ফটিকছড়ির ভূজপুর পাবলিক হাই স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন মাওলানা নিজাম
সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

ফটিকছড়ির ভূজপুর পাবলিক হাই স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন মাওলানা নিজাম

ফটিকছড়ির ভূজপুর পাবলিক হাই স্কুলের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হলেন মাওলানা নিজাম
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর ভূজপুর পাবলিক হাই স্কুলে ছয় মাসের জন্য চার সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি হয়েছেন শিক্ষানুরাগী মাওলানা মো. নিজাম উদ্দিন।

রবিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক মো. আবুল কাসেম স্বাক্ষরিত চিঠিতে কমিটি অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র ও চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি মোসাম্মৎ সারোয়ার বেগম এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মনোনীত অভিভাবক প্রতিনিধি মো. এরশাদ উল্লাহ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহজাহান পদাধিকারবলে সদস্যসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

চিঠিতে কমিটির সদস্যদের নির্ধারিত দায়িত্ব ও শর্তাবলি মেনে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।




ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে সন্ত্রাসীদের ‘প্রোডাকশন হাউস’ নির্মূল করতে চাই: এসপি মাসুদ আলম

ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরে সন্ত্রাসীদের ‘প্রোডাকশন হাউস’ নির্মূল করতে চাই: এসপি মাসুদ আলম
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেছেন, ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের সন্ত্রাসীদের ‘প্রোডাকশন হাউস’ নির্মূল করতে হবে। কয়েকজন অপরাধীর কারণে পুরো এলাকার দুর্নাম হতে পারে না। অপরাধীদের নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের মানিকপুর আহমদিয়া কেরামতিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা মাঠে ফটিকছড়ি থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী র‍্যালি ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কাঞ্চননগরের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এসপি মাসুদ আলম বলেন, “কাঞ্চননগর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য—এত দিন পর আমরা জানলাম। এখানে অল্প কয়েকজন সন্ত্রাসী ও অপরাধী পুরো এলাকার পরিবেশ অস্থিতিশীল করে রেখেছে।”

অপরাধীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ভালো হয়ে যাওয়ার জন্য কিছুদিন সময় দেওয়া যেতে পারে। এরপরও কেউ অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীরা পাহাড়, খাল, চা-বাগান কিংবা রাবারবাগান—যেখানেই আত্মগোপন করুক, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতা কামনা করে পুলিশ সুপার বলেন, সবাই মিলে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপরাধীরই এলাকায় থাকার সাহস থাকবে না। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কাঞ্চননগরের দুর্নাম দূর করে এলাকাটিকে শান্তির জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সন্ত্রাস ও মাদকের প্রভাব থেকে দূরে রাখতে এখনই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রশাসন ও জনগণ একসঙ্গে কাজ করলে কাঞ্চননগরকে অপরাধমুক্ত করা সম্ভব।

সমাবেশে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম খানের সভাপতিত্বে ও উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন দে-র সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ, কাঞ্চননগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হান্নান চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম, উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ বিন সিরাজ, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর সাইরান কাদের চৌধুরী এবং কাঞ্চননগর আহমদিয়া কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা শফিউল খান, বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক তালুকদারসহ অনেকে।




ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহার মৃত্যু: এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই, মানববন্ধনে ক্ষোভ

ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহার মৃত্যু: এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই, মানববন্ধনে ক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গৃহবধূ সামিহা হাকিম নেহার (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। নেহার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা মানববন্ধন করেছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নেহার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্ত করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

রাঙ্গামাটিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলতান রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এতে বক্তব্য দেন ফটিকছড়ি স্কয়ার হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক মহিন উদ্দিন চৌধুরী, আইনজীবী নজরুল ইসলাম, শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর আবদুল্লাহ চৌধুরী, আহমদুল হক, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী কাশেম সওদাগর, ছাত্রনেতা রকিব এবং নিহত নেহার ভাই মুহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন ও উমর ফারুক লাভলুসহ অনেকে।

নেহার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নেহার স্বামী মারুফ পারভেজসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায় নিহতের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি জানান নেহার মা শারমিন আক্তার রূপা।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকায় গৃহবধূ সামিহা হাকিম নেহার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরদিন (২ সেপ্টেম্বর) নেহার মা শারমিন আক্তার রূপা বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় ৩০৬ ধারায় মামলা করেন। মামলায় নেহার স্বামী মারুফ পারভেজসহ দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও তিন-চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকে মারুফ পারভেজ পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।

নিহত সামিহা হাকিম নেহা ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজু সুলতানের বাড়ির প্রবাসী লোকমান হাকিমের মেয়ে।

ঘটনার পর পুলিশ নেহার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামির মধ্যে একজন বিদেশে রয়েছেন। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তার কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




ফটিকছড়িতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ফটিকছড়িতে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে সড়ক পার হওয়ার সময় মাইক্রোবাসের ধাক্কায় মো. মারুফ (১৩) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের কুম্বারপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মারুফ নাজিরহাট পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সাইদুলের ছেলে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মারুফ সড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মাইক্রোবাস তাকে ধাক্কা দেয়। এতে সে ছিটকে সড়কের পাশের একটি গাছের সঙ্গে আঘাত পায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।