ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহার মৃত্যু: এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই, মানববন্ধনে ক্ষোভ
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:০১ অপরাহ্ন

ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহার মৃত্যু: এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই, মানববন্ধনে ক্ষোভ

ফটিকছড়িতে গৃহবধূ নেহার মৃত্যু: এক সপ্তাহেও গ্রেপ্তার নেই, মানববন্ধনে ক্ষোভ
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গৃহবধূ সামিহা হাকিম নেহার (১৯) মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হওয়ার এক সপ্তাহ পার হলেও এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা। নেহার মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে তারা মানববন্ধন করেছেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নেহার মৃত্যুর ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। তদন্তে কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্ত করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

রাঙ্গামাটিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক সুলতান রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এতে বক্তব্য দেন ফটিকছড়ি স্কয়ার হাসপাতালের মহাব্যবস্থাপক মহিন উদ্দিন চৌধুরী, আইনজীবী নজরুল ইসলাম, শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী, সাবেক কাউন্সিলর আবদুল্লাহ চৌধুরী, আহমদুল হক, বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী কাশেম সওদাগর, ছাত্রনেতা রকিব এবং নিহত নেহার ভাই মুহাম্মদ পারভেজ উদ্দিন ও উমর ফারুক লাভলুসহ অনেকে।

নেহার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে তাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তাকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।

এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করে নেহার স্বামী মারুফ পারভেজসহ জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানায় নিহতের পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এই দাবি জানান নেহার মা শারমিন আক্তার রূপা।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কান্দিরপাড় এলাকায় গৃহবধূ সামিহা হাকিম নেহার রহস্যজনক মৃত্যু হয়। পরদিন (২ সেপ্টেম্বর) নেহার মা শারমিন আক্তার রূপা বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় ৩০৬ ধারায় মামলা করেন। মামলায় নেহার স্বামী মারুফ পারভেজসহ দুজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও তিন-চারজনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পর থেকে মারুফ পারভেজ পলাতক রয়েছেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।

নিহত সামিহা হাকিম নেহা ফটিকছড়ি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রাজু সুলতানের বাড়ির প্রবাসী লোকমান হাকিমের মেয়ে।

ঘটনার পর পুলিশ নেহার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আলম বলেন, মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামির মধ্যে একজন বিদেশে রয়েছেন। অপর আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য তার কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




গরুর রশিতে পঁচিয়ে সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনা: মালিকপক্ষের হামলায় পুলিশের এএসআইসহ আহত ৪

গরুর রশিতে পঁচিয়ে সিএনজি অটোরিকশা দুর্ঘটনা: মালিকপক্ষের হামলায় পুলিশের এএসআইসহ আহত ৪
ছবি সংগৃহীত।

ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর থানা সংলগ্ন গহিরা-হেয়াকো সড়কের ওপর গরু চরানোর সময় গরুর সঙ্গে বাঁধা রশিতে একটি সিএনজি অটোরিকশা আটকে উল্টে যায়। এ সময় পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি অটোরিকশাও উল্টে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গরুর মালিকপক্ষের হামলায় তিন যাত্রী ও এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চারজন আহত হয়েছেন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আছরের পর ভূজপুর থানা সংলগ্ন উত্তর পাশে গহিরা-হেয়াকো সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সড়কের ওপর অবৈধভাবে গরু চরানোর সময় গরুর রশিতে চলন্ত একটি সিএনজি অটোরিকশা আটকে যায়। এতে সিএনজিটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে পড়ে। একই সময় সেটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটি অটোরিকশাও উল্টে যায়।

এ নিয়ে উভয় গাড়ির যাত্রীদের সঙ্গে স্থানীয় গরুর মালিকপক্ষের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে গরুর মালিক ও তাঁর কয়েকজন প্রতিবেশী লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় আলী আহাম্মদ (পিতা: আবুল হাসেম), মো. জিহান (পিতা: মো. জামাল) ও মো. পারভেজ (পিতা: আমির হোসেন) আহত হন। এ ছাড়া এক অন্তঃসত্ত্বা যাত্রীও আহত হয়েছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের সঙ্গেও তর্কে জড়ায় এবং গ্রেপ্তার করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টাকালে ভূজপুর থানার এএসআই মো. মিজান আহত হন। পুলিশের দাবি, হামলাকারীদের হাতে থাকা কাঁচির আঘাতে তাঁর হাতের বাহু কেটে যায়। পরে তাঁর বাহুতে সেলাই দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মো. ফুল মিয়া (৪০), হুসাইন আহমদ গুরু (২৫) ও মোহাম্মদ নয়ন (২২) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে ফুল মিয়া ও হুসাইন আহমদ গুরু পূর্ব ভূজপুর সওদাগরপাড়া এলাকার শামছুল আলমের ছেলে এবং মোহাম্মদ নয়ন একই এলাকার আবুল আজিজের ছেলে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় ভূজপুর থানায় মামলা হয়েছে (মামলা নং-০৬, তারিখ: ২০/০৯/২০২৬ খ্রি.)।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে ভূজপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে নাজিরহাট ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। আহতদের মাথা, ঘাড়, পা ও হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা ও ফাটা জখম হয়েছে। কয়েকজনকে সেলাই দেওয়া হয়েছে এবং একজনের পায়ে প্লাস্টার করা হয়েছে।

ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ সময় গরুর মালিকপক্ষ পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ায় এবং গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় নিয়ে আসতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে।’




ফটিকছড়িতে মাদক, কিশোর অপরাধ রোধে এলাকাবাসীর র‍্যালি ও সমাবেশ

ফটিকছড়িতে মাদক, কিশোর অপরাধ রোধে এলাকাবাসীর র‍্যালি ও সমাবেশ
ছবি সংগৃহীত।

মাদক, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির পাইন্দং ইউনিয়নে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সিএন্ডবি মাঠে পাইন্দং সচেতন নাগরিক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ফটিকছড়ি সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে থেকে র‍্যালিটি শুরু হয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশস্থলে মিলিত হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সদস্য আবু আজম তালুকদারের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির আজম চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান, বিশেষ অতিথি ছিলেন পাইন্দং ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক রেজাউল করিম চৌধুরী, ফটিকছড়ি থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম।

উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাস্টার নুরুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফটিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাবুল আলম চৌধুরী, প্রবীণ বিএনপি নেতা এম. এন. নুরুল আনোয়ার, বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা বজল আহমদ, অধ্যাপক (অব.) এনামুল হক চৌধুরী, ফটিকছড়ি সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী জ্যোতি কর খীসা, উপাধ্যক্ষ জামাল উদ্দিন, উত্তর জেলা যুবদলের সহ- সভাপতি মনছুর আলম চৌধুরী এবং পাইন্দং বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি লায়ন মাসুদুল আলম চৌধুরী। এ ছাড়াও পাইন্দং ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুদ্দীন সুমন, ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি আবদুল মালেক, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাদ্দাম হোসেন, কৃষক দলের সহ- সভাপতি শামসুল আলম, বিএনপি নেতা রহিম উদ্দিন, যুবদল নেতা এম. আলাউদ্দীন ও মানিক হোসেন, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি বাবর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আয়াজ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক নাঈমুল বাশার রিয়াদ, ছাত্রনেতা আরিফ, উপজেলা শ্রমিকদলের দপ্তর সম্পাদক আমিনুল হক সুমনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদকের বিস্তার রোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। পরিবার ও সমাজের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।




সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগে হাটহাজারীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কৃত

সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগে হাটহাজারীতে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা বহিষ্কৃত
ছবি সংগৃহীত।

হাটহাজারীতে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিককে হুমকি ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মো. মুমিনুল হককে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে উত্তর মাদার্শা স্বেচ্ছাসেবক দল।

হাটহাজারী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আসিফ মিজানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশক্রমে মুমিনুল হককে সংগঠনের পদ এবং প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জানা গেছে, চৌধুরীহাট নার্সিং হোমে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান মৃত প্রসবের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় সাংবাদিকদের নার্সিং হোম থেকে বের হয়ে যেতে বলা এবং রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে মুমিনুল হকের বিরুদ্ধে।

এর আগে একই ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইনজেকশন দেওয়ার পর গর্ভের সন্তান মৃত প্রসবের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যম। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে মুমিনের আচরণ নিয়ে অভিযোগ ওঠার পর তা দলীয় পর্যায়ে নজরে আসে।

ঘটনাটি জানার পর প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন এমপি দলীয় নেতা-কর্মীদের বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরে মুমিনুল হককে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে, সাংবাদিকদের কাজে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাঁদের মতে, সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তবে চৌধুরীহাট নার্সিং হোমে পাঁচ মাসের গর্ভের সন্তান মৃত প্রসবের ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলা, ইনজেকশন প্রয়োগের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং মৃত সন্তান প্রসবের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।

এ ছাড়া ঘটনার সময় নার্সিং হোমে উপস্থিত কয়েকজন সাংবাদিক পরবর্তী সময়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করে ফিরে গেছেন—এমন অভিযোগও সামনে এসেছে। তবে এ অভিযোগেরও স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।