ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহার মৃত্যু: এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই, মানববন্ধনে ক্ষোভ

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গৃহবধূ সামিহা হাকিম নেহার (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। নেহার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা মানববন্ধন করেছেন।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নেহার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্ত করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
রাঙ্গামাটিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলতান রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এতে বক্তব্য দেন ফটিকছড়ি স্কয়ার হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক মহিন উদ্দিন চৌধুরী, আইনজীবী নজরুল ইসলাম, শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর আবদুল্লাহ চৌধুরী, আহমদুল হক, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী কাশেম সওদাগর, ছাত্রনেতা রকিব এবং নিহত নেহার ভাই মুহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন ও উমর ফারুক লাভলুসহ অনেকে।
নেহার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নেহার স্বামী মারুফ পারভেজসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায় নিহতের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি জানান নেহার মা শারমিন আক্তার রূপা।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকায় গৃহবধূ সামিহা হাকিম নেহার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরদিন (২ সেপ্টেম্বর) নেহার মা শারমিন আক্তার রূপা বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় ৩০৬ ধারায় মামলা করেন। মামলায় নেহার স্বামী মারুফ পারভেজসহ দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও তিন-চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকে মারুফ পারভেজ পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।
নিহত সামিহা হাকিম নেহা ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজু সুলতানের বাড়ির প্রবাসী লোকমান হাকিমের মেয়ে।
ঘটনার পর পুলিশ নেহার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামির মধ্যে একজন বিদেশে রয়েছেন। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তার কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।











