প্রথম পর্যটন নগরী ছুঁয়ে গেল মহানগর এক্সপ্রেস, ঐতিহাসিক দিনে সঙ্গী হলো ১৮২২ যাত্রী
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:২০ অপরাহ্ন

প্রথম পর্যটন নগরী ছুঁয়ে গেল মহানগর এক্সপ্রেস, ঐতিহাসিক দিনে সঙ্গী হলো ১৮২২ যাত্রী

প্রথম পর্যটন নগরী ছুঁয়ে গেল মহানগর এক্সপ্রেস, ঐতিহাসিক দিনে সঙ্গী হলো ১৮২২ যাত্রী
ছবি সংগৃহীত।

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচলকারী জনপ্রিয় আন্ত:নগর ট্রেন ‘মহানগর এক্সপ্রেস’- ঘুরে গেল পর্যটক নগরী কক্সবাজার। 
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ৮৫৭ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে কক্সবাজার আইকনিক রেলস্টেশন ছেড়েছে বহুল প্রতীক্ষিত এই ট্রেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৯৬৫ জন যাত্রী নিয়ে ট্রেনটি কক্সবাজারে পৌঁছায়।
প্রথমবারের মতো মহানগর এক্সপ্রেস কক্সবাজারের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছালে যাত্রীদের বরণ করে নেন রেল স্টেশন কর্তৃপক্ষ।
এ সময় রেলের যাত্রীরা বলেন, মহানগর এক্সপ্রেসে করে কক্সবাজারে বেড়াতে আসতে পারায় দারুন অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতা হয়েছে। ট্রেনের এই ভ্রমণকে তারা নিরাপদ মনে করছে। 
এর আগে সোমবার রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মহানগর এক্সপ্রেসের ঢাকা-কক্সবাজার বর্ধিত রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে চলাচল শুরু হয়। এর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পাশাপাশি পথের মধ্যবর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও উপজেলার বাসিন্দাদের সরাসরি ট্রেনে চড়ে সৈকত শহরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হলো।
কক্সবাজার স্টেশন মাস্টার জয়নাল আবেদিন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ৯৬৫ জন যাত্রী নিয়ে মহানগর এক্সপ্রেস নিরাপদে কক্সবাজার এসে পৌঁছায়। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ঢাকার পথে রওয়ানা করে। কক্সবাজারে স্টেশনের ৮৫৭ জনসহ মোট ১৭৫০ যাত্রী টিকিট কাটে। টিকিট বিক্রি করে প্রথম দিনেই সরকারের আয় হয়েছে ৮ লক্ষ ২৭ হাজার ৪৮৩ টাকা।
রেলওয়ের কর্তৃপক্ষের সময়সূচি অনুযায়ী, মহানগর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে। এটি পরের দিন সকাল ৬টায় পৌঁছানোর কথা। একই ট্রেন প্রতিদিন সকাল ৯টায় কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছাবে।
উভয় দিক থেকে ঢাকা ও কক্সবাজারের মধ্যে যাতায়াতে ট্রেনটির সময় লাগবে প্রায় সাড়ে ৯ ঘণ্টা। ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন রোববার এবং এর বেইস স্টেশন নির্ধারণ করা হয়েছে কক্সবাজার।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৬ অক্টোবর থেকেই রুট সম্প্রসারণের এই আদেশ কার্যকর হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় ট্রেনটিতে আধুনিক কোরিয়ান কোচ যুক্ত করা হয়েছে।
বর্ধিত রুটে ট্রেনটি ঢাকা বিমানবন্দর, নরসিংদী, ভৈরববাজার, আশুগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আখাউড়া, কসবা, লাকসাম, নাঙ্গলকোট, ফেনী ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেবে। তবে নতুন সিদ্ধান্তে কুমিল্লা স্টেশনে মহানগর এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়েছে। ফলে কুমিল্লা ছাড়া যাত্রাপথের অন্যান্য স্টেশনের যাত্রীরা সরাসরি এই ট্রেনে কক্সবাজার যাতায়াত করতে পারবেন।
বর্তমানে ঢাকা থেকে কক্সবাজার রুটে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ ও ‘পর্যটক এক্সপ্রেস’ নামে দুটি নন-স্টপ আন্তনগর ট্রেন নিয়মিত চলাচল করছে। তবে ট্রেন দুটি ঢাকা বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম স্টেশন ছাড়া মাঝের অন্য কোনো স্টেশনে থামে না। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী ‘প্রবাল এক্সপ্রেস’ ও ‘সৈকত এক্সপ্রেস’ মধ্যবর্তী বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে থাকে। ফলে নতুন করে মহানগর এক্সপ্রেসের রুট সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৃহত্তর নরসিংদী, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনী অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। মহানগর এক্সপ্রেস এর মাধ্যমে পর্যটন নগরীতে রেলের যাত্রীসেবা আরেক ধাপ এগিয়ে গেল।