বাঁশখালীতে ঝগড়া থামাতে গিয়ে লাটির আঘাতে প্রতিবেশী নিহত
বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন

বাঁশখালীতে ঝগড়া থামাতে গিয়ে লাটির আঘাতে প্রতিবেশী নিহত

বাঁশখালীতে ঝগড়া থামাতে গিয়ে লাটির আঘাতে প্রতিবেশী নিহত
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে ঝগড়া থামাতে গিয়ে লাটির আঘাতে মোহাম্মদ রাশেদ (৩৫) নামে এক প্রতিবেশী নিহত হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংঘটিত এই ঘটনায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাশেদ মারা যাওয়ার পর পুলিশ অভিযুক্ত জমিলা আক্তার (৩০) কে গ্রেফতার করেছে। বাঁশখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের ধূইল্যাঝিরি এলাকা এই ঘটনা ঘটে। নিহত রাশেদ ওই এলাকার মৃত নুরুল আলমের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডস্থ ধূইল্যাঝিরি এলাকায় জমিলা আক্তারের সঙ্গে তার শাশুড়ি হোসনে আরা বেগমের (৬০) পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় কয়েকজন নারী-পুরুষ ঝগড়া থামাতে এগিয়ে আসেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঝগড়া থামাতে আসা প্রতিবেশী রাশেদকে বড় একটি গাছ দিয়ে আঘাত করেন জমিলা আক্তার। এতে রাশেদ গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে রাশেদের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয় ফরিদা বেগম (৩০), রুফিয়া বেগমসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত রাশেদের স্ত্রী জিয়াসমিন আক্তার তার স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত জমিলা আক্তারের দ্রুত বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, জমিলা আক্তার দীর্ঘ চার থেকে পাঁচ বছর ধরে তার স্বামী মো. আব্দুল্লাহ প্রবাসে থাকার সুযোগে শাশুড়ি হোসনে আরা বেগমকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করে আসছিলেন। পারিবারিক বিরোধ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিচার-সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও বিরোধ পুরোপুরি থামেনি বলে জানিয়েছেন তারা।

হোসনে আরা বেগম জানান, মঙ্গলবার সকালে তার নাতনিকে দুষ্টুমি করার কারণে তিনি একটি বেতের বাড়ি দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে জমিলা আক্তার তার ওপর চড়াও হন এবং তাকে মারধর করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে বলে তিনি জানান।

এদিকে জমিলা আক্তারের স্বামী মো. আব্দুল্লাহ বর্তমানে প্রবাসে অবস্থান করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

বাঁশখালী থানার এসআই সুমন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত জমিলা আক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।




ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন পটিয়া-আনোয়ারার হাজারো মানুষ, সেতু নির্মানের দাবি

ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছেন পটিয়া-আনোয়ারার হাজারো মানুষ, সেতু নির্মানের দাবি
ছবি সংগৃহীত।

দুই প্রান্তের সংযোগ সড়ক ভাঙা, কোথাও সড়কের অস্তিত্ব নেই। নিচে খরস্রোতা চানখালী খাল। সেতুতে ওঠার পথটুকুও অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে। কোথাও বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে নড়বড়ে সেতুতে উঠতে হচ্ছে। এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন টাঙ্গারপুল সেতু পার হচ্ছেন পটিয়া ও আনোয়ারা উপজেলার হাজারো মানুষ।

স্থানীয়দের কাছে শতবর্ষের পুরোনো এই সেতুটি এখন আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুলশিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী, রোগীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রতিদিন সেতুটি ব্যবহার করেন। তবে জরাজীর্ণ সেতু ও ভাঙা সংযোগ সড়কের কারণে যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ। স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো সেতুর পরিবর্তে দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ করা হোক।

সরেজমিনে দেখা যায়, চানখালী খালের এক পাশে পটিয়ার আশিয়া ইউনিয়ন, অন্য পাশে আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়ন। 
দুই উপজেলার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের মাধ্যম টাঙ্গারপুল সেতুর দুই প্রান্তের সংযোগ সড়কের বড় অংশ খালে বিলীন হয়েছে। কোথাও বাঁশের সাঁকো তৈরি করে মানুষ পারাপার করছেন। সেতুর বিভিন্ন অংশও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে খালে পানি ও স্রোত বেড়ে গেলে পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরপরও বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়েই মানুষ সেতুটি ব্যবহার করছেন। কৃষিপণ্য ও মালামাল পরিবহনে দুর্ভোগের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতেও সমস্যা হচ্ছে।

পটিয়ার আশিয়া ইউনিয়নের বাথুয়া এবং আনোয়ারার পরৈকোড়া ইউনিয়নের মাহাতা, দীঘিরপাড়সহ কয়েকটি গ্রামের মানুষ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। দুই প্রান্তে রয়েছে বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কমিউনিটি ক্লিনিক ও বাজার।

আশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন রনী বলেন, টাঙ্গারপুল সেতু উন্নত হলে পটিয়া ও আনোয়ারার যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে। 

বর্তমানে কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নতুন সেতু নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ কমবে।

