতিদিন বসে ফলের দোকান ও সিএনজি অটোরিকশা স্টেশন। এতে করে হযরত শাহ মোছেন আউলিয়ার মাজার জিয়ারতে আসা লোকজনসহ উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সম্প্রতি বাজারের উত্তর পাশে ৩০ বছরের পুরোনো বাস স্ট্যান্ড দখল করে দোকান নির্মাণ করলে বাসচালক ও যাত্রীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বাস স্ট্যান্ড দখল করে নেওয়ায় সড়কের মাঝেই রাখতে হচ্ছে বটতলী-চট্টগ্রাম শহরে চলাচলকারী বাসগুলো। স্থানীয়দের মতে, ১০ লাখ টাকায় এক ফার্নিচার ব্যবসায়ীর সঙ্গে ইজারাদারের চুক্তিতে এই দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসচালক মো. ইলিয়াস বলেন, "২০ বছর ধরে এই স্টেশনে বাস চালাচ্ছি, এখানেই আমরা বাস রাখতাম। এখন ইজারাদার দোকান নির্মাণ করে তা দখল করে নিয়েছে।"

স্থানীয় ফার্নিচার ব্যবসায়ী নঈম উদ্দিন বলেন, "এমনিতেই এই বাজার ও সড়কজুড়ে যানজট লেগেই থাকে। বাস স্ট্যান্ড দখল করে নেওয়ায় এখন জনদুর্ভোগ আরও বেড়ে যাবে।"

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা পিএবি সড়ক বাস মালিক সমিতির সভাপতি জাফর উদ্দিন চৌধুরী বলেন, "৩০ বছর ধরেই বাসচালকরা এই জায়গাটি বাস স্টেশন হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সপ্তাহের দুদিন হাটের দিনে এখানে অস্থায়ী দোকান বসলেও অন্যান্য দিনে বাস রাখা হতো। কিন্তু গত দুদিন আগে হঠাৎ করেই জায়গাটি বাজারের ইজারাদার দখলে নিয়ে দোকান নির্মাণ শুরু করেন। এতে আমাদের বাসচালকরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বিষয়টি আমরা উপজেলা প্রশাসনকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি।"

এ বিষয়ে বাজারের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলমের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই তাঁরা দোকান নির্মাণ করছেন। ইজারাদার পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, "প্রশাসন অনুমতি না দিলে আমরা কি দোকান নির্মাণ করতে পারতাম?"

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু জাফর মজুমদার বলেন, "সরকারি জমি দখল করে ইজারাদারের দোকান নির্মাণের খবর শুনে আমি তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। ইজারাদার কখনোই বাজারের জমিতে দোকান নির্মাণ করতে পারেন না। বাসচালক ও বাজার ইজারাদারকে উপজেলা কার্যালয়ে আসতে বলা হয়েছে।"




কেরানীহাটে দেশীয় শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলা উদ্বোধন করলেন জসীমউদ্দীন এমপি

কেরানীহাটে দেশীয় শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলা উদ্বোধন করলেন জসীমউদ্দীন এমপি
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার কেরানীহাটের উত্তর পাশে সি ওয়ার্ল্ড চত্বরে আনন্দঘন পরিবেশে ১৩ অক্টোবর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে মাসব্যাপী "দেশীয় শিল্প ও উদ্যোক্তা মেলা"। মেলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ জসীমউদ্দীন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি হিসেবে মাননীয় সংসদ সদস্য বলেন, "আমাদের স্থানীয় শিল্প ও উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্যের ব্যাপক প্রচার ও প্রসার ঘটাতে হবে। দেশীয় পণ্যের বাজার সৃষ্টি ও ব্যবহার বৃদ্ধি করতে পারলে নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিকে আরও সুদৃঢ় করবে।" তিনি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান এবং দেশীয় পণ্যের গুণগত মান ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাজিব দাশ পুরকায়স্থ। তিনি তাঁর বক্তব্যে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের এই ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং মেলার সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

এ ছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ এলাকার ব্যবসায়ী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিপুলসংখ্যক সাধারণ দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, মাসব্যাপী এই মেলায় স্থান পেয়েছে দেশীয় পোশাক, হস্তশিল্প, মৃৎশিল্প, কুটিরশিল্প এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় পণ্যের স্টল। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় মেলা প্রাঙ্গণে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।




