পাহাড়ি জনপদে কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন

পাহাড়ি জনপদে কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

পাহাড়ি জনপদে কর্মসংস্থান ও আত্মনির্ভরশীলতা অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
ছবি সংগৃহীত।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। এ কার্যক্রমের আওতায় আজ সোমবার (০৩ আগস্ট) ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের অধীনস্ত ১৬ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বান্দরবানের দুর্গম বাকলাইপাড়া ও প্রাতাপাড়া এলাকায় স্থানীয় জনগণের জন্য পুকুর প্রস্তুতকরণ ও বিভিন্ন প্রজাতির পাঁচ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।

এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল রুই, সরপুঁটি, তেলাপিয়া ও নাইলোটিকা প্রজাতির মাছ। পাশাপাশি মাছ চাষের সফলতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় মাছের খাদ্য (ফিড) ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি বিতরণ করা হয়।

এছাড়াও একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাইনোয়ামপাড়া গ্রামের বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি প্রদানের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ নিশ্চিত করা হয়েছে, যা স্থানীয় পাড়াবাসীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি শিক্ষা, যোগাযোগ ও অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যবৃন্দ, বাকলাইপাড়া সাবজোন কমান্ডার, স্থানীয় পাড়াসমূহের কারবারি, ধর্মযাজক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাকলাইপাড়া সাবজোন কমান্ডার বলেন, "বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নয়, দুর্গম এলাকার মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং মানবিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আজকের এই উদ্যোগ স্থানীয় জনগণের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আয়ের নতুন উৎস সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে সোলার প্যানেল ও ব্যাটারি বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও উন্নত করবে।"

স্থানীয় পাড়াবাসী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম দুর্গম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করবে।




লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে অসহায় পরিবারকে সেলাই মেশিন ও নিত্যপণ্য প্রদান

লক্ষ্মীছড়ি জোনের উদ্যোগে অসহায় পরিবারকে সেলাই মেশিন ও নিত্যপণ্য প্রদান
ছবি সংগৃহীত।

খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি জোন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক অসহায় পরিবারকে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। ৮ আগস্ট (শনিবার) দুপুরে উপজেলার ময়ূরখীল এলাকায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

জানা গেছে, ২২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টলারি লক্ষ্মীছড়ি জোন কমান্ডারের নির্দেশনায় ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ইমরান খলিল উপস্থিত থেকে ময়ূরখীল এলাকার মৃত ভিডিপি সদস্য মো. আব্দুল হান্নানের পরিবারের হাতে এ অনুদান তুলে দেন। প্রদান করা সহায়তার মধ্যে ছিল সেলাই মেশিন, থ্রি-পিস, শাড়ি, বোরকার ওড়না এবং মুড়ি, চিড়া, চিনি ও পানীয়জলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী।

সম্প্রতি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্দুল হান্নানের মৃত্যুর পর পরিবারটি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়ে। বিষয়টি জোন কমান্ডারের নজরে এলে সেনাবাহিনী ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ায়। পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা ফেরানো ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সেলাই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেওয়া হয়। সেনাবাহিনীর এই মানবিক সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।




আলীকদমে বাস দুর্ঘটনায় হেলপার নিহত, আহত ১১

আলীকদমে বাস দুর্ঘটনায় হেলপার নিহত, আহত ১১
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাসের হেলপার নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১১ জন।

শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে আলীকদম-চকরিয়া সড়কের চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের তারাবুনিয়া এলাকার কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হোসাইন (৩৫) কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কোচপাড়া এলাকার সাহাবুদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে চকরিয়া থেকে যাত্রী নিয়ে বাসটি আলীকদম যাচ্ছিল। পথে তারাবুনিয়া এলাকায় পৌঁছালে সামনের চাকা ফেটে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এ সময় বাসটি সড়কের পাশে থাকা একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খেলে সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং অন্তত ১১ জন যাত্রী আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক জানান, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই হোসাইনের মৃত্যু হয়।

আলীকদম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নিশাত বড়ুয়া জানান, চকরিয়া থেকে আলীকদম আসার পথে বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।




মাদকবিরোধী সচেতনতায় রামগড়ে ব্যতিক্রমী ম্যারাথন, অংশ নিলেন তিন শতাধিক দৌড়বিদ

মাদকবিরোধী সচেতনতায় রামগড়ে ব্যতিক্রমী ম্যারাথন, অংশ নিলেন তিন শতাধিক দৌড়বিদ
ছবি সংগৃহীত।

মাদককে 'না' বলা, তরুণসমাজকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং সুস্থ জীবনধারার প্রতি মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে খাগড়াছড়ির রামগড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতা। ‘দৌড়ান সুস্থতার জন্য, এগিয়ে চলুন বিজয়ের পথে’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত পাঁচ কিলোমিটারের এ ম্যারাথনে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক দৌড়বিদ অংশ নেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৬টায় রামগড় উপজেলার বলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যারাথনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। হাজী মো. নুরুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত টি-শার্ট ও ক্যাপ পরে অংশগ্রহণকারীরা বলিপাড়া থেকে খাগড়াবিল পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন।

প্রতিযোগিতায় মাত্র ১৩ মিনিটে পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে প্রথম স্থান অর্জন করেন সেনাসদস্য মেহেদী। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন নোমান এবং তৃতীয় হন নাজমুল।

ম্যারাথনে প্রথম ১০ জন বিজয়ীকে মেডেল, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা দেন ঢাকা থেকে আগত জাতীয় অ্যাথলেট ইমাজ উদ্দিন এবং রামগড়ের অ্যাথলেট জীবন ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠানে হাজী মো. নুরুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আব্দুল হক মানিক সভাপতিত্ব করেন। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীরা জানান, রামগড়ে এ ধরনের ম্যারাথন প্রতিযোগিতা এই প্রথম। ব্যতিক্রমী এ আয়োজন তরুণদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করার পাশাপাশি মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করেন।

আয়োজক আব্দুল হক মানিক জানান, গত ১৫ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিনামূল্যে নিবন্ধনের সুযোগ রাখা হয়েছিল। এতে বিভিন্ন বয়স ও শ্রেণি-পেশার তিন শতাধিক দৌড়বিদ নিবন্ধন করে ম্যারাথনে অংশ নেন।

তিনি বলেন, “তরুণসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখা, খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং একটি সুস্থ জীবনধারায় উদ্বুদ্ধ করাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।”

ভবিষ্যতেও রামগড়ে এ ধরনের সামাজিক, ক্রীড়া ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান আয়োজকরা।