পটিয়া উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ বলেন, টাঙ্গারপুল সেতুটিকে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় নেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এলজিইডির ‘পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেতুটিকে প্রস্তাবিত ৯৯ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু হিসেবে নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।  প্রকল্প প্রস্তাবটি এলজিইডির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।  অনুমোদন প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলে বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি আরও জানান, প্রস্তাব পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ দল সেতুর স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে।  সেতুর অবস্থান, সংযোগ সড়ক ও সম্ভাব্য নির্মাণকাজের বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের জুনে এলজিইডির ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি অ্যান্ড প্রিপারেশন অব সাসটেইনেবল অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড রুরাল ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট’-এর আওতায় একটি বিশেষজ্ঞ দল টাঙ্গারপুল এলাকা পরিদর্শন করে। তারা সেতুর সামাজিক ও পরিবেশগত পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের মতামত সংগ্রহ করে নতুন সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেতু ও সংযোগ সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। তাই এলজিইডির প্রস্তাবিত ৯৯ মিটার নতুন সেতুর প্রকল্প দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন পটিয়া-আনোয়ারার এলাকাবাসী।




লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়

লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময়
ছবি সংগৃহীত।

লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয়ভাবে কর্মরত সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদের কনফারেন্স হলরুমে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ক্রীড়া কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ। এসময় উপস্থিত ছিলেন লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাজী শফিউল ইসলামসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

মতবিনিময় সভায় প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬-২০২৭ আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ, মাঠ ব্যবস্থাপনা, অংশগ্রহণকারী দল, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং সার্বিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।

এছাড়া জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নজরুল বর্ষ উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা হয়। নজরুলের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

সভায় উপজেলার সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন এলাকায় চুরি, ছিনতাই, মাদক, কিশোর অপরাধসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে প্রশাসন ও পুলিশের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

সাংবাদিকরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সমস্যা, জনদুর্ভোগ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক যোগাযোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। একই সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে যথাসময়ে সরবরাহ এবং সংবাদ সংগ্রহে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়। 

ওসি মো. আব্দুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নিয়মিতভাবে কাজ করছে। এছাড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কমিটি গঠনকল্পে পুলিশ কাজ করছে। অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ বিন আখন্দ বলেন, প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার বিষয়গুলো বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি জনস্বার্থে প্রশাসনের সঙ্গে সাংবাদিকদের সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সভায় উপস্থিত সাংবাদিকরা প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং লোহাগাড়ার জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। 
 




রাতদিন চলছে বালু উত্তোলন, অভিযোগের তীর জহির গংয়ের দিকে

রাতদিন চলছে বালু উত্তোলন, অভিযোগের তীর জহির গংয়ের দিকে
ছবি সংগৃহীত।

রাজনীতির আড়ালে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ও চুনতি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাতদিন অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে জাহেদুল ইসলাম জহির ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে এ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে সরকারি জমি, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আশপাশের এলাকা, কৃষিজমি ও পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পুটিবিলা এলাকার ইব্রাহিম ও মোহছেন (প্রকাশ মহাসিন ডাক্তার)-এর দখলীয় জমি, সরকারি পিএফ জমি, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রিজার্ভ এলাকা, নলুবিল, ডলুখাল, হরি খাল, আন্দারি খাল ও পুলং খালসহ অন্তত ১৫-২০টি পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, দিন-রাত সমানতালে এসব পয়েন্ট থেকে বালু তুলে ডাম্পার ও ড্রাম ট্রাকে করে বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হচ্ছে।

সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগ রয়েছে, চুনতি ইউনিয়ন ছাত্রদলের পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে জহির ও তার সহযোগীরা এসব বালু উত্তোলন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিয়ে এসব অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রন করছেন ছাত্রদল নামধারী জহির।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি, খালপাড় ও আশপাশের ভূমিতে ভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। কোথাও কোথাও বসতবাড়িও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।

এদিকে বালু পরিবহনে ব্যবহৃত ভারী ডাম্পার ও ড্রাম ট্রাকের কারণে স্থানীয় গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নিয়মিত ভারী যানবাহন চলাচলে বিভিন্ন সড়কে গর্ত সৃষ্টি ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচলেও দুর্ভোগ বাড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের ভয়ভীতি দেখানো হয়। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অনেকে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না বলেও দাবি করেন তারা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা করার সুযোগ অভিযুক্ত জাহেদুল ইসলাম জহিরকে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা ২০০ টাকার মালিক, এমবি খরচ লাগলে বলেন, আমি দিবো। আমার বিরুদ্ধে নিউজ লিখেন, দেখি আমার কী করতে পারেন। বালু উত্তোলন ও পাচারের অভিযোগের বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য দেননি।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও সরকারি জমির আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না কেন। তারা অবিলম্বে সরেজমিন তদন্ত করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের স্থানগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হলে সরকারি সম্পদ ও পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি স্থানীয় সড়ক ও জনজীবনও সুরক্ষিত হবে।

এ বিষয়ে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন বলেন, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি যেকোনো দলের বা যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। পরিবেশ ধ্বংসকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।