পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় ৫৮ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ অপরাহ্ন

পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় ৫৮ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড

পতেঙ্গা টার্মিনালে ঘণ্টায় ৫৮ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৮ কন্টেইনার বা ৮২ টিইইউস হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়েছে। টার্মিনাল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আরএসজিটি বাংলাদেশের দাবি, নতুন শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন ব্যবহার করে এই সাফল্য অর্জন করেছে তারা। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতায় নতুন মাত্রা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত ১০ সেপ্টেম্বর পিসিটিতে সিএমএ সিজিএমের জাহাজ এমভি ওয়ানেন-এ কন্টেইনার ওঠানামার সময় এই রেকর্ড হয়। আরএসজিটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, নতুন এসটিএস ক্রেন চালুর পর গিয়ারলেস জাহাজে এটিই তাদের প্রথম অপারেশন।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনারবাহী জাহাজে গড়ে ঘণ্টায় প্রায় ৩০ কন্টেইনার বা ৪৮ টিইইউস হ্যান্ডলিং করা হতো। সে হিসাবে পিসিটিতে ঘণ্টায় ৫৮ কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের হার আগের গড়ের তুলনায় প্রায় ৯৩ শতাংশ বেশি। একইভাবে ৮২ টিইইউস হ্যান্ডলিং আগের ৪৮ টিইইউস গড়ের তুলনায় প্রায় ৭১ শতাংশ বেশি।

আরএসজিটি বাংলাদেশের দাবি, এই গতি ধরে রাখা সম্ভব হলে জাহাজের বন্দরে অবস্থানের সময় কমানো, বার্থের ব্যবহার বাড়ানো এবং জাহাজ-সংশ্লিষ্ট ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে কন্টেইনার পরিবহনের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় সময় সাশ্রয় হতে পারে।

এক বিবৃতিতে আরএসজিটি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এরউইন হানে বলেন, ঘণ্টায় ৫৮ কন্টেইনার বা ৮২ টিইইউস হ্যান্ডলিংয়ের এই অর্জন আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, দক্ষ কর্মী ও সুশৃঙ্খল পরিচালনার সমন্বিত ফল। বাংলাদেশে বন্দর পরিচালনার মান আরও উন্নত করতে তারা কাজ চালিয়ে যাবেন।

আরএসজিটি বাংলাদেশ জানিয়েছে, পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা বাড়াতে আধুনিক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও পরিচালন জনবল উন্নয়নে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে তারা। দেশের ক্রমবর্ধমান বৈদেশিক বাণিজ্যের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, এই সাফল্যের পেছনে নতুন এসটিএস ক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাধারণ গিয়ার্ড জাহাজে নিজস্ব কন্টেইনার ওঠানামার ক্রেন থাকে। অন্যদিকে গিয়ারলেস জাহাজে নিজস্ব ক্রেন না থাকায় টার্মিনালের তীরের ক্রেনের মাধ্যমে কন্টেইনার ওঠানো-নামানো করতে হয়। ফলে এ ধরনের জাহাজ পরিচালনায় টার্মিনালের ক্রেনের গতি ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ।




পুনর্নিরীক্ষণে চট্টগ্রাম বোর্ডে ফেল থেকে পাস ১৯০ জন

পুনর্নিরীক্ষণে চট্টগ্রাম বোর্ডে ফেল থেকে পাস ১৯০ জন
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি (মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট) পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণে ১৯০ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছে। একইসঙ্গে নতুন করে ৮৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। পুনর্নিরীক্ষণের পর ১ হাজার ১৮৫ জনের গ্রেড এবং ২ হাজার ৯৭৫ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বোর্ডে মোট ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেন। এসব আবেদনের পর মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি খাতা পুনর্নিরীক্ষণ করা হয়।

পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, ১ হাজার ১৮৫ জন পরীক্ষার্থীর গ্রেড পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া ২ হাজার ৯৭৫ জন পরীক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৯০ জন শিক্ষার্থী নতুন করে ফেল থেকে পাস করেছেন।