পটিয়ায় পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধার দুটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ

পটিয়ায় পুকুরের মাছ ধরা নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধার দুটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়ায় অংশীদারত্বের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে বসতঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জামানা খাতুন নামের এক বৃদ্ধার ওপর হামলা চালিয়ে দুটি দাঁত উপড়ে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূও আহত হয়েছেন।

গত ১০ ও ১১ অক্টোবর উপজেলার কাশিয়াইশ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাকখাইন গ্রামে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গত বুধবার রাতে বৃদ্ধা জামানা খাতুন বাদী হয়ে পটিয়া থানায় একটি মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাকখাইন জামে মসজিদসংলগ্ন একটি অংশীদারত্বের পুকুরে মাছ ধরা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও বিরোধের সমাধান হয়নি।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে অন্য অংশীদারদের না জানিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁরা ক্ষিপ্ত হয়ে পরিবারের সদস্য মো. হাসেমকে (৪৫) গালিগালাজ ও মারধর করেন। লাঠিসোঁটার আঘাতে তিনি আহত হন। পরে প্রাণভয়ে নিজ বাড়িতে আশ্রয় নিলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা বসতঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালান। গুরুতর আহত হাসেমকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরদিন ১১ অক্টোবর বেলা আড়াইটার দিকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় ঘরের দরজা, জানালা ও টিন ভাঙচুর করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে বৃদ্ধা জামানা খাতুন ও তাঁর পুত্রবধূ ডেইজী আক্তারকে (২৮) গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।

জামানা খাতুনের অভিযোগ, হামলাকারীদের একজনের ঘুষিতে তাঁর ওপরের দুটি দাঁত পড়ে যায়। আরেকজন লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করতে গেলে হাত দিয়ে প্রতিহত করার সময় তাঁর ডান হাতের কবজির ওপরের অংশে মারাত্মক চোট লাগে। এ ঘটনায় তাঁর প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

বৃদ্ধা জামানা খাতুন বলেন, “সামান্য বিরোধ থাকতেই পারে। তাই বলে দলবল নিয়ে হামলা করতে হবে? আমি এ হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে অভিযুক্তদের একজন নারগিছ আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “যাঁরা অভিযোগ করছেন, তাঁরাই প্রথমে আমার অসুস্থ স্বামী ফেরদৌসসহ কয়েকজনকে মারধর করেছেন। ঘরবাড়িতে হামলার অভিযোগ সত্য নয়। পরিকল্পিতভাবে ফাঁসাতে তাঁদের বিরুদ্ধে এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হচ্ছে।”

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বৃদ্ধার দাঁত উপড়ে ফেলার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। এ বিষয়ে নতুন কোনো অভিযোগ আসেনি। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।




পটিয়ায় ভূমি অফিসে দালাল আটক, ৪ দিনের কারাদণ্ড

পটিয়ায় ভূমি অফিসে দালাল আটক, ৪ দিনের কারাদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে দালালবিরোধী অভিযান চালিয়ে খোরশেদুল হক (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে প্রশাসন। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে চার দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে এ অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভূমি অফিসে অবৈধভাবে দালালি এবং সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগে খোরশেদুল হককে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল এলাকার আবুল হাশেমের ছেলে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাঁকে চার দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির উজ্জ্বল বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসন জানিয়েছে, সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত ও দালালবিহীন সরকারি সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পটিয়া সচেতন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক আইনজীবী জসীম উদ্দিন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে নামজারি, খাজনা ও দলিল সৃজন করার নামে প্রতারক চক্র পটিয়া ভূমি অফিসে প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। এ অভিযানের ফলে দালাল চক্রের হাত থেকে সাধারণ মানুষ রেহাই পাবে।” তিনি নিয়মিত এ ধরনের প্রশাসনিক অভিযান পরিচালনা করার আহ্বান জানান।

এদিকে পটিয়া ভূমি অফিসে অভিযান চালানোর পর দালাল চক্র গা-ঢাকা দিয়েছে। প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারিতেই সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্ত হবেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।