এ ছাড়া পুনর্নিরীক্ষণের পর ৮৩ জন শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন।

১০ আগস্ট প্রকাশিত ফলে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার।




তৈরি পোশাক রপ্তানি কনটেইনারের কাট-অফ সময় ২৪ ঘণ্টা বাড়াল চট্টগ্রাম বন্দর

তৈরি পোশাক রপ্তানি কনটেইনারের কাট-অফ সময় ২৪ ঘণ্টা বাড়াল চট্টগ্রাম বন্দর
ছবি সংগৃহীত।

পোশাক শিল্পের রপ্তানিমুখী পণ্যবাহী কনটেইনারের ক্ষেত্রে জাহাজের কাট-অফ সময় ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কনটেইনারের ডকুমেন্টেশন ও অনুমোদন গ্রহণের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (ট্রাফিক) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিটি গত ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বন্দরের কনটেইনার ম্যানুয়াল অনুযায়ী রপ্তানি পণ্যের ক্ষেত্রে জাহাজের কাট-অফ সময় নির্ধারিত রয়েছে। দিনের জোয়ারে জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে আগমনের দিন সকাল সাড়ে ৭টা এবং রাতের জোয়ারে জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে রাত ৮টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত ছিল।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুধু পোশাক শিল্পের রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনারের জন্য এ সময় ২৪ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিনের জোয়ারে জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে কাট-অফ টাইম পরের দিন সকাল সাড়ে ৭টা এবং রাতের জোয়ারে জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে পরের রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্টাফিং করা কনটেইনারের প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টেশন ও অনুমোদন গ্রহণের জন্য দিনের জোয়ারের ক্ষেত্রে আরও ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট, অর্থাৎ দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং রাতের জোয়ারের ক্ষেত্রে আরও ৪ ঘণ্টা, অর্থাৎ রাত ১২টা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কনটেইনার স্টাফিংয়ের কাজ সম্পন্ন করতে মালামাল আগেভাগে স্টাফিং পয়েন্টে পৌঁছানোসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাহাজ যথাসময়ে ছাড়ার (সেইলিং) সুবিধার্থে নির্ধারিত সেইলিং সময়ের ৩ ঘণ্টা আগে চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার গেট-ইন সময়সীমা শেষ হবে। এই সিদ্ধান্ত গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া আগামী ২ জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।




কবিতায়, স্মৃতিতে কবি নজরুলের চট্টগ্রাম

কবিতায়, স্মৃতিতে কবি নজরুলের চট্টগ্রাম
ছবি সংগৃহীত।

পাহাড়, সমুদ্র আর নদীর শহর চট্টগ্রাম শুধু ইতিহাসের নয়, এটি কবিতারও ভূখণ্ড। এই শহরের নীল আকাশ, সমুদ্রের ঢেউ, পাহাড়ের নিসর্গ আর মানুষের প্রাণস্পন্দন একদিন মুগ্ধ করেছিল বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামকে। তাঁর পদধূলিতে চট্টগ্রামের মাটি পেয়েছিল অন্য এক মহিমা, আর সৃষ্টিতে চট্টগ্রাম পেয়েছিল অমর উপস্থিতি।

১৯২৬ সালের জুলাই মাসে প্রথম চট্টগ্রামে এসেছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র সংসদের নেতা কবির বন্ধু হাবিবুল্লাহ বাহারের দাওয়াত এবং কলেজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। আন্দরকিল্লায় শাহী জামে মসজিদে এক সভায়ও যোগ দেন কবি নজরুল। অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘কবি সম্রাট’ উপাধি দেওয়া হয়। পাঠ করা হয় একটি ঘোষণাপত্র- ‘এই সভা ঘোষণা করিতেছে যে, কবি নজরুল ইসলাম বাংলার মুসলমান সমাজের রত্নস্বরূপ’।

কলকাতা থেকে এসে কবি জেলা প্রশাসকের ডাকবাংলোতে ওঠেন। হাবিবুল্লাহ বাহার ও তাঁর বোন শামসুননাহার মাহমুদ কবিকে তাঁদের বাসায় নিয়ে যান। চট্টগ্রাম কলেজে কবির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ কামাল উদ্দিন। এরপর সীতাকুণ্ডে ও জেএম সেন স্কুলে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই সময় কবি আন্দরকিল্লা জামে মসজিদ, মুসলিম হল, সীতাকুণ্ড পাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন।

প্রথমবার চট্টগ্রাম এসে খুব খুশি হয়েছিলেন কবি নজরুল। বেগম শামসুননাহারের কাছে তিনি চিঠি লিখেছিলেন—

“ফুল যদি কোথাও ফুটে, আলো যদি কোথাও হাসে, সেখানে আমার গান গাওয়ার শোভা পায়, গান গাই। সেই আলো, সেই ফুল পেয়েছিলাম এবার চট্টলায়, তাই গেয়েছি গান। কবিকে খুশী করতে হলে দিতে হয় অমূল্য ফুলের সওগাত।”

১৯২৯ সালের জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয়বার চট্টগ্রামে এসেছিলেন কবি। ‘চট্টগ্রাম এডুকেশন সোসাইটি’ প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত সভাপতি হিসেবে কবি ভাষণ দেন। তাঁর ভাষণটি ছিল শিক্ষা ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অনগ্রসর মুসলিম সমাজকে উদ্দেশ্য করে। এছাড়া কাট্টলী চৌধুরী পরিবারে তাঁকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় মুসলিম লীগ নেতা মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ও মৌলভী তমিজুর রহমানের উদ্যোগে। কাট্টলীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কবিকে ‘তরুণ মুসলিম নেতা’ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।

বুলবুল সমিতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কবি নজরুলকে ‘বাংলার শেলি’ উপাধি দেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে কবি বলেছিলেন—

“কোনোদিন তোমাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারব এ ঔদ্ধত্য আমার নেই, সম্বলও নেই। আমি যাযাবর কবি-আমায় ঝুলি ভরে যে পাথেয় দিলে তোমরা, তাই যেন আমার ভাবী পথের সহায় হয়। বিনিময়ে আমি রেখে গেলাম তোমাদের সিন্ধুতে তোমাদের কর্ণফুলীতে আমার দুই বিন্দু অশ্রু। তোমাদের হাতের দানকে চোখের জলে ভিজিয়ে গেলাম।”

ওই সময় কবি পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত, ফতেয়াবাদের আলম পরিবারে, সন্দ্বীপে মোজাফফর আহমদের বাড়ি ও শহরের তামাকুমণ্ডি লেনের হাবিবুল্লাহ বাহারের বাসভবন আজিজ মঞ্জিলে বেড়াতে গেছেন। শহরের নন্দনকানন ডিসি হিলে বসে কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা—‘বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি’:

“বিদায়, হে মোর বাতায়ন-পাশে নিশীথ জাগার সাথী!

ওগো বন্ধুরা, পান্ডুর হয়ে এল বিদায়ের রাতি!

আজ হ’তে হ’ল বন্ধ আমার জানালার ঝিলিমিলি,

আজ হ’তে হ’ল বন্ধ মোদের আলাপন নিরিবিলি।”

কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ডিসি হিল স্মরণীয় করে রাখতে ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করে ‘চরণচিহ্ন’। ২০২৬ সালের ১১ মার্চ ডিসি হিলের পূর্বপ্রান্তে জাতীয় কবির স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ‘স্ক্রিপ্ট’-এর উদ্যোগে নির্মিত ‘বল বীর বল উন্নত মম শির’ শিরোনামে এমএস প্লাজমা কাচ দিয়ে কবির পোর্ট্রেট নির্মাণ করা হয়েছে।

১৯৩৩ সালে ৩য় বার চট্টগ্রাম আসেন কবি নজরুল ইসলাম। রাউজানে তরুণ কনফারেন্স ও শিক্ষা সম্মিলনীতে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন। এ সময় গরু-ছাগল জবাই করে মেজবান খাওয়ানো হয়। টিকিট কেটে কবিকে দর্শন করেছিলেন উৎসুক জনতা।

রাউজান জলিলনগর বাসস্ট্যান্ড হতে আধা কিলোমিটার দক্ষিণ দিকে হাজী বাড়ি। এই হাজী বাড়িতে ১৯৩৩ সালের ৫ ও ৬ মে এই দুই দিন সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের জন্য হাজী বাড়ির উত্তর পাশে ধানি জমির মাঠে রায়মুকুট দীঘির পূর্বপাড়ে বিশাল প্যান্ডেল করা হয় বাঁশের খুঁটি ও ছনের ছাউনি দিয়ে। প্যান্ডেল তৈরিতে সময় লেগেছিল এক মাস। রাউজানবাসী কবি নজরুলকে ‘কাজী দা’ নামে ডাকতেন। ৫ মে সকালে নৌকায় করে হালদা নদী পার হয়ে রাউজানে এলে ঘোড়ার গাড়িতে চড়িয়ে কবিকে হাজী বাড়ি নিয়ে আসা হয়। কবি সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন হারমোনিউম ও বাঁশি। পরনে ছিল সাদা পাঞ্জাবি, ধুতি, সাদা গান্ধী টুপি ও জুতা।

প্রথম দিন আলোচনা শেষে বিকেল ৪টার পর কবি তাঁর কবিতা আবৃত্তি করেন। এরপর গেয়েছেন ইসলামিক গান। দ্বিতীয় দিন প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার পর কবি হারমোনিউম বাজিয়ে গেয়েছিলেন—

“বাজল কিরে ভোরের সানাই/নিদমহলের আঁধার পুরে।

শুনছি আজান গগনতলে/অতীত রাতের মিনার চূড়ে।”

৭ মে গহিরাবাসী গহিরা স্কুলে তাঁকে তাৎক্ষণিক সংবর্ধনা দেয়। সেখানে ‘কাণ্ডারী হুঁশিয়ার’সহ বেশ কয়েকটি গান গেয়ে শোনান কবি। সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হাজী বাড়ির সামনে স্থাপিত হয়েছে নজরুল স্মৃতিফলক।

১৯৭৩ সালে ৪র্থ বারের মতো ৭৫ বছর বয়সে এক দিনের জন্য কবি এসেছিলেন চট্টগ্রামে। তখন তিনি ছিলেন অসুস্থ, হারিয়েছেন বাক ও স্মৃতিশক্তি। পরদিন তাঁকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

কবি নজরুলের ‘সিন্ধু’, ‘বাংলার আজিজ’, ‘কর্ণফুলী’ কাব্যে এবং ‘সিন্ধু হিন্দোল’ কাব্যগ্রন্থের উৎসর্গপত্রে চট্টগ্রাম সফরের কথা উল্লেখ রয়েছে। চট্টগ্রামে এসে কবি রচনা করেন তাঁর বিখ্যাত কবিতা ‘সম্মানের গান’। সন্দ্বীপ নিয়ে লিখেছিলেন গীতিনাট্য ‘মধুমালা’। এছাড়া লিখেছেন—চক্রবাক, শীতের সিন্ধু, শিশু যাদুকর, সাত ভাই চম্পার বেশ কিছু কবিতা, ‘আমার সাম্পান যাত্রী লয়’, ‘ওরে মাঝি ভাই তুই কি দুঃখ পেয়ে কুল হারালি অকুল দরিয়ায়’, ‘তোমায় কুলে তুলে বন্ধু আমি নামলাম জলে’, ‘পর জনমে দেখা হবে প্রিয়া’ ইত্যাদি কবিতা ও গান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শান্তা গুহ বলেন, “এই চট্টগ্রাম কবির স্মৃতিধন্য। চট্টগ্রামে নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র হবে বলে শুনেছি। এটা হলে চট্টগ্রামের মানুষের জন্য আনন্দের বিষয় হবে। এতে নতুন প্রজন্ম কবি নজরুল সম্পর্কে জানতে পারবে।”